ইসলাম • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২০

ইসলাম প্রশ্ন

জনাব 'ক' একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। তিনি অফিসের কাজকর্ম করতে গিয়ে লোকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেন। তার স্ত্রী সাবিহা তাকে এ সমস্ত টাকা নিতে নিষেধ করলে তিনি বলেন, এ টাকা বৈধ। কারণ আমি দ্রুত তাদের কাজ করে দেই। 'সাবিহার কোনো সন্তান না থাকায় সে মিরপুর মাজারে গিয়ে পির বাবার কাছে সন্তান চাইল। তার স্বামী বলল, 'পির বাবার সন্তান দেওয়ার ক্ষমতা নেই। তুমিতো আল্লাহর কাছে দোয়া করতে পারতে। আমাদের সবকিছু তাঁর হাতে।'

  1. ক)

    ইসলাম কী?

    (1)
  2. খ)

    নবি-রাসুল প্রেরণের কারণ ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    জনাব 'ক' এর ধারণাটি কীসের শামিল? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    সাবিহার কর্মটি চিহ্নিতপূর্বক তার স্বামীর মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    ইসলাম আরবি শব্দ; এর অর্থ আত্মসমর্পণ ও শান্তি। আল্লাহর কাছে নিজেকে সম্পূর্ণ সমর্পণ করে তাঁর আদেশ-নিষেধ মেনে চলাকে ইসলাম বলে।

  2. খ)

    আল্লাহ মানুষকে সঠিক পথের দিশা দেওয়ার জন্য নবি-রাসুল পাঠিয়েছেন। মানুষ নিজের বুদ্ধিতে আল্লাহর পরিচয়, তাঁর ইবাদতের নিয়ম ও জীবনের সঠিক আদর্শ পুরোপুরি জানতে পারে না। নবি-রাসুলগণ আল্লাহর বাণী পৌঁছে দিয়েছেন, সৎকাজের সুসংবাদ ও অসৎকাজের সতর্কবার্তা দিয়েছেন। কুরআনে বলা হয়েছে, রাসুলদের পাঠানো হয়েছে যেন রাসুল আসার পর মানুষের আল্লাহর বিরুদ্ধে কোনো অজুহাত না থাকে (সূরা নিসা, ১৬৫)। এ ছাড়া তাঁরা নিজের জীবনের মাধ্যমে আদর্শ উদাহরণ দেখিয়েছেন।

  3. গ)

    জনাব 'ক'-এর ধারণা, অতিরিক্ত টাকা নেওয়া বৈধ কারণ তিনি দ্রুত কাজ করে দেন। এই ধারণাটি ঘুষকে বৈধ মনে করার শামিল।

    ব্যাখ্যা: দায়িত্ব পালনের বিনিময়ে বিধিবহির্ভূতভাবে অর্থ নেওয়াকে ঘুষ বলে। কাজ দ্রুত করার যুক্তি দিয়ে একে বৈধ বলা যায় না। রাসুল (স) ঘুষদাতা ও ঘুষগ্রহীতা উভয়কে অভিশাপ দিয়েছেন। হারামকে হালাল মনে করা আরও বড় গুনাহ। ঘুষে অন্যের অধিকার নষ্ট হয়, দুর্নীতি বাড়ে এবং সমাজে অবিচার ছড়ায়। তাই জনাব 'ক'-এর ধারণা ইসলামের দৃষ্টিতে ভুল ও নিন্দনীয়।

  4. ঘ)

    সাবিহার কর্মটি শিরক। তিনি সন্তান লাভের আশায় মাজারে গিয়ে পীর বাবার কাছে প্রার্থনা করেছেন। অথচ সন্তান দেওয়ার ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহর। স্বামীর মন্তব্য, পীর বাবার সন্তান দেওয়ার ক্ষমতা নেই; আল্লাহর কাছে দোয়া করা উচিত, কারণ সবকিছু তাঁর হাতে। এই মন্তব্য তাওহিদভিত্তিক ও যথার্থ।

    ১. কুরআনের আলোকে: আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পুত্র বা কন্যা দেন, আবার যাকে ইচ্ছা নিঃসন্তান রাখেন (সূরা শুরা, ৪৯-৫০)। তাই সন্তান চাইতে হলে আল্লাহর কাছেই চাইতে হবে।
    ২. ইবাদতে একত্ববাদ: আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও কাছে সাহায্য চাওয়া শিরক। আল্লাহ শিরকের গুনাহ ক্ষমা করেন না (সূরা নিসা, ৪৮)।
    ৩. বাস্তবতা: পীর বা মাজারের নিজস্ব কোনো ক্ষমতা নেই। সব ক্ষমতা আল্লাহর।

    সুতরাং, সাবিহার কাজ ভুল ও স্বামীর মন্তব্য সঠিক। তবে স্বামীরও ঘুষ গ্রহণের মতো হারাম কাজ ত্যাগ করা উচিত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন