বিজ্ঞান • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৫

বিজ্ঞান প্রশ্ন

জিন প্রকৌশলী এনামুল কাঙ্ক্ষিত জিন অন্য উদ্ভিদে সংযোজন করে ফসলি উদ্ভিদের গুণগত মান উন্নয়নের কাজ করে থাকেন। নিঃসন্তান এনামুল দম্পতি এক পথশিশুকে বাসায় নিয়ে নিজের মেয়ের মতো করে পরম যত্নে লালন পালন করেন। একদিন হঠাৎ দুই মহিলা তার বাসায় আসে এবং ঐ শিশুটিকে নিজের সন্তান হিসেবে দাবি করে। এতে এনামুল দম্পতি কাকে মা হিসেবে স্বীকৃতি। দিবেন এ নিয়ে সমস্যায় পড়েন।

  1. ক)

    সেন্ট্রোমিয়ার কাকে বলে ?

    (1)
  2. খ)

    সিকিল সেল রোগটি ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    ফসলি উদ্ভিদের গুণগত মান উন্নয়নে এনামুলের উল্লিখিত পদ্ধতিটি ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    এনামুল দম্পতির শিশুটিকে নিয়ে উল্লিখিত সমস্যা নিরসনে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিটি কী? বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    ক্রোমোজোমের যে সংকীর্ণ স্থানে দুটি ক্রোমাটিড যুক্ত থাকে এবং কোষ বিভাজনের সময় স্পিন্ডল তন্তু সংযুক্ত হয়, তাকে সেন্ট্রোমিয়ার বলে।

  2. খ)

    সিকল সেল রোগ একটি বংশগত রক্তের রোগ। এ রোগে হিমোগ্লোবিনের গঠন পরিবর্তিত হয়ে যায়; একটি অ্যামাইনো এসিড (গ্লুটামিক এসিড) ভ্যালিন দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়।

    ফলে লোহিত রক্তকণিকা গোলাকার না হয়ে কাস্তের মতো বাঁকা আকৃতি ধারণ করে। এই কণিকা অক্সিজেন কম বহন করে এবং ক্ষুদ্র রক্তনালিতে আটকে যায়। এতে রক্তস্বল্পতা, ব্যথা ও অঙ্গের ক্ষতি দেখা দেয়।

  3. গ)

    এনামুল জিন প্রকৌশল বা জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং পদ্ধতিতে ফসলের গুণগত মান উন্নয়ন করেন। এর ধাপগুলো নিম্নরূপ:

    ১. কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্যের জন্য দায়ী জিন শনাক্ত করে উৎস জীব থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়।
    ২. রেস্ট্রিকশন এনজাইম দিয়ে জিনকে কাটা হয় এবং বাহক (যেমন প্লাজমিড) কেটে খোলা হয়।
    ৩. লাইগেজ এনজাইম দিয়ে জিনটিকে বাহকের সঙ্গে জোড়া লাগিয়ে রিকম্বিন্যান্ট ডিএনএ তৈরি করা হয়।
    ৪. এই ডিএনএ কাঙ্ক্ষিত উদ্ভিদের কোষে প্রবেশ করানো হয় এবং কোষ থেকে নতুন উদ্ভিদ জন্মানো হয়।
    এভাবে উদ্ভিদটি নতুন গুণসম্পন্ন হয়, যেমন পোকামাকড় প্রতিরোধী বা বেশি পুষ্টিসমৃদ্ধ।

  4. ঘ)

    শিশুটির প্রকৃত মা কে, তা নির্ণয়ে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি হলো ডিএনএ ফিঙ্গারপ্রিন্টিং বা ডিএনএ প্রোফাইলিং।

    ১. সন্তান তার ডিএনএর অর্ধেক মায়ের কাছ থেকে এবং বাকি অর্ধেক বাবার কাছ থেকে পায়। তাই শিশু ও প্রকৃত মায়ের ডিএনএর নির্দিষ্ট অংশের মিল থাকে।
    ২. শিশু এবং দাবিদার দুই নারীর কাছ থেকে রক্ত বা মুখের লালার নমুনা সংগ্রহ করে ডিএনএ আলাদা করা হয়।
    ৩. রেস্ট্রিকশন এনজাইম দিয়ে ডিএনএকে খণ্ড করে জেল ইলেকট্রোফোরেসিসের মাধ্যমে ব্যান্ডের নকশা তৈরি করা হয়।
    ৪. যে নারীর ব্যান্ডের নকশা শিশুর ব্যান্ডের নকশার সঙ্গে অর্ধেক মিলে যাবে, তিনিই শিশুটির প্রকৃত মা।

    সুতরাং, ডিএনএ ফিঙ্গারপ্রিন্টিংয়ের মাধ্যমে এনামুল দম্পতির সমস্যার বৈজ্ঞানিক সমাধান সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন