সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬ (অনিয়মিত)
সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া রাফি তার বোন তমার সাথে একটি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন দেখতে গেলো। সেখানে সে পোড়ামাটির ফলক, মন্দির, শালবন ও মঠের ধ্বংসাবশেষ দেখে অভিভূত হয়। তমা রাফিকে বলে যে এর চেয়েও সুন্দর প্রাচীন স্থাপত্য নিদর্শন আছে। সে রাফিকে ভারতীয় উপমহাদেশের একটি সভ্যতার বর্ণনা দেয়। তার বর্ণনা মতে, সভ্যতাটির মানুষজন পরিকল্পিত নগর গড়ে তুলেছিল। যেখানে প্রশস্ত রাস্তা এবং আধুনিক পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা ছিল।
- ক)(1)
প্রত্নতত্ত্ব কাকে বলে?
- খ)(2)
প্রাচীন প্রস্তর যুগের অন্যতম আবিষ্কারটি ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
রাফির ঘুরতে যাওয়া স্থানটি কোন প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানটিকে নির্দেশ করছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
তমার বর্ণনাকৃত সভ্যতাটির সমাজতাত্ত্বিক গুরুত্ব মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মাটিতে পুঁতে থাকা বা অতীতের মানবসমাজের রেখে যাওয়া বস্তুগত ধ্বংসাবশেষ ও নিদর্শন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে খনন ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে অতীত সংস্কৃতি পুনর্গঠন করার বিজ্ঞানকে প্রত্নতত্ত্ব (Archaeology) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রাচীন প্রস্তর যুগের অন্যতম প্রধান ও যুগান্তকারী আবিষ্কার হলো 'আগুন'।
আগুন আবিষ্কারের ফলে আদিম মানবজীবনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসে। এর মাধ্যমে মানুষ প্রতিকূল ঠাণ্ডা আবহাওয়া থেকে নিজেদের রক্ষা করতে শেখে, হিংস্র পশুর আক্রমণ প্রতিহত করে এবং কাঁচা মাংসের পরিবর্তে খাবার পুড়িয়ে বা রান্না করে খাওয়া শুরু করে, যা মানব বিবর্তনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
রাফির ঘুরতে যাওয়া স্থানটি বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন 'ময়নামতি' (বা শালবন বিহার)-কে নির্দেশ করছে।
কুমিল্লার ময়নামতি লালমাই পাহাড়ের প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকায় অবস্থিত শালবন বৌদ্ধ বিহার অষ্টম শতাব্দীর একটি ঐতিহ্যবাহী নিদর্শন। এখানে খননকার্যের ফলে প্রাচীন বৌদ্ধ মঠ, মন্দির এবং অসংখ্য পোড়ামাটির ফলক (টেরাকোটা) আবিষ্কৃত হয়েছে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে রাফি পোড়ামাটির ফলক, মন্দির, শালবন ও মঠের ধ্বংসাবশেষ দেখে অভিভূত হয়। এই উপাদানগুলো কুমিল্লার শালবন বিহার ও ময়নামতির অনন্য বৈশিষ্ট্যকে সরাসরি প্রতিফলিত করে। সুতরাং, রাফির পরিদর্শিত স্থানটি ময়নামতি শালবন বিহার।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
তমার বর্ণনাকৃত সভ্যতাটি হলো সিন্ধু সভ্যতা, যার সমাজতাত্ত্বিক গুরুত্ব অত্যন্ত গভীর ও সুদূরপ্রসারী।
উদ্দীপকে তমা প্রশস্ত রাস্তা, পরিকল্পিত নগর এবং আধুনিক পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার যে বর্ণনা দিয়েছে, তা প্রাচীন ভারতীয় উপমহাদেশের মহেঞ্জোদারো ও হরপ্পা কেন্দ্রিক সিন্ধু সভ্যতার প্রধান বৈশিষ্ট্য।
সমাজতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে সিন্ধু সভ্যতার গুরুত্ব বহুমুখী:
১. নগর সমাজকাঠামো: সিন্ধু সভ্যতা গ্রামীণ জীবন থেকে একটি সুসংগঠিত, পরিকল্পিত নাগরিক সমাজে উত্তরণের উৎকৃষ্ট উদাহরণ।
২. উন্নত নগর পরিকল্পনা ও জনস্বাস্থ্য সচেতনতা: সুবিন্যস্ত চওড়া রাস্তাঘাট, গৃহনির্মাণ শৈলী এবং উন্নত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নির্দেশ করে যে সেখানে একটি শক্তিশালী সামাজিক শৃঙ্খলা ও স্বাস্থ্যবিধি কার্যকর ছিল।
৩. শ্রমবিভাজন ও পেশাগত বৈচিত্র্য: মৃৎশিল্পী, তাঁতি, বণিক ও স্থপতিদের মতো বৈচিত্র্যপূর্ণ পেশাজীবীদের উপস্থিতি উন্নত সামাজিক শ্রমবিভাজনের প্রমাণ দেয়।
৪. প্রশাসনিক ব্যবস্থা: নাগরিক সুযোগ-সুবিধা ও শৃঙ্খলার মান থেকে ধারণা করা হয় যে সেখানে সুসংহত কেন্দ্রীয় বা স্থানীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা বিদ্যমান ছিল।পরিশেষে বলা যায়, প্রাচীন যুগে আধুনিক মানের সমাজজীবন ও নাগরিক চেতনার বিকাশের ধারা বোঝার ক্ষেত্রে সিন্ধু সভ্যতার সমাজতাত্ত্বিক গুরুত্ব অপরিসীম।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও