বাংলা ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৬
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
অংশ-১ : দেহের খাদ্য ভাত ও রুটি
মনের খাদ্য কই?
খুঁজতে গিয়ে পাই যে আমি
নানান রকম বই।
অংশ-২ : যে কবিতা শুনতে জানে না
সে ঝড়ের আর্তনাদ শুনবে।
যে কবিতা শুনতে জানে না
সে দিগন্তের অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে।
যে কবিতা শুনতে জানে না
সে আজন্ম ক্রীতদাস থেকে যাবে।
- ক)(1)
'বইপড়া' প্রবন্ধ অনুসারে কাকে আমরা নিষ্কর্ম্মার দলে ফেলে দেই?
- খ)(2)
সাহিত্য চর্চাকে শিক্ষার প্রধান অঙ্গ বলা হয়েছে কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের অংশ-১ এ 'বইপড়া' প্রবন্ধের কোন বিশেষ দিক প্রতিফলিত হয়েছে বর্ণনা দাও।
- ঘ)(4)
সাহিত্য বিমুখদের প্রতি লেখকের বক্তব্য কি অংশ-২ এ প্রতিফলিত হয়েছে? তোমার মতের সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
যাঁরা সাহিত্যচর্চা করেন বা বই পড়ে সময় কাটান, তাঁদেরই আমরা নিষ্কর্মার দলে ফেলে দেই।
- খ)
প্রমথ চৌধুরীর মতে সাহিত্যচর্চা মনের চর্চা, আর শিক্ষার আসল উদ্দেশ্য মনের বিকাশ।
সাহিত্য মানুষকে আনন্দ দেয়, কল্পনাশক্তি ও অনুভূতির গভীরতা বাড়ায় এবং জীবনকে নতুন দৃষ্টিতে দেখতে শেখায়। শুধু পাঠ্যবই মুখস্থ করে মন প্রসারিত হয় না। তাই সাহিত্যচর্চাকে শিক্ষার প্রধান অঙ্গ বলা হয়েছে।
- গ)
উদ্দীপকের অংশ-১-এ 'বইপড়া' প্রবন্ধের বইকে মনের খাদ্য হিসেবে দেখার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
দেহের জন্য যেমন ভাত-রুটি দরকার, মনের জন্য তেমনি বই। উদ্দীপকে কবি বলেছেন, দেহের খাদ্য ভাত-রুটি, আর মনের খাদ্য খুঁজতে গিয়ে তিনি নানা রকম বই পেয়েছেন। প্রবন্ধেও লেখক বই পড়াকে মনের খোরাক ও বিকাশের উপায় হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এখানেই দুটির মিল।
- ঘ)
হ্যাঁ, সাহিত্য-বিমুখদের প্রতি লেখকের বক্তব্য উদ্দীপকের অংশ-২-এ প্রতিফলিত হয়েছে।
১. বঞ্চনা: প্রবন্ধে লেখক বলেছেন, যারা সাহিত্য থেকে দূরে থাকে, তারা মনের আনন্দ ও বিকাশ থেকে বঞ্চিত হয়। অংশ-২-এ কবিতা শুনতে না জানা ব্যক্তি 'দিগন্তের অধিকার' থেকে বঞ্চিত হয় বলা হয়েছে।
২. মানসিক অধীনতা: যে কবিতা বা সাহিত্য বোঝে না, সে 'আজন্ম ক্রীতদাস' থেকে যায়। অর্থাৎ সাহিত্যচর্চা না থাকলে মন মুক্ত হয় না। প্রবন্ধেও সাহিত্য মনকে প্রসারিত ও মুক্ত করে।
৩. চেতনার অভাব: 'ঝড়ের আর্তনাদ' শুনবে বলার মধ্যে সংবেদনশীলতার অভাবের ইঙ্গিত আছে। সাহিত্য আমাদের অনুভূতিকে জাগায়।সুতরাং, অংশ-২-এ সাহিত্য-বিমুখদের সম্পর্কে লেখকের বক্তব্যই প্রতিফলিত হয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও