হিন্দু ধর্ম • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৪
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
রবেন বাবু একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। সংগঠনটির নামের মধ্যেই তার পরিচয় পাওয়া যায়। সংগঠনের কাজের জন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নিকট থেকে কোনো টাকা পয়সা চেয়ে নেওয়া যাবে না। আত্মনির্ভরশীল হয়ে সমাজের কল্যাণে কাজ করাই এ সংগঠনের উদ্দেশ্য। অন্যদিকে, রমেশ বাবু কিছু ভালো লোকদের নিয়ে আর একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। সংগঠনটি পাঁচটি মূলনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়। ধর্ম ও বিজ্ঞানকে এক সাথে করে জীবন গঠন করা এ সংগঠনের কাজ।
- ক)(1)
নৃ-যজ্ঞ কী?
- খ)(2)
ভক্তিযোগ বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
রবেন বাবুর কর্মকাণ্ডের সাথে কোন মহাপুরুষের মিল আছে? তা পাঠ্যপুস্তকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের রমেশ বাবুর প্রতিষ্ঠিত সংগঠনের প্রধান নীতিগুলোর মাধ্যমে কী আদর্শ মানুষ গড়ে তোলা সম্ভব? সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
অতিথি সেবা বা মানুষের সেবা করাকে নৃ-যজ্ঞ বলে।
- খ)
ভক্তিকে অবলম্বন করে ঈশ্বর আরাধনা করাকে ভক্তিযোগ বলে। ঈশ্বরের প্রতি ঐকান্তিক প্রেম বা ভালোবাসাই ভক্তি। এ পথে ভক্ত ভগবানের শ্রীচরণে আত্মসমর্পণ করেন। এর মূলে থাকে গভীর বিশ্বাস। ভক্তি মানব হৃদয়ের একটি সুকুমার বৃত্তি। শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার দ্বাদশ অধ্যায়ের নাম ভক্তিযোগ।
- গ)
রবেন বাবুর কর্মকাণ্ডের সাথে মহাপুরুষ স্বামী স্বরূপানন্দ পরমহংসের মিল আছে।
স্বামী স্বরূপানন্দ ১৮৯৩ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশের চাঁদপুরে আবির্ভূত হন। তিনি ‘অযাচক আশ্রম’ প্রতিষ্ঠা করেন, যার নামের মধ্যেই এর বৈশিষ্ট্য ফুটে ওঠে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে অর্থ যাচ্ঞা না করা এ সংগঠনের আদর্শ। স্বাবলম্বী হয়ে সমাজের কল্যাণে কাজ করাই এর মুখ্য উদ্দেশ্য। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সমবেত উপাসনা, চরিত্র গঠন, সমাজ সংস্কার, ব্রহ্মচর্য ও স্বাবলম্বন এ আশ্রমের বৈশিষ্ট্য। তিনি ১৯১৪ সালে চরিত্র গঠন আন্দোলন শুরু করেন।
উদ্দীপকে রবেন বাবুর সংগঠনের নামের মধ্যেই পরিচয় পাওয়া যায়, কারো কাছে অর্থ চেয়ে নেওয়া যাবে না এবং আত্মনির্ভরশীল হয়ে সমাজের কল্যাণে কাজ করাই উদ্দেশ্য। এসব বৈশিষ্ট্য অযাচক আশ্রমের সাথে মিলে যায়।
সুতরাং, রবেন বাবুর কর্মকাণ্ডে স্বামী স্বরূপানন্দের আদর্শ প্রতিফলিত হয়েছে।
- ঘ)
হ্যাঁ, রমেশ বাবুর সংগঠনের নীতিগুলোর মাধ্যমে আদর্শ মানুষ গড়ে তোলা সম্ভব। উদ্দীপকের সংগঠনটি ঠাকুর অনুকূলচন্দ্র প্রতিষ্ঠিত সৎসঙ্গ-এর সাথে সম্পর্কিত। তিনি ১৮৮৮ সালে পাবনার হিমায়িতপুরে আবির্ভূত হন। সৎসঙ্গের পাঁচটি মূলনীতি হলো যজন, যাজন, ইষ্টভৃতি, স্বস্ত্যয়নী ও সদাচার। শিক্ষা, কৃষি, শিল্প ও সুবিবাহ এর মূল স্তম্ভ। ধর্ম ও বিজ্ঞানকে একত্র করে জীবন গঠন করাই এর আদর্শ। সৎসঙ্গ চায় আদর্শ মানুষ, আদর্শ গৃহী ও আদর্শ ধর্মযাজক।
১. ধর্ম ও বিজ্ঞানের সমন্বয়: সৎসঙ্গ মনে করে ধর্ম অলৌকিক ব্যাপার নয়, বরং বিজ্ঞানসিদ্ধ জীবনসূত্র। ফলে মানুষ কুসংস্কারমুক্ত ও যুক্তিবাদী হয়।
২. সদাচার ও ইষ্টভৃতি: সদাচার চরিত্রকে উন্নত করে এবং ইষ্টভৃতি ঈশ্বর ও আদর্শের প্রতি নিষ্ঠা বাড়ায়। এতে ব্যক্তি নৈতিক ও সংযমী হয়।
৩. যজন ও যাজন: যজনে ব্যক্তি নিজে ধর্মচর্চা করে এবং যাজনে অন্যকে সেই পথে অনুপ্রাণিত করে। এভাবে আদর্শ সমাজ গড়ে ওঠে।
৪. শিক্ষা, কৃষি ও শিল্পের গুরুত্ব: এ স্তম্ভগুলো মানুষকে কর্মঠ ও স্বাবলম্বী করে এবং সুবিবাহ সুস্থ ও সুন্দর পরিবার গঠনে সহায়ক।সুতরাং, ধর্ম ও বিজ্ঞানের সমন্বয়, সদাচার, শিক্ষা ও কর্মের মাধ্যমে সৎসঙ্গের নীতিগুলো আদর্শ মানুষ গড়ে তুলতে পারে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও