ভূগোল এবং পরিবেশ • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৪
ভূগোল এবং পরিবেশ প্রশ্ন
'P'-গ্রামের অধিবাসী সামাদ একজন। কৃষক। অধিক ফসল উৎপাদনের জন্য তিনি জমিতে সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করেন। অপরদিকে একই গ্রামের অধিবাসী আবিদকে তাঁর প্রবাসী ভাইয়ের খোঁজ-খবর জানার জন্য পূর্বে অনেকদিন অপেক্ষা করতে হতো। কিন্তু বর্তমানে তা অতি অল্প সময়ের মধ্যেই সম্ভব হচ্ছে।
- ক)(1)
উন্নয়ন কাকে বলে?
- খ)(2)
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা প্রয়োজন কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে আবিদের ঘটনাটি উন্নয়নের কোন ক্ষেত্রকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত সামাদের কর্মকান্ড পরিবেশের উপর কী ধরনের প্রভাব ফেলেছে? যুক্তিসহ মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
মানুষের প্রয়োজন মেটানোর জন্য তার চাহিদা অনুযায়ী কোনো কিছুর উপযোগিতা বৃদ্ধি করাকে উন্নয়ন বলে।
- খ)
প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রতিটি উপাদান একটি অপরটির ওপর নির্ভরশীল। উদ্ভিদ, অণুজীব, প্রাণী ও মানুষ প্রত্যেকেই পরিবেশের একটি সহনশীল অবস্থায় বসবাস করে। এ অবস্থার পরিবর্তন হলে এই নির্ভরশীলতা ব্যাহত হয় এবং জীবজগতের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ে। তাই টেকসই উন্নয়নের জন্য উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে করা প্রয়োজন।
- গ)
উদ্দীপকে আবিদের ঘটনাটি যোগাযোগের ক্ষেত্রে উন্নয়নকে নির্দেশ করে।
ব্যাখ্যা: কৃষি ও শিল্পের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করে যোগাযোগ। বর্তমানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। ইন্টারনেট, মোবাইল ফোন, টিভি ও রেডিওর বিকাশ দ্রুত প্রসার লাভ করেছে। এছাড়া মহাসড়ক, সেতু ও ফেরিঘাট নির্মাণের মাধ্যমেও যোগাযোগের উন্নয়ন হচ্ছে।
উদ্দীপকে আবিদকে প্রবাসী ভাইয়ের খোঁজ-খবর জানার জন্য আগে অনেকদিন অপেক্ষা করতে হতো। এখন মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেটের মতো প্রযুক্তির কারণে অল্প সময়েই তা সম্ভব হচ্ছে। এটি যোগাযোগ ক্ষেত্রের উন্নয়নের ফল।
- ঘ)
উদ্দীপকে সামাদ কৃষিক্ষেত্রে উন্নয়নের জন্য জমিতে সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করেন। এতে ফসলের উৎপাদন বাড়লেও পরিবেশের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
১. ভূমি দূষণ: অধিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারে মাটি দূষিত হয় এবং মাটির জৈব উপাদান কমে গিয়ে উর্বরতা হ্রাস পায়।
২. জীবজগতের ক্ষতি: মাটিতে বসবাসকারী অণুজীব ও ক্ষুদ্র জীব ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বন্য ক্ষুদ্র প্রাণীদের আবাসস্থল নষ্ট হয়।
৩. পানি দূষণ: বৃষ্টি বা সেচের পানির সাথে কীটনাশক ও সারের রাসায়নিক পদার্থ জলাশয়ে মিশে পানি দূষিত করে। এতে জলজ প্রাণীর আবাসস্থল নষ্ট হয়।তবে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য কৃষির উন্নয়নও জরুরি। তাই জৈব সার ব্যবহার, পরিমিত ও সঠিক নিয়মে কীটনাশক প্রয়োগের মতো পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি অনুসরণ করা উচিত।
সুতরাং, সামাদের কর্মকাণ্ড উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক হলেও মাটি ও পানি দূষণের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছে। তাই পরিবেশ সংরক্ষণ করেই উন্নয়ন করা প্রয়োজন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও