কৃষিশিক্ষা • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২২
কৃষিশিক্ষা প্রশ্ন
- ক)(1)
সরিষা কোন ধরনের ফসল?
- খ)(2)
আধুনিক ধান বলতে কী বোঝ? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের চিত্রের পোকাটির আক্রমণের প্রক্রিয়াসমূহ বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত চিত্রের পোকাটির দমন পদ্ধতি বিশ্লেষণ করো ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
সরিষা তেলবীজ জাতীয় ফসল।
- খ)
গবেষণার মাধ্যমে উদ্ভাবিত যেসব ধানের জাত বেশি ফলন দেয়, স্বল্প জীবনকালের এবং সার-সেচ সাপেক্ষ, সেগুলোকে আধুনিক ধান বা উচ্চফলনশীল (উফশী) ধান বলে। যেমন: ব্রি ধান ২৮, ব্রি ধান ২৯। এসব জাতে সঠিক পরিমাণে সার, সেচ ও পরিচর্যা দিলে স্থানীয় ধানের চেয়ে অনেক বেশি ফলন পাওয়া যায়।
- গ)
চিত্রের পোকাটি বিছা পোকা। এটি লোমশ কীড়া অবস্থায় ফসলের বেশি ক্ষতি করে।
আক্রমণের প্রক্রিয়া:
১. পূর্ণাঙ্গ মথ পাতার নিচের পিঠে গুচ্ছাকারে ডিম পাড়ে।
২. ডিম ফুটে কীড়া বের হয়ে প্রথমে দলবদ্ধভাবে পাতার সবুজ অংশ (ক্লোরোফিল) খেতে থাকে।
৩. কীড়া বড় হলে ছড়িয়ে পড়ে এবং পাতা, কচি ডগা ও কখনো ফল খেয়ে ফেলে। ফলে গাছ পাতাহীন হয়ে পড়ে।
৪. আক্রমণ বেশি হলে সালোকসংশ্লেষণ কমে গিয়ে ফসলের ফলন ব্যাপকভাবে হ্রাস পায়।
৫. কীড়া শেষে মাটিতে বা ঝরা পাতায় মূককীটে পরিণত হয়ে পুনরায় মথে রূপান্তরিত হয়। - ঘ)
বিছা পোকা দমনের পদ্ধতি নিচে বিশ্লেষণ করা হলো।
১. যান্ত্রিক পদ্ধতি: ডিমের গুচ্ছসহ পাতা ও দলবদ্ধ কীড়া হাত দিয়ে বা হাতজাল দিয়ে সংগ্রহ করে ধ্বংস করা।
২. শস্য আবর্তন ও চাষ পদ্ধতি: জমি গভীরভাবে চাষ করলে মাটির নিচের মূককীট বের হয়ে নষ্ট হয়। আগাছা পরিষ্কার রাখলেও পোকার আশ্রয় কমে।
৩. আলোর ফাঁদ: রাতে আলোর ফাঁদ পেতে পূর্ণাঙ্গ মথ ধরে ধ্বংস করা।
৪. জৈব পদ্ধতি: পাখি বসার জন্য খুঁটি পুঁতে দিলে পাখি কীড়া খায়। এছাড়া পরজীবী পোকার সংরক্ষণ উপকারী।
৫. রাসায়নিক পদ্ধতি: আক্রমণ বেশি হলে কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে অনুমোদিত কীটনাশক নির্ধারিত মাত্রায় প্রয়োগ করা।সুতরাং, সমন্বিত পদ্ধতিতে দমন করলে কম খরচে ও পরিবেশের ক্ষতি ছাড়াই বিছা পোকা নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও