বিজ্ঞান • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৪

বিজ্ঞান প্রশ্ন

তিন কন্যা সন্তানের জনক শিহাব সাহেব পুত্র সন্তানের আশায় সব সময় তার স্ত্রীকে দোষারোপ করেন। অন্যদিকে তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী সন্তান ধারণে অক্ষম হলেও বিশেষ একটি পদ্ধতি অনুসরণের মাধ্যমে বর্তমানে সন্তান ধারণে সক্ষম হয়েছেন।

  1. ক)

    নিউক্লিওপ্রোটিন কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    মানুষের অ্যাপেনডিক্স কী ধরনের অঙ্গ? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর উল্লিখিত বিশেষ পদ্ধতিটি কী? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    স্ত্রীর প্রতি শিহাব সাহেবের আচরণের যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    প্রোটিন ও নিউক্লিক অ্যাসিডের সংযোগে গঠিত জটিল যৌগকে নিউক্লিওপ্রোটিন বলে, যা থেকে প্রোটোভাইরাস ও পরে ভাইরাস সৃষ্টি হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

  2. খ)

    মানুষের অ্যাপেনডিক্স একটি নিষ্ক্রিয় বা লুপ্তপ্রায় অঙ্গ। কিছু জীবদেহে যে অঙ্গ সক্রিয় থাকে, অন্য জীবদেহে তা নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থাকলে তাকে লুপ্তপ্রায় অঙ্গ বলে। মানুষের সিকাম ও তার সংলগ্ন ক্ষুদ্র অ্যাপেনডিক্স কোনো কাজ করে না। কিন্তু ঘোড়া বা গিনিপিগের মতো তৃণভোজী স্তন্যপায়ী প্রাণীর দেহে এটি সক্রিয়। এটি জৈব অভিব্যক্তির সপক্ষে একটি প্রমাণ।

  3. গ)

    ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর অনুসৃত বিশেষ পদ্ধতিটি হলো টেস্টটিউব বেবি বা ইনভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (IVF)।

    কৃত্রিম উপায়ে দেহের বাইরে শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলন ঘটিয়ে ভ্রূণ তৈরি করে জরায়ুতে প্রতিস্থাপন করলে যে শিশু জন্মায়, তাকে টেস্টটিউব বেবি বলে। এর ধাপগুলো হলো:

    ১. সক্ষম দম্পতি থেকে ডিম্বাণু ও শুক্রাণু সংগ্রহ করে বিশেষ পালন মাধ্যমে (Culture medium) মিলন ঘটানো।

    ২. পালন মাধ্যমে প্রাথমিক ভ্রূণ উৎপাদন।

    ৩. ভ্রূণকে নারীর জরায়ুতে প্রতিস্থাপন।

    ৪. প্রসূতির পরিচর্যা ও সন্তান লাভ।

    স্বাভাবিক উপায়ে সন্তান না হলে এই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। ১৯৭৮ সালে ইংল্যান্ডে প্রথম সফল টেস্টটিউব বেবি লুইস জয় ব্রাউন জন্মায়।

  4. ঘ)

    তিন কন্যা সন্তান জন্মের জন্য স্ত্রীকে দোষারোপ করা শিহাব সাহেবের পক্ষে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।

    ১. মানুষের কোষে ২৩ জোড়া ক্রোমোজোম থাকে, যার এক জোড়া লিঙ্গ নির্ধারক। মেয়েদের সেক্স ক্রোমোজোম XX এবং ছেলেদের XY।

    ২. মায়ের ডিম্বাণুতে সবসময় একটি X ক্রোমোজোম থাকে। কিন্তু পিতার শুক্রাণু দুই ধরনের হয়, একটিতে X ও অন্যটিতে Y। X বহনকারী শুক্রাণু ডিম্বাণুর সাথে মিলিত হলে XX অর্থাৎ কন্যা এবং Y বহনকারী শুক্রাণু মিলিত হলে XY অর্থাৎ পুত্রসন্তান জন্মায়।

    ৩. সুতরাং সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণে মায়ের কোনো ভূমিকা নেই। পিতার শুক্রাণুর ধরনই প্রকৃত কারণ।

    অতএব, শিহাব সাহেবের আচরণ অজ্ঞতা ও কুসংস্কারপ্রসূত, যুক্তিযুক্ত নয়। কন্যা বা পুত্র, দুই ক্ষেত্রেই সুস্থ সন্তান মা-বাবার জন্য আশীর্বাদ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন