ইসলাম • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৬
ইসলাম প্রশ্ন
উদ্দীপকটি পড় এবং সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
খবির মিয়া দুনিয়ার লোভে এতটাই লিপ্ত যে, অন্যের ক্ষতি করতে কুণ্ঠাবোধ করে না। লোক সমাজে চলাফেরা করার সময় তার ব্যবহার খুবই মার্জিত কিন্তু লোক চক্ষুর অন্তরালে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে বেড়ায়। এমনকি লেনদেনের ক্ষেত্রে কথা ও কাজের মিল নেই। অপরদিকে দবির মিয়ার ধারণা পৃথিবীতে যখন মানবতার চরম বিপর্যয় ঘটবে তখন আল্লাহ পাক তাদের সংশোধনের জন্য মহামানব প্রেরণ করবেন।
- ক)(1)
সিরাত কী?
- খ)(2)
“আর প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্যই পথ প্রদর্শক রয়েছে” — ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
খবির মিয়ার কার্যকলাপে কী প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
দবির মিয়ার ধারণাটি আকাইদের কোন বিষয়টির পরিপন্থী তা চিহ্নিত করে তার গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
সিরাত হলো মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর জীবনচরিত বা জীবনী।
- খ)
আল্লাহ তায়ালা সব জাতি ও সম্প্রদায়ের কাছেই পথপ্রদর্শক বা নবি-রাসূল পাঠিয়েছেন। তাঁরা মানুষকে আল্লাহর একত্বের দিকে ডেকেছেন এবং সৎ পথ দেখিয়েছেন। কোনো জাতিই এ হেদায়াত থেকে বঞ্চিত ছিল না। সূরা আর-রা'দের এ আয়াতে সে কথাই বলা হয়েছে।
- গ)
খবির মিয়ার কার্যকলাপে নিফাক (কপটতা) প্রকাশ পেয়েছে।
ব্যাখ্যা:
১. যে ব্যক্তি অন্তরে কুফর বা অন্যায় গোপন রেখে মুখে বা বাইরে ভালো আচরণ দেখায়, তাকে মুনাফিক বলে।
২. খবির মিয়া লোকসমাজে মার্জিত আচরণ করেন, অথচ আড়ালে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। এটি ভেতর ও বাইরের গরমিল।
৩. লেনদেনে তাঁর কথা ও কাজের মিল নেই, যা মুনাফিকের একটি লক্ষণ।অতএব, খবির মিয়ার আচরণ নিফাকের প্রতিফলন।
- ঘ)
দবির মিয়ার ধারণা হলো, মানবতার চরম বিপর্যয়ে আল্লাহ আবার মহামানব বা নবি পাঠাবেন। এ ধারণা আকাইদের রিসালাত-এর অন্তর্গত খতমে নবুওয়াত (নবুওয়াতের সমাপ্তি) বিষয়ের পরিপন্থী।
গুরুত্ব:
১. আল্লাহ তায়ালা কুরআনে হযরত মুহাম্মদ (স.)-কে শেষ নবি বলেছেন (সূরা আল-আহযাব, আয়াত ৪০)। তাঁর পর আর কোনো নবি আসবেন না।
২. এ বিশ্বাস দ্বীন ইসলামের পূর্ণতা নিশ্চিত করে। কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে কিয়ামত পর্যন্ত মানুষ পথ পাবে।
৩. এ বিশ্বাস ভণ্ড নবির দাবিদারদের ধোঁকা থেকে মুসলিম উম্মাহকে রক্ষা করে এবং ঐক্য অটুট রাখে।সুতরাং, খতমে নবুওয়াতে বিশ্বাস ঈমানের অপরিহার্য অংশ। এর অস্বীকার ঈমানের ক্ষতি করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও