ইসলাম • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২০
ইসলাম প্রশ্ন
জনাব আবদুল হালিম এলাকায় একজন সম্পদশালী ব্যক্তি। এলাকাবাসী তাদের পানির সমস্যার কথা তাকে জানালে তিনি সমস্যা দূরীকরণে দুটি গভীর নলকূপ স্থাপন করেন। এছাড়া এলাকার মসজিদসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় সমস্যা সমাধানে প্রচুর অর্থ ব্যয় করে থাকেন। অন্যদিকে শিল্পপতি আশরাফ সাহেব নিজের আত্মীয়দের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ করে বাড়ি ফেরার সময় রাস্তার মোড়ে দেখেন, একজন বৃদ্ধলোক তার পরিবার নিয়ে শীতে কাঁপছে। তিনি তাড়াতাড়ি বাড়ি এসে বৃদ্ধের পরিবারের সকলের জন্য শীতবস্ত্র সংগ্রহ করে তাদের মাঝে বিতরণ করেন। তার আচরণে বৃদ্ধ লোকটি আবেগাপ্লুত হয়ে বললেন, আপনার কর্ম সকল মানুষের জন্য অনুকরণীয়।
- ক)(1)
বায়তুল হিকমা কী?
- খ)(2)
কোন মুসলিম মনীষীকে 'হুজ্জাতুল ইসলাম' বলা হয়? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
জনাব আবদুল হালিমের কর্মকাণ্ড কোন খলিফার অবদানের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
জনাব আশরাফ সাহেবের কর্মকাণ্ডের সাথে যে খলিফার আদর্শের মিল রয়েছে তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
বায়তুল হিকমা হলো আব্বাসীয় আমলে বাগদাদে প্রতিষ্ঠিত একটি বিখ্যাত জ্ঞানকেন্দ্র, যেখানে গ্রন্থাগার, গবেষণা ও অনুবাদের কাজ হতো। এটি জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার কেন্দ্র ছিল।
- খ)
ইমাম গাজালি (র)-কে 'হুজ্জাতুল ইসলাম' বলা হয়। হুজ্জাত অর্থ প্রমাণ বা যুক্তি। তিনি ইসলামের মৌলিক বিশ্বাস ও আদর্শের পক্ষে যুক্তি ও দর্শনের মাধ্যমে বিরোধীদের মোকাবিলা করেছিলেন। তাঁর রচিত 'ইহইয়াউ উলুমিদ্দীন' গ্রন্থ ইসলামের জ্ঞান ও আধ্যাত্মিকতার ভিত্তি মজবুত করেছে। ইসলামের সঠিক ব্যাখ্যা ও প্রতিরক্ষায় অবদানের জন্য তাঁকে এই উপাধি দেওয়া হয়েছে।
- গ)
জনাব আবদুল হালিমের কর্মকাণ্ড হযরত উসমান (রা)-এর অবদানের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
হযরত উসমান (রা) ছিলেন অত্যন্ত ধনী ও দানশীল সাহাবি। মদিনায় পানির সংকটের সময় তিনি রুমা নামক কূপ কিনে মুসলমানদের জন্য ওয়াকফ করে দেন। তিনি মসজিদে নববীর সম্প্রসারণের জন্য জমি কিনে দেন এবং তাবুক অভিযানের খরচ বহনে বিপুল অর্থ দান করেন। উদ্দীপকে আবদুল হালিম এলাকাবাসীর পানির সমস্যা দূর করতে নলকূপ বসিয়েছেন এবং মসজিদসহ প্রতিষ্ঠানের সমস্যা সমাধানে অর্থ ব্যয় করেছেন। তাই দুজনের কাজে মিল রয়েছে।
- ঘ)
আশরাফ সাহেবের কর্মকাণ্ডের সাথে হযরত উমর (রা)-এর আদর্শের মিল রয়েছে। আশরাফ সাহেব দেখতে পান শীতে কাঁপা এক বৃদ্ধ পরিবার, এবং তিনি দ্রুত সবার জন্য শীতবস্ত্র সংগ্রহ করে তা বিতরণ করেন। হযরত উমর (রা)-ও প্রজাদের অবস্থা জানতে রাতে ঘুরে বেড়াতেন এবং অভাবীদের সাহায্য করতেন।
হযরত উমর (রা)-এর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য:
১. প্রজাদরদি: তিনি নিজে প্রজাদের খোঁজখবর নিতেন এবং অভাবী মানুষের জন্য নিজে খাবার বহন করে পৌঁছে দিতেন।
২. ন্যায়পরায়ণতা: তিনি রাষ্ট্র পরিচালনায় ধনী-গরিব ও শাসক-প্রজার মধ্যে কোনো ভেদাভেদ করতেন না।
৩. সাদাসিধে জীবন ও খোদাভীতি: খলিফা হয়েও তিনি সাধারণ জীবনযাপন করতেন এবং আল্লাহর কাছে জবাবদিহির ভয় রাখতেন।সুতরাং, আশরাফ সাহেবের মানবসেবা হযরত উমর (রা)-এর প্রজাদরদি আদর্শেরই প্রতিফলন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও