হিন্দু ধর্ম • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৪

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

  1. ক)

    পূজা কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    মেয়েকে মাতৃজ্ঞানে ভাবনার মধ্য দিয়ে যে পূজা করা হয় তা ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    চিত্র-১ এ উপবিষ্ট ব্যক্তিটির গুণাবলি ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    চিত্র-২ এর তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    ঈশ্বরের প্রতীক বা দেব-দেবীকে সন্তুষ্ট করার জন্য ভক্তিসহকারে ফুল, দূর্বা, তুলসী পাতা, বিল্বপত্র, চন্দন, ধূপ, দীপ প্রভৃতি উপকরণ দিয়ে যে অনুষ্ঠান করা হয়, তাকে পূজা বলে।

  2. খ)

    মেয়েকে মাতৃজ্ঞানে ভাবনার মধ্য দিয়ে যে পূজা করা হয়, তা কুমারী পূজা। দুর্গাপূজার অষ্টমী তিথিতে এই পূজা করা হয়। নারীকে মাতৃরূপে, ঈশ্বরীরূপে ভাবনা করা হিন্দুসাধনা ও পূজার একটি বড় দিক। কুমারীর মধ্য দিয়ে আসলে দেবী দুর্গারই পূজা করা হয়। আমাদের দেশে প্রধানত রামকৃষ্ণ মঠে এই পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এই পূজায় নারীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হয় এবং শ্রদ্ধাবোধ সৃষ্টি হয়।

  3. গ)

    চিত্র-১-এ উপবিষ্ট ব্যক্তিটি একজন পুরোহিত। তিনি পূজার উপকরণ, প্রদীপ ও নৈবেদ্য সামনে নিয়ে পূজা-অর্চনার জন্য বসে আছেন।

    পুরোহিত শব্দটি 'পুরস্' (সম্মুখে) ও 'হিত' (অবস্থান) শব্দ থেকে এসেছে। যিনি পূজা-অর্চনার অনুষ্ঠান পরিচালনায় প্রধান ভূমিকা পালন করেন এবং পূজার সময় সকলের অগ্রভাগে থাকেন, তিনিই পুরোহিত। তিনি পারিবারিক ও সামাজিক পূজার পরিচালক এবং একজন সম্মানিত ব্যক্তি, তাই তাঁকে কিছু গুণের অধিকারী হতে হয়। পাঠ্যবইয়ে বর্ণিত এসব গুণ হলো:

    ১. সংস্কৃত ভাষা লেখা ও পড়ার জ্ঞান এবং শুদ্ধভাবে মন্ত্র উচ্চারণের দক্ষতা।
    ২. হিন্দুধর্ম, ধর্মশাস্ত্র ও শাস্ত্রীয় রীতিনীতি সম্পর্কে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক জ্ঞান।
    ৩. নিত্যকর্ম, পূজাবিধি ও বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা।
    ৪. পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং আচরণে ধৈর্যশীল, সৎ ও ন্যায়পরায়ণ হওয়া।
    ৫. ধর্মানুরাগী, প্রগতিশীল ও জনসাধারণের প্রতি মমত্ববোধসম্পন্ন হওয়া এবং আদর্শ ব্যক্তিত্ব।

    চিত্রে পরিপাটি বেশে, শান্ত ও সংযত ভঙ্গিতে বসা ব্যক্তিটির মধ্যে এই শুদ্ধতা ও নিষ্ঠার ছাপ লক্ষ করা যায়। অতএব, চিত্র-১-এর পুরোহিত শাস্ত্রজ্ঞান, নিষ্ঠা ও নৈতিক চরিত্রের গুণে গুণান্বিত।

  4. ঘ)

    চিত্র-২-এ কয়েকজন নারীকে দেবী দুর্গার প্রতিমার সামনে একে অপরের কপালে সিঁদুর পরাতে দেখা যাচ্ছে। এটি বিজয়া দশমীর আচার, যা হিন্দুসমাজে গভীর তাৎপর্য বহন করে।

    দুর্গাপূজার পঞ্চম দিন দশমী। এদিনে দেবী দুর্গার প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয় বলে একে বিজয়া দশমী বলে। দেবী দুর্গা যেন ঘরের মেয়ে, যিনি চারদিন বাবার বাড়িতে থেকে সন্তানদের নিয়ে কৈলাসে ফিরে যান। এ দিনের প্রধান আচারগুলোর মধ্যে আছে দেবীকে সিঁদুর পরানো, মিষ্টিমুখ করানো, বিদায় জানানো এবং সধবা নারীদের একে অপরের কপালে সিঁদুর পরিয়ে দীর্ঘায়ু কামনা করা। চিত্র-২ এই আচারটিকেই তুলে ধরেছে। এর তাৎপর্য নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. ন্যায়ের বিজয়: এ তিথিতে মহিষাসুর বধের মধ্য দিয়ে অন্যায়ের উপর ন্যায় প্রতিষ্ঠার বিজয় উৎসব পালিত হয়। বিজয়া দশমী তাই অশুভ শক্তি প্রতিহত করে শুভ শক্তির জয়ের প্রতীক।
    ২. ঐক্য ও সম্প্রীতি: দেবী দুর্গা দেবতাদের সম্মিলিত শক্তির প্রকাশ। তাই এই উৎসব ঐক্যের প্রতীক। চিত্রে নারীরা পরস্পরের প্রতি যে আন্তরিকতা দেখাচ্ছেন, তা পারস্পরিক ভালোবাসা, আলিঙ্গন ও মিষ্টিমুখের মাধ্যমে সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করে। এতে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সম্প্রীতি বাড়ে।
    ৩. শুভকামনা ও দীর্ঘায়ু প্রার্থনা: সিঁদুর পরানোর মাধ্যমে নারীরা পরস্পরের স্বামী-সংসারের কল্যাণ ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন। এতে পারিবারিক বন্ধন ও মঙ্গলবোধ জাগ্রত হয়।
    ৪. সামাজিক ও নৈতিক প্রভাব: শুভেচ্ছা বিনিময়, আত্মীয়স্বজন ও দরিদ্রদের উপহার প্রদান, বিসর্জনের শোভাযাত্রা এবং মেলা সমাজে আনন্দ ও মানবিক সম্পর্ক বাড়ায়। এটি পারিবারিক ও সামাজিক জীবন থেকে অশুভ শক্তি দূর করতে উদ্বুদ্ধ করে।

    সুতরাং, চিত্র-২-এর বিজয়া দশমীর সিঁদুর পরানোর আচার ন্যায়ের জয়, ঐক্য, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শুভকামনার প্রতীক। ধর্মীয় তাৎপর্যের পাশাপাশি সামাজিক মিলন ও নৈতিক উন্নয়নে এর গুরুত্ব অনেক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন