বাংলা ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৩
বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন
যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো;
1.1.
(ক) সময়ানুবর্তিতা
1.2.
(খ) বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ
1.3.
(গ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার
উত্তর ও ব্যাখ্যা
(ক) সময়ানুবর্তিতা
ভূমিকা: সময় নদীর স্রোতের মতো, কারও জন্য অপেক্ষা করে না। যে মানুষ সময়ের মূল্য বোঝে এবং প্রতিটি কাজ যথাসময়ে সম্পন্ন করে, সে-ই জীবনে সফল হয়। সময়ানুবর্তিতা তাই মানবজীবনের একটি অমূল্য গুণ।
সময়ানুবর্তিতার অর্থ: নির্দিষ্ট কাজ নির্দিষ্ট সময়ে সম্পন্ন করার অভ্যাসকে সময়ানুবর্তিতা বলে। সময় জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। হারানো সময় আর কখনো ফিরে পাওয়া যায় না।
ছাত্রজীবনে সময়ানুবর্তিতা: ছাত্রজীবন ভবিষ্যৎ গড়ার সময়। নিয়মিত স্কুলে যাওয়া, যথাসময়ে পড়াশোনা, খেলাধুলা ও বিশ্রামের একটি রুটিন মেনে চললে পড়াশোনায় ভালো ফল পাওয়া যায়। যে শিক্ষার্থী সময়ের অপচয় করে, পরীক্ষার সময় তাকে অনুশোচনা করতে হয়।
কর্মজীবনে ও সমাজজীবনে সময়ানুবর্তিতা: অফিস-আদালত, ব্যবসা-বাণিজ্য, কলকারখানা— সবখানে সময়মতো কাজ করলে উৎপাদন বাড়ে, প্রতিষ্ঠানের সুনাম হয়। সময় মেনে চলা মানুষকে সবাই বিশ্বাস ও শ্রদ্ধা করে। আমাদের সমাজে সভা-সমিতি, অনুষ্ঠান বা যানবাহন সময়মতো না চললে ভোগান্তি তৈরি হয়।
সময়ানুবর্তিতার উপকারিতা: সময়ানুবর্তী মানুষ শৃঙ্খলাপরায়ণ ও আত্মবিশ্বাসী হয়। সে কম সময়ে বেশি কাজ করতে পারে এবং মানসিক চাপ থেকে মুক্ত থাকে। এ গুণ ব্যক্তিগত উন্নতির পাশাপাশি জাতীয় উন্নতিরও চাবিকাঠি।
সময়ের অপচয়ের কুফল: "আজকের কাজ কালকের জন্য ফেলে রাখা" অভ্যাসটি মানুষকে আলস্যে ডুবিয়ে দেয়। ফলে সুযোগ হাতছাড়া হয়, কাজ জমে যায় এবং জীবন ব্যর্থতায় ভরে ওঠে। উন্নত জাতিগুলোর সাফল্যের পেছনে প্রধান কারণ হলো সময়ের সঠিক ব্যবহার।
সময়ানুবর্তী হওয়ার উপায়: ছোটবেলা থেকেই রুটিন করে চলা, ঘড়ি দেখে কাজ করা, প্রতিদিনের কাজের তালিকা তৈরি করা এবং অলসতা ত্যাগ করা— এভাবে সময়ানুবর্তিতার অভ্যাস গড়ে তোলা যায়।
উপসংহার: সময়ের সদ্ব্যবহারই সাফল্যের মূলমন্ত্র। তাই ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও জাতীয় জীবনের উন্নতির জন্য আমাদের প্রত্যেকেরই সময়ানুবর্তী হওয়া উচিত। "Time and tide wait for none"— এই সত্য মনে রেখে আমরা যেন প্রতিটি মুহূর্তের মূল্য দিই।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও