বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৪
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন
একটি প্রদেশের শাসক তরুণ বয়সে রাজ্যের শাসনভার গ্রহণ করেন। কিন্তু তার ঘনিষ্ঠজন এবং দেশি-বিদেশি বণিক শ্রেণি ও সেনাপতিসহ অনেকেই নিজ নিজ স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে শাসকের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করে। ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে শাসক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন এবং পরাজিত ও নিহত হন।
- ক)(1)
'চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত' প্রবর্তন করেন কে?
- খ)(2)
'অন্ধকূপ হত্যা' কী? ব্যাখ্যা করো।-
- গ)(3)
উদ্দীপকের ঘটনাটি বাংলার কোন ঐতিহাসিক ঘটনাকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উক্ত ঘটনার ফলে বাংলা প্রায় দুইশত বছরের পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ হয়-বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন লর্ড কর্নওয়ালিস।
- খ)
অন্ধকূপ হত্যা ১৭৫৬ সালের জুন মাসে কলকাতার ফোর্ট উইলিয়ামে ঘটেছে বলে ইংরেজদের দাবি। তাদের মতে, নবাব সিরাজউদ্দৌলার সৈন্যরা কলকাতা দখলের পর ১৪৬ জন ইংরেজ বন্দিকে একটি ছোট কক্ষে আটক রাখে এবং রাতে শ্বাসরোধে অনেকে মারা যায়। ঘটনাটির সত্যতা নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ আছে।
- গ)
উদ্দীপকের তরুণ শাসক, তাঁর ঘনিষ্ঠজন, বণিক ও সেনাপতিদের ষড়যন্ত্র এবং যুদ্ধে পরাজয় ও মৃত্যু ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধকে নির্দেশ করে।
তরুণ নবাব সিরাজউদ্দৌলা অল্প বয়সে সিংহাসনে বসেন। মীর জাফর (সেনাপতি), জগৎশেঠ ও উমিচাঁদের মতো বণিক এবং ঘসেটি বেগম প্রমুখ ষড়যন্ত্র করেন। তাঁরা ইংরেজদের সঙ্গে হাত মেলান। পলাশীর প্রান্তরে সিরাজউদ্দৌলা পরাজিত হন এবং পরে নিহত হন। - ঘ)
পলাশীর যুদ্ধের ফলে বাংলায় ১৭৫৭ সাল থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত প্রায় দুইশত বছরের পরাধীনতা শুরু হয়।
১. রাজনৈতিক: নবাবের পতনের পর মীর জাফর পুতুল নবাব হন এবং আসল ক্ষমতা ইংরেজ কোম্পানির হাতে চলে যায়। পরে বক্সারের যুদ্ধ ও দেওয়ানি লাভ (১৭৬৫) তাদের অবস্থান পাকাপোক্ত করে।
২. অর্থনৈতিক: কোম্পানি বাংলার সম্পদ লুণ্ঠন করে ইংল্যান্ডে পাঠায়, ফলে বাংলা দরিদ্র হয় এবং ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের মতো দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়।
৩. সামাজিক: দেশীয় শিল্প, বিশেষ করে বয়নশিল্প ধ্বংস হয়।
সুতরাং, পলাশীর যুদ্ধ বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্ত যাওয়ার সূচনা ঘটায় এবং দীর্ঘ ঔপনিবেশিক শাসনের পথ খুলে দেয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও