বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৫
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন
আজাদ ও ফারুক দুই বন্ধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। আজাদের বাড়ি বগুড়ায় ও ফারুকের বাড়ি মুন্সিগঞ্জের বিক্রমপুরে। শীতের ছুটিতে বন্ধু ফারুককে নিয়ে আজাদ তার বাড়ি বগুড়ায় যায় এবং মহাস্থানগড়ের ঐতিহাসিক নিদর্শন ঘুরে দেখে। একই বছর গ্রীষ্মের ছুটিতে দুই বন্ধু বিক্রমপুরের প্রত্নস্থলে ঘুরতে যায়।
- ক)(1)
রাজা শশাঙ্কের রাজধানী কোথায় ছিল?
- খ)(2)
বাংলার সৈন্যরা নৌযুদ্ধে পারদর্শী হয়ে ওঠে কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদীপকে দুই বন্ধুর গ্রীষ্মের ছুটিতে বেড়াতে যাওয়ার স্থান ইতিহাসের কোন জনপদের অন্তর্ভুক্ত? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
শীতের ছুটিতে দুই বন্ধুর বেড়াতে যাওয়ার স্থানটি ছিল প্রাচীন বাংলার সবচেয়ে সুমৃদ্ধ জনপদ- বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
রাজা শশাঙ্কের রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ। বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলায় এর অবস্থান ছিল।
- খ)
প্রাচীন বাংলা ছিল নদীমাতৃক দেশ। অসংখ্য নদ-নদী ও খাল-বিলের কারণে নদীপথই ছিল যোগাযোগ ও মালামাল পরিবহনের প্রধান মাধ্যম। দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর থাকায় সমুদ্রপথেও বাণিজ্য চলত। এ ছাড়া নদ-নদী দেশটিকে বিদেশি শক্তির আক্রমণ থেকে প্রতিরক্ষাও দিয়েছিল। এসব কারণে নদী ও সাগরপথে নিরাপত্তা ও বাণিজ্য রক্ষার জন্য শক্তিশালী নৌবাহিনী গড়ে উঠেছিল।
- গ)
উদ্দীপকে দুই বন্ধু গ্রীষ্মের ছুটিতে বিক্রমপুরের প্রত্নস্থলে বেড়াতে যায়। প্রাচীন শিলালিপিতে বঙ্গের দুটি অঞ্চলের নাম পাওয়া যায়, বিক্রমপুর ও নাব্য। অতএব এ স্থান প্রাচীন বাংলার বঙ্গ জনপদের অন্তর্ভুক্ত।
বঙ্গ জনপদ। বঙ্গ একটি অতি প্রাচীন জনপদ। বর্তমান বাংলাদেশের পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব দিকে এটি গড়ে উঠেছিল। অনুমান করা হয়, এখানে বঙ্গ নামে একটি জাতি বাস করত, তাই জনপদের নাম হয় বঙ্গ। প্রাচীন শিলালিপিতে বঙ্গের দুটি অঞ্চলের নাম পাওয়া যায়, বিক্রমপুর ও নাব্য। ঢাকা, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, বাখেরগঞ্জ ও পটুয়াখালী এর অন্তর্ভুক্ত ছিল। এ জনপদের পাঁচজন রাজার নাম পাওয়া যায়: ধর্মাদিত্য, দ্বাদাশাদিত্য, সুধন্যাদিত্য, গোপচন্দ্র ও সমাচার দেব।
- ঘ)
শীতের ছুটিতে দুই বন্ধু বগুড়ার মহাস্থানগড়ে বেড়াতে গিয়েছিল। মহাস্থানগড় প্রাচীন পুণ্ড্র জনপদের রাজধানী। প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক থেকে পুণ্ড্রই ছিল প্রাচীন বাংলার সবচেয়ে সমৃদ্ধ নগরসভ্যতা।
১. বর্তমান বগুড়া, রংপুর, রাজশাহী ও দিনাজপুর এলাকা নিয়ে এ জনপদ গড়ে উঠেছিল। এর রাজধানী পুণ্ড্রনগর পরে মহাস্থানগড় নামে পরিচিত হয়।
২. মহাস্থানগড় প্রাচীন পুণ্ড্র নগরীর ধ্বংসাবশেষ বলে পণ্ডিতেরা মনে করেন। এখানকার নিদর্শনসমূহ উন্নত নগরজীবনের সাক্ষ্য দেয়।
৩. এখানে পাথরের চাকতিতে খোদাই করা মহাস্থান ব্রাহ্মীলিপি পাওয়া গেছে, যা বাংলাদেশে প্রাপ্ত প্রাচীনতম শিলালিপি বলে ধারণা করা হয়।সুতরাং, প্রত্ননিদর্শন ও নগরসভ্যতার বিচারে পুণ্ড্র প্রাচীন বাংলার সবচেয়ে সমৃদ্ধ জনপদ ছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও