হিন্দু ধর্ম • Combined Board • সকল বোর্ড ২০১৬
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
রণি এবং রবির ঘনিষ্ঠতা অনেক দিনের। গত রাতে রণির বাবা মারা গেছেন। রণির বাবার মৃত্যুর খরব পেয়ে রবি তাদের বাড়ি গেল। রণিকে অনেক বুঝিয়ে শান্ত করল। রবি সমাজের লোকদের সহযোগিতায় শব-দেহ শ্মাশানে ধর্মীয় শাস্ত্রমতে দাহকাজ সম্পন্ন করলো। কারণ রবির মতে, শ্রদ্ধার সাথে দান করাই শ্রাদ্ধ। তাই সে শাস্ত্রমতে শ্রাদ্ধ সম্পন্ন করল।
- ক)(1)
'শৌচ' শব্দের অর্থ কী?
- খ)(2)
আদ্যশ্রাদ্ধ বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
রণির বাবার 'শব-দাহ' করার পদ্ধতি বর্ণনা কর।
- ঘ)(4)
'শ্রদ্ধার সাথে দান করাই শ্রাদ্ধ'- উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
'শৌচ' শব্দের অর্থ শুচিতা বা পবিত্রতা।
- খ)
কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর পর প্রথমে যে শ্রাদ্ধ করণীয়, তাকে আদ্যশ্রাদ্ধ বলে। অশৌচকাল শেষ হওয়ার পরদিন এটি অনুষ্ঠিত হয়। এর পূর্ণ নাম আদ্য একোদ্দিষ্ট শ্রাদ্ধ, কারণ একজন মৃত ব্যক্তির উদ্দেশে এটি করা হয়। এতে আসন, ছাতা, পাদুকা, বস্ত্র, অন্ন, জল ইত্যাদি মন্ত্রোচ্চারণসহ মৃতের নামে উৎসর্গ করে পিণ্ডদান করা হয়।
- গ)
রণির বাবার শবদাহ অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার অংশ। 'অন্ত্য' অর্থ শেষ এবং 'ইষ্টি' অর্থ যজ্ঞ, তাই অন্ত্যেষ্টি মানে শেষযজ্ঞ বা অগ্নিতে মৃতদেহের আহুতি। মৃত্যু অর্থ দেহ থেকে আত্মার বহির্গমন, তখন দেহ প্রাণহীন হয়ে পচতে শুরু করে। এজন্য শাস্ত্রে সৎকারের বিধান আছে।
শবদাহের পদ্ধতি: ১. মৃতদেহকে বস্ত্রাবৃত ও মালা-চন্দনে সাজিয়ে শ্মশানে নেওয়া হয়। সেখানে মাথা দক্ষিণ দিকে রেখে কুশের ওপর শোয়ানো হয়। ২. দাহাধিকারী স্নান করে এসে দেহে তেল ও কাঁচা হলুদ মেখে স্নান করান। ৩. নতুন কাপড় ও মালা পরিয়ে কপালে চন্দন দেওয়া হয় এবং দুই চোখ, দুই কান, নাকের দুই ছিদ্র ও মুখ স্বর্ণ বা কাঁসা দিয়ে আচ্ছাদন করে পিণ্ডদান করা হয়। ৪. আমকাষ্ঠ বা চন্দনকাষ্ঠে চিতা সাজিয়ে শবকে শোয়ানো হয় (বর্তমানে বৈদ্যুতিক চুল্লিতেও দাহ হয়)। ৫. সাধারণত জ্যেষ্ঠ পুত্র মুখাগ্নি করেন। অগ্নিদানের আগে শবদেহ সাত বা তিনবার প্রদক্ষিণ করে 'ওঁ কৃত্বা তু দুষ্কৃতং কর্ম...' মন্ত্র পাঠ করতে হয়। ৬. দাহ শেষে চিতায় জল ঢেলে আগুন নেভানো হয় এবং সবাই স্নান করে পরিচ্ছন্ন হন।
উদ্দীপকে রবি শাস্ত্রমতে শ্মশানে দাহকাজ সম্পন্ন করেছে, যা এই পদ্ধতিকেই নির্দেশ করে।
- ঘ)
উক্তিটি উদ্দীপকের রবির বক্তব্য। 'শ্রদ্ধা' শব্দের সঙ্গে 'অণ্' প্রত্যয় যোগে 'শ্রাদ্ধ' শব্দ গঠিত। শ্রদ্ধার সঙ্গে যা দান করা হয় তাই শ্রাদ্ধ। যেখানে শ্রদ্ধার সংযোগ নেই, সেখানে আড়ম্বর থাকলেও শ্রাদ্ধ হয় না। তাই উক্তিটি যথার্থ। যুক্তিগুলো নিচে দেওয়া হলো—
১. শ্রাদ্ধের স্বরূপ: মৃত ব্যক্তির মৃত্যুর পর প্রথমে আদ্যশ্রাদ্ধ করতে হয়। এতে আসন, ছাতা, পাদুকা, বস্ত্র, অন্ন, জল ইত্যাদি মন্ত্রসহ মৃতের নামে উৎসর্গ করা হয়। যার যেমন সামর্থ্য সে তেমন দান করে। অর্থাৎ দানের পরিমাণের চেয়ে শ্রদ্ধার মনোভাবই মুখ্য।
২. আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা: আত্মার বিনাশ নেই, তাই প্রিয়জনের আত্মার তৃপ্তি ও শান্তি কামনায় শ্রদ্ধাভরে অনুষ্ঠান করা হয়। রবি সেই ভাবনা থেকেই শাস্ত্রমতে শ্রাদ্ধ সম্পন্ন করেছে।
৩. পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন: শ্রাদ্ধে পাড়া-প্রতিবেশী ও আত্মীয়রা এসে শোকার্ত পরিবারের দুঃখের সঙ্গে একাত্ম হন। এতে সামাজিক ও পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় হয় এবং একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা-ভালোবাসা বাড়ে। রণির বন্ধু রবির সহায়তা তার প্রমাণ।
৪. নৈতিক শিক্ষা: শ্রাদ্ধ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে সামাজিকতা ও গুরুজনের প্রতি শ্রদ্ধার বীজ বপন করে।সুতরাং, লোক দেখানো আড়ম্বর নয়, আন্তরিক শ্রদ্ধাই শ্রাদ্ধের মূল। 'শ্রদ্ধার সাথে দান করাই শ্রাদ্ধ'- উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও