গার্হস্থ্য বিজ্ঞান • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৪
গার্হস্থ্য বিজ্ঞান প্রশ্ন
গৃহিণী সালেহার কিছুদিন ধরে কাজ করতে খুব আলসেমি লাগে। কোনো কিছু মনে রাখতে পারছে না। সেই সাথে তার গলার নিচে কিছুটা অংশ ফোলা ফোলা লাগছে। অন্যদিকে তার ৩য় শ্রেণিতে পড়ুয়া একমাত্র ছেলে প্রান্ত মাংস, দুধ, ডাল একেবারেই খেতে চায় না। ইদানিং তার ওজন কমে যাচ্ছে; গায়ের চামড়ায়ও তেমন মসৃণতা নেই। মা কোনো কিছু বললে সে খুব মেজাজ দেখায়।
- ক)(1)
ভিটামিন এ-এর রাসায়নিক নাম কী?
- খ)(2)
কোন খনিজ লবণের অভাবে রক্ত স্বল্পতা দেখা দেয়? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
সালেহা কোন রোগে ভুগছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
প্রান্তের দেহে কোন ধরনের খাদ্য উপাদানের অভাব রয়েছে বলে তুমি মনে করো—তা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
ভিটামিন এ-এর রাসায়নিক নাম রেটিনল (Retinol)।
- খ)
আয়রন বা লৌহের অভাবে রক্ত স্বল্পতা (অ্যানিমিয়া) দেখা দেয়।
আয়রন লোহিত রক্তকণিকার হিমোগ্লোবিন তৈরির প্রধান উপাদান। হিমোগ্লোবিন ফুসফুস থেকে অক্সিজেন বহন করে দেহের কোষে পৌঁছে দেয়। খাদ্যে আয়রনের ঘাটতি হলে হিমোগ্লোবিন কম তৈরি হয় এবং রক্তে লোহিত কণিকা কমে যায়। ফলে দেহ ফ্যাকাশে হয়, ক্লান্তি, দুর্বলতা ও মাথা ঘোরা দেখা দেয়। কলিজা, কচু শাক, পালং শাক, ডিমের কুসুম ও ডাল আয়রনের ভালো উৎস।
- গ)
সালেহার লক্ষণগুলো হলো কাজে আলসেমি, কিছু মনে রাখতে না পারা এবং গলার নিচে ফোলা ভাব। এই লক্ষণগুলো গলগণ্ড (গয়টার) রোগের।
কারণ: খাদ্যে আয়োডিনের অভাব। থাইরয়েড গ্রন্থি আয়োডিন দিয়ে থাইরক্সিন হরমোন তৈরি করে। আয়োডিন কম থাকলে গ্রন্থিটি হরমোন তৈরির জন্য বেশি কাজ করে ও ফুলে যায়, ফলে গলার নিচে ফোলা দেখা যায়। থাইরক্সিন কমে গেলে বিপাক ধীর হয়, তাই আলসেমি ও স্মৃতিশক্তি কমে যায়।
প্রতিকার ও প্রতিরোধ: আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করা এবং সামুদ্রিক মাছ, দুধ ও ডিম খাওয়া।
- ঘ)
উদ্দীপকে প্রান্ত মাংস, দুধ ও ডাল একেবারেই খায় না। এগুলো আমিষ বা প্রোটিনের প্রধান উৎস। তাই আমি মনে করি, প্রান্তের দেহে আমিষের অভাব রয়েছে।
বিশ্লেষণ:
১. ওজন কমে যাওয়া: আমিষ দেহের কোষ গঠন ও ক্ষয়পূরণ করে। যথেষ্ট আমিষ না পেলে দেহের বৃদ্ধি থেমে যায় এবং পেশি ক্ষয় হয়ে ওজন কমে।
২. ত্বকের মসৃণতা না থাকা: ত্বকের কোষ গঠনে আমিষ দরকার। আমিষের অভাবে ত্বক শুষ্ক ও খসখসে হয়। (ভিটামিন এ-এর অভাবেও ত্বক খসখসে হতে পারে, কারণ দুধ, ডিম ও মাংসে এই ভিটামিন থাকে।)
৩. মেজাজ খিটখিটে হওয়া: আমিষের অভাবে দেহ দুর্বল হয় এবং স্নায়ুতন্ত্রের কাজও ব্যাহত হয়, ফলে শিশু খিটখিটে হয়ে পড়ে।সুতরাং, প্রান্তের এসব লক্ষণ আমিষের অভাবের ফল। তাকে মাংস, ডিম, মাছ, দুধ ও ডাল খাওয়ার অভ্যাস করাতে হবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও