বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৬
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন
অয়ন বিশ্বাস ভার এলাকায় ১০০০ বিঘা সম্পত্তির মালিক। তিনি ছোট ছোট চাষীদের মাধ্যমে এই জমি অল্প অল্প সময়ের জন্য চাষ করতে দতেন। কিন্তু তারা দীর্ঘস্থায়ী ভিত্তিতে জমি দাবি করলে তিনি দীর্ঘস্থায়ী উত্তিতেই জমি তাদেরকে বরাদ্দ দেন।
- ক)(1)
দেওয়ানি কী?
- খ)(2)
দ্বৈত শাসন কী? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে জমি স্থায়ীভাবে বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়টি তোমার পাঠ্যপুস্তকের যে বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত উত্ত বিষয়ের বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করো ।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের 'বন্দোবস্ত তখনকার দিনে অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছিল' বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
দেওয়ানি হলো রাজস্ব আদায় ও দেওয়ানি বিচারের ক্ষমতা, যা ১৭৬৫ সালে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি লাভ করে।
- খ)
দ্বৈত শাসন হলো এমন শাসনব্যবস্থা, যেখানে ক্ষমতা ও দায়িত্ব দুই পক্ষের হাতে ভাগ থাকে। ১৭৬৫ সালে ক্লাইভ বাংলায় এটি চালু করেন। রাজস্ব আদায়ের ক্ষমতা ছিল ইংরেজ কোম্পানির হাতে, আর শাসন ও বিচারের দায়িত্ব ছিল নবাবের হাতে। ক্ষমতা একপক্ষের ও দায়িত্ব অন্যপক্ষের থাকায় এতে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।
- গ)
উদ্দীপকে জমি স্থায়ীভাবে বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়টি পাঠ্যবইয়ের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত বিষয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত।
চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের বৈশিষ্ট্য হলো:
১. ১৭৯৩ সালে লর্ড কর্নওয়ালিস এটি প্রবর্তন করেন।
২. জমিদাররা স্থায়ীভাবে জমির মালিক হন।
৩. সরকারের রাজস্ব চিরকালের জন্য নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়।
৪. নির্দিষ্ট দিনে খাজনা না দিলে জমিদারি নিলাম হতো, যাকে সূর্যাস্ত আইন বলা হয়। - ঘ)
উদ্দীপকের বন্দোবস্ত অর্থাৎ চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত তখনকার দিনে অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়ক ছিল।
১. সরকারের রাজস্বের পরিমাণ চিরদিনের জন্য নির্দিষ্ট হওয়ায় আয়ের হিসাব সহজ হয় এবং প্রশাসনিক ব্যয়ের পরিকল্পনা করা যায়।
২. জমিদারদের মালিকানা স্থায়ী হওয়ায় তাঁরা জমির উন্নয়ন ও চাষাবাদে মনোযোগী হন।
৩. নির্দিষ্ট দিনে রাজস্ব আদায়ের বাধ্যবাধকতা থাকায় রাজস্ব আদায়ে নিয়মিত শৃঙ্খলা আসে।সুতরাং, চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত তখনকার অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়ক ভূমিকা পালন করেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও