পৌরনীতি ও নাগরিকতা • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫
পৌরনীতি ও নাগরিকতা প্রশ্ন
'X' নামক সংস্থার সভাপতির একরোখা মনোভাব ও অসহযোগিতামূলক কার্যক্রমে অসন্তোষ প্রকাশ করেন সংস্থার সদস্যগণ। মারুফ সাহেবের নেতৃত্বে সদস্যগণ তাদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আন্দোলন শুরু করেন। এতে সভাপতি ক্ষিপ্ত হয়ে সংগঠন বিরোধী কার্যক্রমের অভিযোগে মারুফ সাহেবসহ বেশকিছু সদস্যকে সংস্থা থেকে বহিষ্কার করেন। বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার ও সভাপতির পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর হলে সভাপতি বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করেন। সদস্যপদ ফিরে পাওয়ার পর সদস্যগণ মারুফ সাহেবকে নতুন উপাধিসহ সংস্থার নতুন সভাপতি পদে নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী করেন।
- ক)(1)
দ্বিজাতি তত্ত্ব কে ঘোষণা করেন?
- খ)(2)
"এ রাষ্ট্রের প্রতিটি ধূলিকণাকে ভালোবাসাই হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের প্রধান শিক্ষা"-ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে মারুফ সাহেবের আন্দোলনের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের যে আন্দোলনের মিল রয়েছে তা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
মারুফ সাহেবের বিপুল ভোটে বিজয়ী হওয়ার নির্বাচনের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের যে নির্বাচনের মিল রয়েছে তার তাৎপর্যসহ ফলাফল বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
দ্বিজাতি তত্ত্ব ঘোষণা করেন মুহম্মদ আলী জিন্নাহ।
- খ)
মুক্তিযুদ্ধে অগণিত মানুষ জীবন ও সম্ভ্রম উৎসর্গ করে দেশকে স্বাধীন করেছে। তাই প্রতিটি নাগরিকের উচিত দেশের মাটি, মানুষ, প্রকৃতি ও সম্পদকে ভালোবাসা।
এ উক্তির মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধের প্রধান শিক্ষা হলো গভীর দেশপ্রেম। দেশের প্রতি এই ভালোবাসা থাকলেই আমরা দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও উন্নয়ন রক্ষা করতে পারব।
- গ)
উদ্দীপকে মারুফ সাহেবের আন্দোলনের সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের মিল রয়েছে।
উদ্দীপকে সভাপতির একরোখা মনোভাবের বিরুদ্ধে সদস্যরা ন্যায্য অধিকারের আন্দোলন করেন। মারুফ সাহেবসহ অনেককে বহিষ্কার করা হয়। আন্দোলন তীব্র হলে সভাপতি বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করেন। একইভাবে ১৯৬৯ সালে পাকিস্তানি শাসকদের অবহেলা ও শোষণের বিরুদ্ধে বাঙালিরা আন্দোলন করে। আগরতলা মামলায় শেখ মুজিবুর রহমানসহ অভিযুক্তদের আটক করা হয়। গণআন্দোলনের চাপে সরকার মামলা প্রত্যাহার করে এবং তাদের মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। আইয়ুব খান পদত্যাগে বাধ্য হন। তাই দুটি আন্দোলনের মিল স্পষ্ট।
- ঘ)
মারুফ সাহেবের বিপুল ভোটে বিজয়ী হওয়ার নির্বাচনের সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনের মিল রয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের পর সেনাশাসক সাধারণ নির্বাচন দিতে বাধ্য হন। শেখ মুজিবুর রহমান 'বঙ্গবন্ধু' উপাধি পান। উদ্দীপকে মারুফ সাহেব নতুন উপাধিসহ সভাপতি হন, যা এ ঘটনার সাথে মেলে।
তাৎপর্য ও ফলাফল:
১. ফলাফল: এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদে পূর্ব পাকিস্তানের ১৬২টি সাধারণ আসনের মধ্যে ১৬০টি এবং প্রাদেশিক পরিষদের ৩০০টি সাধারণ আসনের মধ্যে ২৮৮টি আসন লাভ করে। এতে আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়।
২. ছয় দফার প্রতি গণরায়: এ বিজয় ছিল ছয় দফা ও স্বায়ত্তশাসনের পক্ষে বাঙালির স্পষ্ট রায়।
৩. বাঙালি জাতীয়তাবাদ: নির্বাচন বাঙালির জাতীয় ঐক্য ও জাতীয়তাবাদী চেতনাকে শক্তিশালী করে।
৪. স্বাধীনতা আন্দোলনের পথ তৈরি: পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তর না করায় বাঙালি স্বাধীনতার দাবিতে এগিয়ে যায়।সুতরাং, ১৯৭০ সালের নির্বাচন বাঙালির স্বাধীনতা অর্জনের পথে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও