কৃষিশিক্ষা • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৪
কৃষিশিক্ষা প্রশ্ন
নিচের চিত্রটি লক্ষ করো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
- ক)(1)
জুম চাষ করলে কী সমস্যা হয়?
- খ)(2)
ভূমি ক্ষয়ের জন্য মানুষ কীভাবে দায়ী? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের চিত্রটি কোন বিষয়ের প্রতি আলোকপাত করে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের কার্যক্রমটি চলতে থাকলে ভবিষ্যতে কী অবস্থা হতে পারে? তোমার মতামত বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
জুম চাষে বন কেটে ও পুড়িয়ে পাহাড়ি ঢালে চাষ করা হয়, ফলে ভূমিক্ষয় হয় এবং মাটির উর্বরতা কমে যায়।
- খ)
মানুষের নানা কাজের কারণে ভূমিক্ষয় ত্বরান্বিত হয়। মানুষ বন-জঙ্গল কেটে ফেললে মাটি আর গাছের শিকড়ে আটকে থাকে না, তাই বৃষ্টিতে ধুয়ে যায়। পাহাড়ি ঢালে জুম চাষ, ঢালু জমিতে ঢালের দিকে লাঙল চালানো এবং অতিরিক্ত পশুচারণও মাটিকে ক্ষয়প্রবণ করে। এছাড়া অপরিকল্পিত রাস্তা ও ঘরবাড়ি নির্মাণেও ভূমিক্ষয় বাড়ে।
- গ)
চিত্রটি ঢালু জমি বা পাহাড়ি ঢালে চাষকৃত জমির ভূমিক্ষয়ের (Soil Erosion) প্রতি আলোকপাত করে।
চিত্রে ঢালু জমিতে সারি সারি নালার মতো দাগ দেখা যায়, যেখানে পানি গড়িয়ে মাটি ধুয়ে নিচের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। গাছপালা বা আচ্ছাদন না থাকলে বৃষ্টির পানি ও বাতাস মাটির উপরের উর্বর স্তর বয়ে নিয়ে যায়। এতে মাটির উর্বরতা কমে এবং জমি চাষের অযোগ্য হয়ে পড়ে। তাই চিত্রটি ভূমিক্ষয় ও তার প্রতিরোধের গুরুত্ব নির্দেশ করে।
- ঘ)
উদ্দীপকের কার্যক্রম, অর্থাৎ ঢালু জমিতে ভূমিক্ষয়ের অবস্থা চলতে থাকলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। আমার মতে সম্ভাব্য অবস্থা:
১. ফলন হ্রাস: মাটির উপরের উর্বর স্তর ক্ষয়ে গেলে ফসলের ফলন কমবে এবং জমি অনুর্বর হবে।
২. নদী ও জলাশয় ভরাট: ক্ষয়প্রাপ্ত মাটি নদী ও খালে জমে সেগুলো ভরাট করবে, ফলে বন্যা ও জলাবদ্ধতা বাড়বে।
৩. ভূমিধস ও পরিবেশ ক্ষতি: পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়বে এবং জীববৈচিত্র্য নষ্ট হবে।
৪. খাদ্য সংকট: কৃষি উৎপাদন কমে খাদ্য নিরাপত্তা হুমকিতে পড়বে।সুতরাং, সময়মতো বনায়ন ও সোপান চাষের মতো সংরক্ষণ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও