হিন্দু ধর্ম • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৪
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
চয়নদের গ্রামের বাড়িতে মন্দিরের মাঠে কয়েক প্রহরব্যাপী চলছে একটি অনুষ্ঠান। অনেক দূর-দূরান্ত থেকে ভক্তগণ দলে দলে এসে যোগ দিচ্ছে এ অনুষ্ঠানে। এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ও শ্রীরামচন্দ্রের পূজা করা হয়। অপরদিকে, অজয় বাবু মনের শান্তির জন্য বিভিন্ন ঐতিহাসিক পবিত্র স্থান ঘুরে দেখেন। এতে তার জ্ঞান বৃদ্ধি পায়। তার ঘুরে দেখা স্থানগুলো অধিকাংশই বড় বড় পাহাড়ের উপর, বড় গাছের নিচে বা নদীর ধারে হয়ে থাকে।
- ক)(1)
ধর্মাচার কী?
- খ)(2)
নতুন ধান দিয়ে পিঠা পায়েশ তৈরির অনুষ্ঠানের ব্যাখ্যা দাও।
- গ)(3)
চয়নদের গ্রামের মন্দিরের মাঠে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানটি পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
অজয় বাবু মনে শান্তির জন্য যে ঐতিহাসিক পবিত্র স্থান ঘুরে দেখার ইঙ্গিত দিয়েছেন তার গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
যে সকল আচার-আচরণ আমাদের জীবনকে সুন্দর ও মঙ্গলময় করে গড়ে তোলে, তাকে ধর্মাচার বলে।
- খ)
নবান্ন শব্দের অর্থ নতুন ভাত। হেমন্তকালে অগ্রহায়ণ মাসে নতুন ধানের চাল দিয়ে ভাত, পিঠা-পায়েশ ইত্যাদি তৈরি করে যে মাঙ্গলিক উৎসব করা হয়, তাকেই নবান্ন উৎসব বলে।
এটি আবহমান বাংলার ঐতিহ্যবাহী অসাম্প্রদায়িক ও সর্বজনীন উৎসব। এটি ঋতুভিত্তিক অনুষ্ঠান।
এদিন শস্যের অধিষ্ঠাত্রী দেবী লক্ষ্মীর পূজা করা হয়। - গ)
চয়নদের গ্রামের মন্দিরের মাঠে কয়েক প্রহরব্যাপী যে অনুষ্ঠান চলছে এবং যেখানে শ্রীকৃষ্ণ ও শ্রীরামচন্দ্রের পূজা করা হচ্ছে, তা নামযজ্ঞ।
নামযজ্ঞের ধারণা: নামযজ্ঞ একটি ধর্মানুষ্ঠান। এতে বিভিন্ন সুরে, ছন্দে ও তালে কৃষ্ণনাম এবং রামনাম কীর্তন করা হয়। স্থান, সময় ও আয়োজনের পরিধিভেদে এটি কয়েক প্রহরব্যাপী চলে। তিন ঘণ্টায় এক প্রহর ধরা হয়। অনুষ্ঠানের জন্য মন্দির বা অনুষ্ঠানস্থল পবিত্র রাখা হয়।
বিশ্বাস: হিন্দুরা বিশ্বাস করে, শ্রীহরির নাম নিলে বা শুনলে পুণ্য লাভ হয় এবং দুঃখ-যন্ত্রণা থেকে পরিত্রাণ মেলে। এই বিশ্বাস নিয়েই ভক্তরা বহুদূর থেকে এ অনুষ্ঠানে যোগ দেয়।
উদ্দীপকের সঙ্গে সম্পর্ক: উদ্দীপকে দূর-দূরান্ত থেকে ভক্তদের দলে দলে এসে অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া, কয়েক প্রহরব্যাপী অনুষ্ঠান চলা এবং শ্রীকৃষ্ণ ও শ্রীরামচন্দ্রের পূজা করা, সবই নামযজ্ঞের বৈশিষ্ট্য।
এভাবে নামযজ্ঞ মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয় এবং ভেদাভেদ ভুলে সবাই একাত্ম হয়। - ঘ)
অজয় বাবু মনের শান্তির জন্য যেসব ঐতিহাসিক পবিত্র স্থান ঘুরে দেখেন, সেগুলো তীর্থস্থান। পাহাড়ের চূড়া, বড় গাছের তলা বা নদীর ধার, এসব স্থানে প্রায়ই তীর্থস্থান গড়ে ওঠে। আমার মতে এ তীর্থদর্শনের গুরুত্ব বহুমুখী।
তীর্থস্থানের ধারণা: স্বয়ং ভগবান বা তাঁর অবতারের আবির্ভাব স্থান এবং দেবালয়ের স্থানকে পুণ্যস্থান বলা হয়। পুণ্যস্থানকেই তীর্থস্থান বলা হয়। বাংলাদেশের তীর্থস্থানের মধ্যে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড, মহেশখালীর আদিনাথের মন্দির, নারায়ণগঞ্জের লাঙ্গলবন্দ, গোপালগঞ্জের ওড়াকান্দি, সুনামগঞ্জের পণাতীর্থ উল্লেখযোগ্য।
১. ধর্মীয় গুরুত্ব: তীর্থ ভ্রমণ একটি পুণ্য কর্ম। ধর্মপালনের মতো তীর্থদর্শনও পবিত্র কর্তব্য। এতে পুণ্যলাভ হয় এবং পরকালে সদ্গতি হয়।
২. মানসিক শান্তি: তীর্থদর্শনে মন পবিত্র হয়, অশান্ত মন শান্ত হয় এবং দুঃখ দূর হয়। অজয় বাবু মনের শান্তি পাওয়ার জন্যই তীর্থে যান।
৩. জ্ঞানের বিস্তার: ঐতিহাসিক স্থান ভ্রমণে জ্ঞানের পরিধি বাড়ে। উদ্দীপকে বলা হয়েছে, অজয় বাবুর জ্ঞান বৃদ্ধি পায়। এটি পাঠ্যপুস্তকের বক্তব্যের সঙ্গে মেলে।
৪. উদারতা ও সামাজিক প্রভাব: তীর্থযাত্রায় নানা মানুষের সঙ্গে দেখা হয়। এতে মনের প্রসারতা বাড়ে, সংকীর্ণতা দূর হয় এবং উদারতা বৃদ্ধি পায়। মহাপুরুষদের জীবনাচরণের নিদর্শন দেখে মানুষ ভালো কাজে উদ্বুদ্ধ হয়।
সুতরাং, তীর্থদর্শন ব্যক্তির আত্মিক শান্তি, জ্ঞান ও উদারতা বৃদ্ধি করে এবং সমাজকেও সমৃদ্ধ করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও