হিন্দু ধর্ম • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৪
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
অঞ্জনা দেবী প্রতিদিন সকালে স্নান করে শুদ্ধ বস্ত্র পরিধান করে পূজা অর্চনা করেন। পূজা শেষে গীতা ও অন্যান্য ধর্মগ্রন্থ পাঠ করেন। অন্যদিকে, 'তার স্বামী পরিমল বাবু প্রতিদিন সকালে ধ্যানে বসে ঈশ্বরের আরাধনা করেন, যা মূলত অন্তরের ভক্তি, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা ইষ্ট দেবতার উদ্দেশ্যে প্রকাশ করা হয়।
- ক)(1)
সেবা কাকে বলে?
- খ)(2)
ভগবানের অবতরণের কারণ ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
অঞ্জনা দেবীর ঈশ্বর আরাধনার পদ্ধতিকে কী বলা হয়? ব্যাখ্যা করো
- ঘ)(4)
পরিমল বাবুর উপাসনা পদ্ধতিটি তোমার পাঠ্য শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
ঈশ্বরজ্ঞানে জীবের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা নিয়ে নিঃস্বার্থভাবে তার কল্যাণে যে কাজ করা হয়, তাকে সেবা বলে।
- খ)
পৃথিবীতে যখন অত্যাচারী দুষ্ট লোকের উত্থান ঘটে, তখন শিষ্টদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে এবং জগতে শোক, দুঃখ ও অশান্তি সৃষ্টি হয়। এমন সময় জগতের কল্যাণের জন্য ভগবান বিষ্ণু অবতাররূপে পৃথিবীতে অবতরণ করেন।
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় (৪/৭-৮) শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, ধর্মের গ্লানি ও অধর্মের অভ্যুত্থান ঘটলে সাধুদের রক্ষা, দুষ্কৃতকারীদের বিনাশ এবং ধর্মসংস্থাপনের জন্য তিনি যুগে যুগে আবির্ভূত হন। কাজ শেষ হলে তিনি স্বস্থানে ফিরে যান।
- গ)
অঞ্জনা দেবীর ঈশ্বর আরাধনার পদ্ধতিকে সাকার উপাসনা বা প্রতীক উপাসনা বলা হয়, যা সগুণ উপাসনা বা ভক্তিযোগ নামেও পরিচিত।
সাকার উপাসনার ধারণা: প্রতীক শব্দের অর্থ চিহ্ন বা আকার। এ উপাসনায় ঈশ্বরকে সাকাররূপে, অর্থাৎ ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শিব, সরস্বতী, লক্ষ্মী প্রভৃতি দেব-দেবীর প্রতিমা বা প্রতিকৃতির মাধ্যমে আরাধনা করা হয়। পূজা, মন্ত্রপাঠ, পুষ্পাঞ্জলি, প্রণাম, আরতি ও কীর্তন এর উপায়। এসব বাহ্য আচরণের মাধ্যমে অন্তরের ভক্তি, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা ইষ্ট দেবতার উদ্দেশে প্রকাশ করা হয়।
উদ্দীপকের সঙ্গে সম্পর্ক: উদ্দীপকে অঞ্জনা দেবী প্রতিদিন সকালে স্নান করে শুদ্ধ বস্ত্র পরে পূজা-অর্চনা করেন এবং পূজা শেষে গীতাসহ ধর্মগ্রন্থ পাঠ করেন। দেবতার উদ্দেশে পূজা করা সাকার বা সগুণ উপাসনারই বৈশিষ্ট্য। এ পদ্ধতিতে ঈশ্বর প্রতিকৃতিতে প্রকাশিত হন এবং ভক্ত তাঁর কাছে নিজের ভক্তি নিবেদন করেন।
অতএব, অঞ্জনা দেবীর আরাধনা পদ্ধতিটি সাকার উপাসনা।
- ঘ)
পরিমল বাবুর উপাসনা পদ্ধতিটি নিরাকার উপাসনা। প্রতিদিন সকালে ধ্যানে বসে ঈশ্বরের আরাধনা করা এই উপাসনার প্রধান বৈশিষ্ট্য। শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার আলোকে এ পদ্ধতির বিশ্লেষণ নিচে করা হলো।
নিরাকার উপাসনার ধারণা: নিরাকার অর্থ যার কোনো আকার নেই। এ উপাসনা ঈশ্বরের কোনো প্রতিকৃতিকে উদ্দেশ্য করে করা হয় না। ঈশ্বর অদৃশ্য অবস্থায় অবস্থান করেন এবং সাধক তাঁকে উপলব্ধি করে ধ্যানের মাধ্যমে উপাসনা করেন। জ্ঞানযোগ এই উপাসনার একটি অংশ। নিরাকারবাদী যোগীরা ওঙ্কারধ্যানের মাধ্যমে ব্রহ্মের উপাসনা করেন।
১. ধ্যানের মাধ্যমে ঈশ্বরের সঙ্গে সংযোগ: অষ্টাঙ্গ যোগের সপ্তম অঙ্গ ধ্যান। ধ্যান অর্থ নিরবচ্ছিন্ন গভীর চিন্তা। পরিমল বাবু প্রতিদিন সকালে ধ্যানে বসে একাগ্রচিত্তে ঈশ্বরকে স্মরণ করেন। দীর্ঘ চিন্তনের ফলে সাধক ঈশ্বরোপম হতে পারেন এবং পরম আনন্দ অনুভব করেন।
২. গীতার নির্দেশ ও সাধনার ক্লেশ: গীতার দ্বাদশ অধ্যায়ে অর্জুন জানতে চান, নির্গুণ অব্যক্ত ব্রহ্মের সাধনা ও সাকার ঈশ্বরের আরাধনার মধ্যে কোনটি উত্তম। শ্রীকৃষ্ণ বলেন, উভয় পথেই ক্লেশ আছে। তবে অব্যক্ত ব্রহ্মচিন্তার চেয়ে সাকার ঈশ্বরের আরাধনা অপেক্ষাকৃত সহজ। অর্থাৎ পরিমল বাবুর পথ কঠিন হলেও সঠিক।
৩. সকল পথেই ঈশ্বরলাভ সম্ভব: গীতায় (৪/১১) ভগবান বলেছেন, ‘যে যথা মাং প্রপদ্যন্তে তাংস্তথৈব ভজাম্যহম্’। অর্থাৎ যে আমাকে যেভাবে উপাসনা করে, আমি তাকে সেভাবেই তুষ্ট করি। তাই পরিমল বাবু নিরাকার পথে এবং তাঁর স্ত্রী সাকার পথে উপাসনা করলেও উভয়েই ঈশ্বরের কৃপা পেতে পারেন।
৪. উপাসনার ফল: উপাসনা হৃদয়কে পবিত্র করে, মনের দৃঢ়তা বাড়ায়, কামনা-বাসনা, হিংসা ও অহংকার দূর করে এবং শেষে মোক্ষলাভে সহায়তা করে। ধ্যানের মাধ্যমে পরিমল বাবুর মন শুদ্ধ ও শান্ত হয়।
সুতরাং, পরিমল বাবুর ধ্যানভিত্তিক নিরাকার উপাসনা গীতার আলোকে একটি কঠিন কিন্তু বৈধ ও ফলদায়ক সাধনপথ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও