বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৪
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন
মিনা তার পরিবারের সাথে ঢাকা গিয়ে মধ্যযুগের একজন শাসকের আমলে নির্মিত স্থাপত্য নিদর্শনগুলো দেখে অভিভূত হয়। তার দাদা বলেন, স্থাপত্যের সমৃদ্ধির জন্য উক্ত সময়কালকে মুঘলদের 'স্বর্ণযুগ' হিসেবে চিহ্নিত করা যায়।
- ক)(1)
বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা করেন কে?
- খ)(2)
মুর্শিদকুলি খানের রাজস্ব সংস্কার সর্বাধিক স্মরণীয় কীর্তি ছিল কেন?
- গ)(3)
মিনা মধ্যযুগের কোন শাসকের স্থাপনাসমূহ দেখেছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উক্ত শাসক দেশের অর্থনীতি ও কৃষিক্ষেত্রে অভাবিত সমৃদ্ধি আনয়ন করেছিলেন-উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা করেন ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজি।
- খ)
মুর্শিদকুলি খান বাংলার সুবাদার ও দেওয়ান থাকাকালে জায়গির জমির বড় অংশকে খালসা জমিতে পরিণত করেন এবং ইজারাদারি প্রথা চালু করেন। এতে রাজস্ব আদায় নিয়মিত ও সুনির্দিষ্ট হয়। কৃষকদের তাকাভি ঋণ দিয়ে তিনি কৃষির উন্নতিতেও সাহায্য করেন। এই সংস্কারের ফলে রাজকোষ সমৃদ্ধ হয় এবং দিল্লিতে নিয়মিত রাজস্ব পাঠানো সম্ভব হয়। তাই এটি তাঁর সর্বাধিক স্মরণীয় কীর্তি।
- গ)
মিনা মধ্যযুগের মুঘল আমলের সুবাদার শায়েস্তা খান-এর স্থাপনাসমূহ দেখেছে।
শায়েস্তা খান ১৬৬৪ সাল থেকে বাংলার সুবাদার ছিলেন এবং ঢাকাকে রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলেন। তাঁর আমলে ঢাকায় ছোট কাটরা, লালবাগ কেল্লা সংশ্লিষ্ট স্থাপনা, মসজিদ ও সরাই-সহ বহু স্থাপত্য নির্মিত হয়। উদ্দীপকে ঢাকায় মধ্যযুগের স্থাপত্যনিদর্শন দেখা এবং মুঘলদের স্বর্ণযুগের উল্লেখ তাঁর শাসনকালের সঙ্গেই সংগতিপূর্ণ।
- ঘ)
উক্তিটি যথার্থ। শায়েস্তা খান অর্থনীতি ও কৃষিক্ষেত্রে অভাবিত সমৃদ্ধি আনয়ন করেছিলেন।
১. দ্রব্যমূল্য: তাঁর আমলে টাকায় আট মণ চাল পাওয়া যেত। এটি কৃষি উৎপাদনের প্রাচুর্য ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নির্দেশ করে।
২. শান্তি ও নিরাপত্তা: তিনি চট্টগ্রাম জয় করে মগ-ফিরিঙ্গি জলদস্যু দমন করেন। ফলে নদীপথে বাণিজ্য নিরাপদ হয় এবং কৃষক নির্বিঘ্নে চাষাবাদ করতে পারে।
৩. যোগাযোগ ও বাণিজ্য: রাস্তাঘাট ও সেতু নির্মাণে যোগাযোগ উন্নত হয়। ঢাকা বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে বিখ্যাত হয়।সুতরাং, শান্তি, নিম্ন দ্রব্যমূল্য ও বাণিজ্যিক উন্নতির কারণে তাঁর আমলে অর্থনীতি ও কৃষি সমৃদ্ধ হয়েছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও