ব্যবসায় উদ্যোগ • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৪
ব্যবসায় উদ্যোগ প্রশ্ন
হালিমা বেগম সরকারি একটি সংস্থা থেকে ঋণ ও পরামর্শ নিয়ে তার বাড়িতে একটি ছোট ধরনের শিল্প স্থাপন করে। এলাকার আশপাশের অনেক গৃহিণী কাজের ফাঁকে হালিমা বেগমের কারখানায় কাজ করে। কারখানায় উৎপাদিত বিভিন্ন সামগ্রীর বেশ কদর আছে।
- ক)(1)
ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সংস্থা কোন মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজ করছে?
- খ)(2)
উদ্যোগ উন্নয়নে সংরক্ষণমূলক সহায়তা ধারণাটি ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
হালিমা বেগম কোন সংস্থা থেকে পরামর্শ নিয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
বর্তমান পরিস্থিতিতে হালিমা বেগমের শিল্প দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কীরূপ প্রভাব ফেলবে তা ব্যাখ্যা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সংস্থা (বিসিক) শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজ করছে।
- খ)
জাতীয় শিল্পনীতিতে উল্লিখিত সহায়তার একটি ধরন হলো রক্ষণমূলক (সংরক্ষণমূলক) সহায়তা। এতে ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটির শিল্প এবং নারী উদ্যোক্তাদের অগ্রাধিকার দিয়ে তাদের রক্ষা ও বিকাশে সহায়তা করা হয়। যেমন তাঁত, কামার, কুমার, মৃৎশিল্প, বাঁশ ও বেতের শিল্পে বিশেষ প্রণোদনা দেওয়া। নারী শিল্পোদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে সেবা, মৎস্য, কৃষি ও হস্তশিল্প খাতে অগ্রাধিকার দেওয়াও এর অংশ।
- গ)
হালিমা বেগম সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সংস্থা (বিসিক) থেকে পরামর্শ নিয়েছেন।
বিসিক শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের সম্প্রসারণে নিয়োজিত সরকারি খাতের প্রধান সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠান। এর প্রধান কাজ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের উন্নয়নে বিনিয়োগে পরামর্শ দেওয়া। এছাড়া এটি শিল্প-সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ, প্রকল্প নির্বাচন ও মূল্যায়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, কাঁচামাল সরবরাহে সাহায্য, পণ্যের বিপণনে সহায়তা এবং ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের রেজিস্ট্রেশনের কাজ করে। হালিমা বেগম ছোট ধরনের শিল্প স্থাপনের জন্য এ সংস্থার সহায়তা নিয়েছেন।
- ঘ)
হালিমা বেগমের ক্ষুদ্র শিল্প দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
অর্থনৈতিক প্রভাব:
১. কর্মসংস্থান: এলাকার আশপাশের অনেক গৃহিণী তার কারখানায় কাজ করছে। ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প শ্রমঘন হওয়ায় কর্মসংস্থান বাড়ে ও বেকারত্ব কমে।
২. আয় বৃদ্ধি: উৎপাদিত পণ্যের কদর আছে, তাই উৎপাদন ও বিক্রয় বাড়ে। এতে জাতীয় আয় ও প্রবৃদ্ধি বাড়ে।সামাজিক প্রভাব:
১. নারীর ক্ষমতায়ন: নারীরা আয় করতে পারায় স্বাবলম্বী হয় এবং পরিবারে ও সমাজে তাদের মর্যাদা বাড়ে।
২. অন্যদের অনুপ্রেরণা: তার সাফল্য অন্য নারীদেরও উদ্যোক্তা হতে উৎসাহ দেয়।
৩. দারিদ্র্য হ্রাস: পরিবারের আয় বাড়ায় জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়।সুতরাং, হালিমা বেগমের শিল্প দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও