হিন্দু ধর্ম • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

নিষ্কৃতি তার বাবা-মায়ের সাথে একদিন দুর্গাপূজা দেখতে যায়। পূজা দেখতে গিয়ে তারা লক্ষ করে, মন্দিরের মধ্যে কতগুলো গাছের পূজা করছে। নিষ্কৃতি তার বাবা। মায়ের কাছ থেকে বিষয়টি সম্পর্কে পরিপূর্ণ ধারণা অর্জন করে। অন্যদিকে, শুভজিৎদের বাড়িতে প্রতিবছর অমাবস্যা তিথিতে এক দেবীর পূজা করে। যিনি শিবের সহধর্মিনী হিসেবে পরিচিত। তিনি চণ্ড ও মুণ্ডকে বধ করার মাধ্যমে দেবতাদের মধ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করেন।

  1. ক)

    পূজার সময় সকলের অগ্রভাগে কে অবস্থান করেন?

    (1)
  2. খ)

    দেবী দুর্গাকে দুর্গতিনাশিনী বলা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    শুভজিৎদের বাড়িতে যে দেবীর পূজা করা হয় তার উৎপত্তি সম্পর্কে বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    নিষ্কৃতির দেখা দুর্গাপূজার তিথিটির গুরুত্ব রয়েছে।' পাঠের আলোকে মন্তব্যটির যথার্থতা মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    পূজার সময় সকলের অগ্রভাগে পুরোহিত অবস্থান করেন।

  2. খ)

    দেবী দুর্গা মহাবিশ্বের যাবতীয় দুঃখ-কষ্ট বিনাশ করেন বলে তাঁকে দুর্গতিনাশিনী বলা হয়।
    'দুর্গা' শব্দের একটি অর্থই হলো দুর্গতিনাশিনী। মহিষাসুর দেবরাজ ইন্দ্রের স্বর্গরাজ্য কেড়ে নিলে দেবতাদের মিলিত তেজ থেকে দুর্গা আবির্ভূত হয়ে তাকে বধ করেন। এভাবে তিনি দেবতা ও জগতকে অশুভ শক্তি ও বিপদ থেকে রক্ষা করেন।

  3. গ)

    শুভজিৎদের বাড়িতে দেবী কালীর পূজা করা হয়।

    কালীর পরিচয়: কালী দুর্গাদেবীর মতোই শক্তির দেবী। তিনি অসুর বিনাশে ভয়ংকরী এবং ভগবান শিবের সহধর্মিণী। তিনি কাল ও মৃত্যুর দেবীরূপে আত্মপ্রকাশ করায় তাঁকে শ্মশান কালীও বলা হয়। তাঁর অন্য নাম শ্যামা, ভদ্রকালী, দক্ষিণাকালী, মহাকালী, মা তারা। অন্যায় ও অশুভ শক্তি ধ্বংস করার পাশাপাশি তিনি মমতাময়ী মা রূপে বরাভয়ও দেন।

    উৎপত্তি: পুরাণ অনুসারে শুম্ভ-নিশুম্ভের অসুর সেনাপতি চণ্ড ও মুণ্ড দেবতাদের ওপর অত্যাচার করলে দেবী দুর্গা ক্রুদ্ধ হন। তাঁর ক্রোধ থেকে ভয়ংকরী কালী আবির্ভূত হন। তিনি চণ্ড ও মুণ্ডকে বধ করেন। তাই তাঁকে চামুণ্ডাও বলা হয়।

    উদ্দীপকের সাথে মিল: উদ্দীপকের দেবী শিবের সহধর্মিণী, তিনি চণ্ড ও মুণ্ডকে বধ করে দেবতাদের মধ্যে শান্তি ফিরিয়েছেন এবং অমাবস্যা তিথিতে তাঁর পূজা হয়। এ সবই কালীর বৈশিষ্ট্য।

  4. ঘ)

    'নিষ্কৃতির দেখা দুর্গাপূজার তিথিটির গুরুত্ব রয়েছে'- মন্তব্যটি আমি যথার্থ বলে মনে করি।

    উদ্দীপকে নিষ্কৃতি মন্দিরে কয়েকটি গাছের পূজা দেখেছে। এটি দুর্গাপূজার মহাসপ্তমী তিথির নবপত্রিকা পূজা। আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠীতে পূজা শুরু হয়ে সপ্তমীতে সপ্তমীবিহিত পূজা, নবপত্রিকা স্থাপন ও দেবীর প্রাণপ্রতিষ্ঠা হয়। নবপত্রিকা কলা, ডালিম, ধান, হলুদ, মানকচু, কচু, বেল, অশোক ও জয়ন্তী, এই নয়টি গাছের সমাহার। এক কলাগাছের সাথে অন্য গাছের চারা বেঁধে শাড়ি পরানো হয়, একে কলাবৌ বলে।

    ১. আধ্যাত্মিক গুরুত্ব: এই তিথিতে মন্ত্রোচ্চারণে প্রতিমার প্রাণপ্রতিষ্ঠা হয়। নবপত্রিকায় দেবী দুর্গা নয়টি ভিন্ন নামে অধিষ্ঠিত থাকেন বলে বিশ্বাস করা হয়।
    ২. পরিবেশ সচেতনতা: নবপত্রিকা পূজার মধ্য দিয়ে জীবনদায়ী বৃক্ষকে পূজা ও সংরক্ষণের শিক্ষা মেলে। বৃক্ষের মধ্যে ঈশ্বরের শক্তি আছে, এ বোধ জন্মায়।
    ৩. কৃষি ও জীবনের সাথে সম্পর্ক: ধান, হলুদ, কচু ইত্যাদি কৃষিজ ফসল পূজায় ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ পায়।
    ৪. সামাজিক ঐক্য: সপ্তমী থেকে দশমী পর্যন্ত সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষ উৎসবে অংশ নেয়। তাই দুর্গাপূজা সর্ববৃহৎ উৎসব ও সম্প্রীতির প্রতীক।

    সুতরাং, ধর্মীয়, পরিবেশগত ও সামাজিক দিক থেকে দুর্গাপূজার সপ্তমী তিথির গুরুত্ব আছে। তাই মন্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন