কৃষিশিক্ষা • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৩
কৃষিশিক্ষা প্রশ্ন
তাসফি মিয়া প্রতিবেশী সুবল ধরের মাছ চাষ দেখে উৎসাহিত হয়ে তাঁর বাড়ির দক্ষিণ পার্শ্বের ৪০ শতকের পুকুর মাছ ও হাঁস সমন্বিত চাষের জন্য প্রস্তুত করেন। পুকুর প্রস্তুতির পর তিনি হ্যাচারী থেকে ৮-১২ সে.মি. আকারের পোনা সংগ্রহ করে তিনি পুকুরে ছাড়েন। কিন্তু সে লক্ষ করলো কিছু পোনা মরে ভেসে উঠছে। এ অবস্থায় তিনি দক্ষ মৎস্যচাষী সুবল ধরের কাছে এ বিষয়ে পরামর্শ চাইলে, সুবল ধর তাকে কার্প জাতীয় মাছের পোনা পরিবহন ও পুকুরে পোনা ছাড়ার পদ্ধতি সম্পর্কে পরামর্শ দেয়।
- ক)(1)
কোন ফুলকে ফুলের রানি বলা হয়?
- খ)(2)
কলা চাষে কোন ধরনের তেউড় নির্বাচন করা উত্তম? তা ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
তাসফি মিয়ার পুকুরের জন্য প্রয়োজনীয় পোনা সংখ্যা নির্ণয় করো।
- ঘ)(4)
সুবল ধরের পরামর্শটি মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
গোলাপকে ফুলের রানি বলা হয়।
- খ)
কলা চাষে তলোয়ার তেউড় নির্বাচন করা উত্তম। এটি মাতৃগাছের গোড়া থেকে গজানো সুস্থ, সবল ও সরু পাতাযুক্ত তেউড়, যার আকৃতি তলোয়ারের মতো। এই তেউড় রোগমুক্ত ও তেজি হয় এবং দ্রুত বাড়ে। ফলে এ থেকে ভালো ফলন পাওয়া যায়।
- গ)
পুকুরের আয়তন = ৪০ শতক।
মাছ চাষে ৮-১২ সেমি আকারের পোনা প্রতি শতকে গড়ে ১০০টি ছাড়া হয়।
প্রয়োজনীয় পোনা = টি।
সুতরাং, তাসফি মিয়ার পুকুরে ৪০০০টি পোনা প্রয়োজন।
- ঘ)
সুবল ধরের কার্প মাছের পোনা পরিবহন ও ছাড়ার পরামর্শটি সঠিক ও যথার্থ। কারণ পোনা মরে যাওয়ার প্রধান কারণ হলো ভুল পরিবহন ও ছাড়ার পদ্ধতি।
মূল্যায়ন:
১. পরিবহনের সময়: সকাল বা সন্ধ্যার ঠান্ডা সময়ে পোনা পরিবহন করলে তাপের ধকল কম লাগে।
২. অক্সিজেন সরবরাহ: পরিবহনের পাত্রে পর্যাপ্ত পানি ও অক্সিজেনের ব্যবস্থা রাখলে পোনা মরে না। পানি ঘন ঘন পরিবর্তন করা যায়।
৩. খাপ খাওয়ানো: পুকুরে ছাড়ার আগে পোনার পাত্র কিছুক্ষণ পুকুরের পানিতে ভাসিয়ে রেখে ধীরে ধীরে পুকুরের পানি মিশিয়ে তাপমাত্রার সাথে খাপ খাওয়াতে হয়। এতে হঠাৎ তাপের পরিবর্তনে পোনা মারা যায় না।
৪. সতর্কতা: ছাড়ার সময় পোনা ধীরে ও সাবধানে ছাড়তে হয়।সুতরাং, এই পরামর্শ অনুসরণ করলে পোনার মৃত্যুহার কমবে এবং তাসফি মিয়ার মাছ চাষ সফল হবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও