হিন্দু ধর্ম • Combined Board • সকল বোর্ড ২০১৬

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

কণা অল্প বয়সে তার পিতাকে হারায়। পরবর্তীতে তার বিবাহ হয় একজন ধনাঢ্য ব্যক্তির সাথে। অনেক বছর পর তাদের একটি সন্তান হয়। তার ছেলে রূপমের প্রথম অন্নপ্রাশন রূপমের দিদিমা মায়ারাণী নাতির মুখে ভাত দিয়ে অন্নপ্রাশনের অনুষ্ঠান শুরু করলেন। কারণ অন্নপ্রাশন হিন্দুধর্মে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার।

  1. ক)

    বিবাহ কত প্রকার?

    (1)
  2. খ)

    সমাবর্তন বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    মায়ারাণীর আলোকে কীভাবে তোমার পরিবারের অন্নপ্রাশন পালন করবে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    হিন্দুধর্মের সংস্কার হিসেবে অন্নপ্রাশনের তাৎপর্য বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    মনুসংহিতা অনুসারে বিবাহ আট প্রকার—ব্রাহ্ম, দৈব, আর্য, প্রাজাপত্য, আসুর, গান্ধর্ব, রাক্ষস ও পৈশাচ।

  2. খ)

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা গুরুগৃহে পাঠ শেষ করে নিজগৃহে ফিরে আসার সময় যে অনুষ্ঠান হয়, তাকে সমাবর্তন বলে। এটি হিন্দুধর্মের দশবিধ সংস্কারের একটি, যার ক্রম অষ্টম। এ অনুষ্ঠানে শিক্ষক বা গুরু শিক্ষার্থীকে অনেক মূল্যবান উপদেশ দিতেন। সমাবর্তনের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন শেষ হয়ে গৃহস্থ জীবনের দিকে যাত্রা শুরু হতো।

  3. গ)

    মায়ারাণীর অনুসরণে আমি আমার পরিবারে অন্নপ্রাশন পালন করব।

    অন্নপ্রাশনের ধারণা : হিন্দুধর্মের দশবিধ সংস্কারের মধ্যে ষষ্ঠ সংস্কার হলো অন্নপ্রাশন। শিশুর জন্মের পর পুত্রের ষষ্ঠ মাসে এবং কন্যার পঞ্চম, অষ্টম বা দশম মাসে পূজাদি মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রথম অন্নভোজনের নাম অন্নপ্রাশন।

    পালনের পদ্ধতি : উদ্দীপকে রূপমের দিদিমা মায়ারাণী নাতির মুখে ভাত দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু করেছেন। আমিও তাঁর মতো করে—

    ১. শিশুর বয়স ও লিঙ্গ অনুযায়ী শাস্ত্রসম্মত মাসে অনুষ্ঠানের দিন ঠিক করব। শিশু পুত্র হলে ষষ্ঠ মাসে এবং কন্যা হলে পঞ্চম, অষ্টম বা দশম মাসে এটি আয়োজন করব।

    ২. অনুষ্ঠানের শুরুতে পূজাদি মাঙ্গলিক কাজ সম্পন্ন করব।

    ৩. পরিবারের শ্রদ্ধেয় বড়দের, যেমন দিদিমা বা দাদুকে দিয়ে শিশুর মুখে প্রথম অন্ন তুলে দেওয়াব এবং সবাই মিলে শিশুর মঙ্গল কামনা করব।

    ৪. আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের আমন্ত্রণ জানিয়ে আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠানটি উদযাপন করব।

    এভাবে ধর্মীয় বিধান মেনে অন্নপ্রাশন পালন করলে সংস্কারটি যথাযথ মর্যাদা পায় এবং পরিবারে মাঙ্গলিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

  4. ঘ)

    অন্নপ্রাশন হিন্দুধর্মের দশবিধ সংস্কারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার। উদ্দীপকে বলা হয়েছে, এটি হিন্দুধর্মে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার—আমি এ বক্তব্যের সাথে একমত।

    সংস্কারের ধারণা : ঐতিহ্য অনুসরণ করে হিন্দুদের সমগ্র জীবনে যে মাঙ্গলিক অনুষ্ঠান করা হয়, তাকে সংস্কার বলে। মনুসংহিতা, যাজ্ঞবল্ক্যসংহিতা প্রভৃতি স্মৃতিশাস্ত্রের বিধান অনুসরণ করেই এসব অনুষ্ঠান হয়। অন্নপ্রাশনের তাৎপর্য নিচে বিশ্লেষণ করা হলো।

    ১. জীবনের নতুন ধাপের সূচনা : অন্নপ্রাশনের মাধ্যমে শিশু প্রথম অন্নভোজন করে। এটি শিশুর জীবনে নতুন পর্যায়ের শুরু, যা শাস্ত্রীয় বিধানে মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে স্বীকৃতি পায়। উদ্দীপকে রূপমের জীবনের এই প্রথম ধাপটি দিদিমা মায়ারাণীর হাতে সম্পন্ন হয়েছে।

    ২. মঙ্গল কামনা : পূজাদি মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শিশুর সুস্থতা, দীর্ঘায়ু ও কল্যাণ প্রার্থনা করা হয়। ধর্মীয় বিশ্বাসে এটি শিশুর জীবনকে কল্যাণময় করে গড়ে তোলার প্রয়াস।

    ৩. পারিবারিক বন্ধন : অনেক বছর পর সন্তান লাভ করা কণার পরিবারে এ অনুষ্ঠান আনন্দ ও মিলনের উপলক্ষ হয়ে উঠেছে। পরিবারের বড়রা, যেমন দিদিমা, এতে অংশ নেন; ফলে প্রজন্মের মধ্যে স্নেহ ও সম্পর্ক দৃঢ় হয়।

    ৪. সামাজিক সংযোগ ও ধর্মীয় ঐতিহ্য রক্ষা : আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা অনুষ্ঠানে যোগ দেয়, ফলে সামাজিক বন্ধন জোরদার হয়। একই সাথে শাস্ত্রনির্দেশিত সংস্কার পালনের মাধ্যমে ধর্মীয় ঐতিহ্য পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছায়।

    সুতরাং, অন্নপ্রাশন কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি শিশুর জীবনে মঙ্গল, পারিবারিক ঐক্য ও সামাজিক মিলনের এক তাৎপর্যপূর্ণ সংস্কার।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন