হিন্দু ধর্ম • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২০

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

রতন বাবু ছোটবেলা থেকেই লেখাপড়ায় অমনোযোগী ছিলেন। তিনি শুধু কৃষ্ণ ভাবনায় মগ্ন থাকতেন। কীভাবে কৃষ্ণকে পাওয়া যায় এটাই ছিল তার জীবনের মূল উদ্দেশ্য। আর সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে কৃষ্ণপ্রেম ভক্তি বিতরণ করেন। অপরদিকে রতন বাবুর ছোট ভাই বিরাজ উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেও নিজের ভবিষ্যতের কথা না ভেবে দেশ ও বিদেশে বিভিন্ন অঞ্চলে অসহায় মানুষের পাশে এসে দাঁড়ান এবং ধর্ম পথে আনার চেষ্টা করেন। এতে কিছু অসৎ ধর্ম ব্যবসায়ী তার প্রতি বিদ্বেষী হয়ে তাকে সুকৌশলে হত্যা করে।

  1. ক)

    পূর্ণাবতার কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    যতমত ততপথ'- এ উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের রতন বাবুর সাথে পাঠ্যবইয়ের কোন চরিত্রের মিল রয়েছে? বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    বিরাজ বাবুর জীবনাদর্শ পাঠ্যবইয়ের কোন চরিত্রের সাথে সম্পর্কিত তা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    ভগবান যখন পূর্ণরূপে অবতরণ করেন এবং তাঁর সমস্ত শক্তি ও গুণ প্রকাশিত হয়, তখন তাঁকে পূর্ণাবতার বলে। শ্রীকৃষ্ণ ভগবানের পূর্ণাবতার।

  2. খ)

    ‘যত মত তত পথ’ উক্তিটি শ্রীরামকৃষ্ণের। এর অর্থ হলো, ধর্মীয় মত ও পথ ভিন্ন হলেও সব মানুষের উদ্দেশ্য ও গন্তব্য এক—ঈশ্বরলাভ। শ্রীরামকৃষ্ণ হিন্দুধর্ম ছাড়াও ইসলাম ও খ্রিষ্টধর্মমতে সাধনা করে উপলব্ধি করেন যে, আন্তরিক হলে যেকোনো ধর্মের মধ্য দিয়েই ঈশ্বরকে পাওয়া যায়। তাই তিনি বলেন, সকল ধর্মই সত্য।

  3. গ)

    উদ্দীপকের রতন বাবুর সাথে পাঠ্যবইয়ের প্রভু নিত্যানন্দের মিল রয়েছে।

    ধারণা : প্রভু নিত্যানন্দের প্রকৃত নাম কুবের। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় তাঁর মন ছিল না, ধর্ম ও শ্রীকৃষ্ণের প্রতি অনুরাগ ছিল। কীভাবে শ্রীকৃষ্ণকে পাওয়া যায়, এ ভাবনায় তিনি সারাক্ষণ মগ্ন থাকতেন। গৃহত্যাগ করে তীর্থ ঘুরে বৃন্দাবনে যান এবং পরে নবদ্বীপে শ্রীগৌরাঙ্গের সাথে মিলিত হয়ে কৃষ্ণনাম ও প্রেমভক্তি প্রচার করেন। তিনি জাতিভেদ না মেনে সবাইকে প্রেমভক্তি বিলিয়েছেন।

    উদ্দীপকের সাথে প্রয়োগ : রতন বাবু ছোটবেলা থেকে লেখাপড়ায় অমনোযোগী এবং কৃষ্ণভাবনায় মগ্ন ছিলেন। কীভাবে কৃষ্ণকে পাওয়া যায়, এটিই তাঁর জীবনের মূল উদ্দেশ্য ছিল। তিনি সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে কৃষ্ণপ্রেম ও ভক্তি বিতরণ করেন। এসব নিত্যানন্দের জীবনের সাথে হুবহু মেলে।

    অতএব, রতন বাবু প্রভু নিত্যানন্দের চরিত্রের প্রতিচ্ছবি।

  4. ঘ)

    বিরাজ বাবুর জীবনাদর্শ পাঠ্যবইয়ের শ্রীবিজয়কৃষ্ণ গোস্বামীর চরিত্রের সাথে সম্পর্কিত।

    ধারণা : বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামী কলকাতার সংস্কৃত কলেজে এবং পরে মেডিকেল কলেজে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। ব্রাহ্মসমাজ থেকে ধর্ম প্রচারের ডাক এলে চিকিৎসক জীবনের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কথা না ভেবে তিনি ধর্মপ্রচারের দায়িত্ব নেন। ঢাকা, বরিশাল, যশোর, খুলনা ও ভারতের নানা অঞ্চলে তিনি ধর্ম প্রচার করেন।

    ১. উচ্চশিক্ষা ও ভবিষ্যৎ ত্যাগ : বিজয়কৃষ্ণ উচ্চশিক্ষিত হয়েও মেডিকেলের চূড়ান্ত পরীক্ষার আগে নিজের ভবিষ্যতের কথা না ভেবে ধর্মপ্রচারের পথ বেছে নেন। বিরাজ বাবুও উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে নিজের ভবিষ্যৎ ভাবেননি।
    ২. মানুষের পাশে দাঁড়ানো : বিজয়কৃষ্ণ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে মানুষকে ধর্মের পথে আনার চেষ্টা করেছেন। বিরাজ বাবুও দেশ-বিদেশের নানা অঞ্চলে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান ও ধর্মপথে আনার চেষ্টা করেন।
    ৩. সংস্কারমুক্ত ও মানবিক আদর্শ : বিজয়কৃষ্ণ জাতিভেদের চিহ্ন হিসেবে পৈতা ত্যাগ করেছিলেন এবং হিংসা, পরনিন্দা ত্যাগ, সত্য কথা ও সর্বজীবে দয়ার উপদেশ দিয়েছেন। এ আদর্শ বিরাজের মানবসেবার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।
    ৪. পরিণতি : পুরীতে তাঁর প্রভাব বাড়লে ঈর্ষান্বিত ধর্মব্যবসায়ীরা তাঁকে বিষ মিশ্রিত লাড্ডু খেতে দেয়, যাতে তিনি ১৮৯৯ সালে মারা যান। উদ্দীপকেও কিছু অসৎ ধর্মব্যবসায়ী বিদ্বেষী হয়ে বিরাজকে সুকৌশলে হত্যা করে। এ মিল স্পষ্ট।

    সুতরাং, বিরাজ বাবুর জীবনাদর্শ ও পরিণতি পাঠ্যবইয়ের শ্রীবিজয়কৃষ্ণ গোস্বামীর জীবনের সাথে সম্পর্কিত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন