হিন্দু ধর্ম • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৩
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
অভি একটি আসন অনুশীলন করে। যার ফলে- ১. শিরদাঁড়ার উপকার হয়; ২.পেটের ভিতরের অংশগুলো সবল হয়; ৩. মাথা ঠান্ডা থাকে; ৪. পরিপাক ভালো হয়; ৫. শ্বাসকষ্টের উপকার হয়।অন্যদিকে উত্তম প্রতিদিন একটি আসন অনুশীলন করে। যার ফলে- ১. ডায়াবেটিস হয় না; ২. পেটের চর্বি কমিয়ে দেয়; ৩. কাঁধ নরম হয়; ৪. বৃক্কের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়; ৫. গ্যাসের সমস্যা দূর হয়।
- ক)(1)
অহিংসা কাকে বলে?
- খ)(2)
শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণ করার পদ্ধতিটি ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
অভির অনুশীলনকৃত আসনটির অনুশীলন পদ্ধতি ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উত্তমের অনুশীলনকৃত আসনটির প্রভাব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
মন, কথা ও কর্ম দিয়ে কোনো প্রাণীকে কষ্ট না দেওয়াকে অহিংসা বলে।
- খ)
প্রাণায়াম হলো শ্বাস-প্রশ্বাসের স্বাভাবিক গতিকে নিয়ন্ত্রণ করে নিজ আয়ত্তে আনা। এটি পূরক, রেচক ও কুম্ভক—এই তিন প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়। শ্বাস গ্রহণ করাকে পূরক, শ্বাস ত্যাগ করাকে রেচক এবং শ্বাস ধরে রাখাকে কুম্ভক বলে। ধীরে, গভীরভাবে ও ছন্দোবদ্ধভাবে শ্বাস নেওয়া হয়। সদগুরুর তত্ত্বাবধানে এটি অনুশীলন করতে হয়।
- গ)
অভির অনুশীলনকৃত আসনটি অর্ধকূর্মাসন, কারণ এর প্রভাবে শিরদাঁড়া, পেটের অভ্যন্তরীণ অংশ, মাথা ঠান্ডা থাকা, পরিপাক ও শ্বাসকষ্টের উপকার হয়।
‘কূর্ম’ অর্থ কচ্ছপ। এ আসনে দেহ কচ্ছপের পিঠের মতো দেখায় বলে একে অর্ধকূর্মাসন বলে।
অনুশীলন পদ্ধতি:
১. হাঁটু গেড়ে বসতে হবে। দুই হাঁটু ও দুই পায়ের পাতা জোড়া থাকবে এবং নিতম্ব গোড়ালির ওপর থাকবে। হাত হাঁটুর ওপর আরাম করে রাখতে হবে।
২. এবার হাত দুটো সোজা করে দুই কানের পাশ দিয়ে মাথার ওপর তুলে নমস্কারের ভঙ্গিতে তালু জোড়া করতে হবে এবং এক হাতের বুড়ো আঙুল দিয়ে অন্যটি জড়িয়ে ধরতে হবে। মেরুদণ্ড সোজা থাকবে।
৩. নিঃশ্বাস ছাড়তে ছাড়তে কোমর থেকে প্রণাম করার ভঙ্গিতে কপাল মাটিতে ঠেকাতে হবে। এ সময় নিতম্ব যেন গোড়ালি থেকে না ওঠে।
৪. শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রেখে ৩০ সেকেন্ড থেকে আস্তে আস্তে উঠে আগের অবস্থায় আসতে হবে। শেষে ৩০ সেকেন্ড শবাসনে বিশ্রাম নিতে হবে। এভাবে তিনবার করতে হবে। উচ্চ রক্তচাপ থাকলে এ আসন করা নিষেধ। - ঘ)
উত্তমের অনুশীলনকৃত আসনটি হলাসন। ‘হল’ অর্থ লাঙ্গল। এ আসনে দেহের ভঙ্গি লাঙ্গলের মতো হয়। উত্তম প্রতিদিন এ আসন অনুশীলন করে ডায়াবেটিস না হওয়া, পেটের চর্বি কমা, কাঁধ নরম হওয়া, বৃক্কের কার্যক্ষমতা বাড়া ও গ্যাসের সমস্যা দূর হওয়ার উপকার পেয়েছে। হলাসনের প্রভাব বহুমুখী।
১. মেরুদণ্ডের উপকার: হলাসন মেরুদণ্ডকে সুস্থ ও নমনীয় করে এবং এর স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখে। মেরুদণ্ড সংলগ্ন স্নায়ুকেন্দ্র ও পেশি সতেজ হয়। পিঠের ব্যথাও দূর হয়।
২. পেটের রোগ ও অঙ্গের কার্যক্ষমতা: কোষ্ঠবদ্ধতা, অজীর্ণ, পেট ফাঁপা প্রভৃতি পেটের রোগ দূর হয়। প্লীহা, যকৃৎ ও মূত্রাশয়ের কর্মক্ষমতা বাড়ে। উত্তমের গ্যাসের সমস্যা দূর হওয়া ও বৃক্কের কার্যক্ষমতা বাড়া এর প্রমাণ।
৩. মেদ হ্রাস ও রোগ প্রতিরোধ: পেট, কোমর ও নিতম্বের মেদ কমে দেহ সুঠাম হয়। ডায়াবেটিস, বাত বা সায়াটিকা কোনো দিন হতে পারে না।
৪. গ্রন্থি ও কাঁধ: থাইরয়েড, প্যারাথাইরয়েড, টনসিল প্রভৃতি গ্রন্থি সবল ও সক্রিয় হয়। যাদের কাঁধ শক্ত হয়ে গেছে, তাদের উপকার হয়।সুতরাং, হলাসন শরীর সুস্থ ও রোগমুক্ত রাখতে বহুমুখী ভূমিকা রাখে। তবে আমাশয়, হৃদরোগ বা উচ্চ রক্তচাপ থাকলে এটি করা উচিত নয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও