যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৭

যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন

'ক' ও 'খ; দুই বন্ধু। দুজনেই কলেজে পড়াশুনা করে। 'ক' কখনোই মিথ্যা কথা বলে না। সে মনে করে জীবনে উন্নতি করতে হলে অবশ্যই মিথ্যাকে বর্জন করতে হবে। কীভাবে মিথ্যাকে বর্জন করতে হয় সে বিষয়েও 'ক' ভালভাবে জানে। তাই সে মিথ্যাকে বর্জন করে এবং সত্যকে অর্জন করা উন্নতির একমাত্র চাবিকাঠি মনে করে। অপরদিকে “খ” মিথ্যাকে বর্জন করা ও সত্যকে অর্জন করা উন্নতির একমাত্র চাবিকাঠি হিসেবে মেনে নিতে পারছে না। ‘খ’ মনে করে দ্রুত ও নির্ভুল গণনা এবং তথ্য সংগ্রহ ও বিভিন্ন প্রকৌশল সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন ছাড়া উন্নতি লাভ সম্ভব নয় । তাই সে বিভিন্ন প্রকৌশল সম্পর্কে ধারণা, নির্ভুল গণনা ও সঠিক তথ্যসংগ্রহকেই উন্নতির একমাত্র চাবিকাঠি মনে করে ।

  1. ক)

    নীতিবিদ্যা কাকে বলে ?

    (1)
  2. খ)

    যুক্তিবিদ্যকে আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান বলা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে ‘খ’ এর ঘটনাটি তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন বিষয়টিকে ইঙ্গিত করেছে? বিশ্লেষণ কর ।

    (3)
  4. ঘ)

    যুক্তিবিদ্যার আলোকে 'ক' ও 'খ' এর চিন্তাধারার মধ্যকার সম্পর্ক নিরূপণ কর ।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান সমাজে বসবাসকারী মানুষের আচরণের ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায় বা ঔচিত্য-অনৌচিত্য নিয়ে আলোচনা করে, তাকে নীতিবিদ্যা বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান কোনো বিষয় যেমন আছে তার হুবহু বর্ণনা দেয় না, বরং একটি নির্দিষ্ট আদর্শের মানদণ্ডে বিষয়ের মূল্যায়ন করে। যুক্তিবিদ্যার চরম আদর্শ হলো 'সত্য'। সত্যের এই পরম আদর্শকে সামনে রেখে যুক্তিবিদ্যা সঠিক চিন্তার নিয়ম নির্ধারণ করে এবং অবৈধ যুক্তিকে বর্জন করে বৈধ যুক্তি গঠনের নির্দেশনা দেয়। তাই যুক্তিবিদ্যাকে একটি আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে 'খ'-এর ঘটনাটি যুক্তিবিদ্যার সাথে 'কম্পিউটার বিজ্ঞান' (বা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি/গণিত)-এর সম্পর্ককে ইঙ্গিত করে।

    উদ্দীপকের 'খ' দ্রুত ও নির্ভুল গণনা, সঠিক তথ্য সংগ্রহ এবং প্রকৌশলগত জ্ঞানকে জীবনের মূল চালিকাশক্তি মনে করে। এটি আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও কম্পিউটার বিজ্ঞানের মৌলিক কাজের অনুরূপ। যুক্তিবিদ্যার সাংকেতিক বা গাণিতিক রূপ থেকেই আধুনিক কম্পিউটার বিজ্ঞানের উৎপত্তি হয়েছে। কম্পিউটার মূলত গাণিতিক যুক্তি (Boolean Logic) ও তথ্য প্রক্রিয়াকরণের ওপর ভিত্তি করে কাজ করে। যুক্তিবিদ্যার চিন্তার যৌক্তিক রূপ এবং কম্পিউটার বিজ্ঞানের দ্রুত নির্ভুল গণনা ও তথ্য প্রক্রিয়াকরণ একে অপরের পরিপূরক। সুতরাং, 'খ'-এর চিন্তা কম্পিউটার বিজ্ঞান ও যুক্তিবিদ্যার আন্তঃসম্পর্ককে তুলে ধরে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের 'ক' ও 'খ'-এর চিন্তাধারার মাধ্যমে যথাক্রমে যুক্তিবিদ্যার সাথে 'নীতিবিদ্যা' এবং 'কম্পিউটার বিজ্ঞান'-এর মধ্যকার সম্পর্ক প্রতিফলিত হয়েছে:

    ১. 'ক'-এর চিন্তাধারা ও নীতিবিদ্যা: 'ক' সত্যকে অর্জন ও মিথ্যাকে বর্জনের মাধ্যমে উন্নতি কামনা করে, যা নীতিবিদ্যার মূল উপজীব্য। যুক্তিবিদ্যা ও নীতিবিদ্যা উভয়েই আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান। যুক্তিবিদ্যার আদর্শ হলো 'সত্য' এবং নীতিবিদ্যার আদর্শ হলো 'মঙ্গল' বা 'ন্যায়'। চিন্তা ও কর্মকে সৎ ও কল্যাণকর হতে হলে উভয়ের সমন্বয় অপরিহার্য। মিথ্যা বর্জন যেমন নৈতিক দিক, তেমনি যুক্তিবিদ্যাও অনুপপত্তি বা অসত্য যুক্তি পরিহারের কথা বলে।

    ২. 'খ'-এর চিন্তাধারা ও কম্পিউটার বিজ্ঞান: 'খ' তথ্য সংগ্রহ, নির্ভুল গণনা ও প্রকৌশলকে গুরুত্ব দিয়েছে, যা কম্পিউটার বিজ্ঞানের সাথে সম্পর্কিত। কম্পিউটার বিজ্ঞানের যুক্তি কাঠামো এবং ডিজিটাল সার্কিট যুক্তিবিদ্যার যুক্তিবাক্য ও সাংকেতিক যুক্তিবিদ্যার নীতিতেই পরিচালিত হয়।

    সম্পর্কের পর্যালোচনা: 'ক' গুরুত্ব দিয়েছে মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধকে এবং 'খ' গুরুত্ব দিয়েছে প্রযুক্তিগত ও প্রায়োগিক দক্ষতাকে। আধুনিক যুগে মানুষের সার্বিক বিকাশের জন্য প্রযুক্তিগত নির্ভুলতা (খ-এর পথ) এবং নৈতিক সততা ও সত্যের চর্চা (ক-এর পথ)—উভয়টিরই সমন্বয় প্রয়োজন। যুক্তিবিদ্যা উভয় ক্ষেত্রের ভিত্তি হিসেবে যৌক্তিক ও সত্যনিষ্ঠ চিন্তার খোরাক জোগায়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন