হিন্দু ধর্ম • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৪
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
সাগর বাবু একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। তিনি তার পছন্দের পাত্রীকে বিয়ে করেন। কিন্তু পাত্রী পক্ষ থেকে কোনো জিনিসপত্র গ্রহণ করেননি। অপরদিকে নিলয় বাবুর বাবা মারা যাওয়ার পর কিছু দিন সবজি ও ফলাহার করেন এবং সংযমী জীবনযাপন করেন।
- ক)(1)
সমাবর্তন কাকে বলে?
- খ)(2)
কোন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বর-কনে আমৃত্যু বাঁধা হয়ে থাকে? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
সাগর বাবুর চরিত্রে পাঠ্যপুস্তকের কোন দিকটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
নিলয় বাবুর পালনকৃত আচরণটির গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
পাঠ শেষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা গুরুগৃহ থেকে নিজগৃহে ফিরে আসার সময় যে অনুষ্ঠান হয়, তাকে সমাবর্তন বলে।
- খ)
যজ্ঞানুষ্ঠান ও সাতপাকে বাঁধার মাধ্যমে বর-কনে আমৃত্যু বাঁধা হয়ে থাকে। সম্প্রদান পর্বের পরে বর্গাকার যজ্ঞক্ষেত্র তৈরি করে বেদমন্ত্র উচ্চারণ করে অহংকার, হিংসা, বিদ্বেষসহ সকল অসাধু চিন্তারূপী ঘি-মাখা আমপাতা আগুনে আহুতি দেওয়া হয়। এরপর অগ্নিকে সাতবার প্রদক্ষিণ করে প্রণাম করতে হয়। এভাবে সাতপাকে বেঁধে নবদম্পতি বিশুদ্ধ নতুন জীবন লাভ করে। এই অনুষ্ঠানে অগ্নিদেবের কাছে বর-কনে আমৃত্যু বাঁধা হয়ে থাকে।
- গ)
সাগর বাবুর চরিত্রে পাঠ্যপুস্তকের পণপ্রথা বর্জনের দিকটি ফুটে উঠেছে।
পাঠ্যের ধারণা: কন্যাকে পাত্রস্থ করার সময় বরপক্ষকে যদি নগদ অর্থ বা সম্পদ দিতে হয়, তাকে পণ বা যৌতুক বলে। পাঠ্যবইয়ে একে 'পণপ্রথা অধর্ম' বলা হয়েছে। এটি একটি সামাজিক ব্যাধি। পণ গ্রহণ ও প্রদান দুটোই সমান অপরাধ। বর্তমান সমাজে এ প্রথা নিন্দনীয় এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষিদ্ধ।
উদ্দীপকের সঙ্গে সম্পর্ক: উদ্দীপকের সাগর বাবু একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। তিনি নিজের পছন্দের পাত্রীকে বিয়ে করেন কিন্তু পাত্রীপক্ষ থেকে কোনো জিনিসপত্র গ্রহণ করেননি। অর্থাৎ তিনি যৌতুক নেননি। এর মাধ্যমে তিনি পণপ্রথার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন এবং ধর্মীয় ও সামাজিক নীতি মেনেছেন।
অতএব, সাগর বাবুর চরিত্রে পণপ্রথা বর্জন ও আদর্শ বিবাহের দৃষ্টান্ত ফুটে উঠেছে।
- ঘ)
নিলয় বাবুর পালনকৃত আচরণটি হলো অশৌচ পালন। উদ্দীপকে তাঁর বাবা মারা যাওয়ার পর কিছুদিন তিনি সবজি ও ফলাহার করে সংযমী জীবনযাপন করেন, যা অশৌচকালের নিয়ম। অশৌচের গুরুত্ব নিচে বিশ্লেষণ করা হলো।
'শৌচ' অর্থ শুচিতা, তাই 'অশৌচ' অর্থ শুচিতা বা পবিত্রতার অভাব। মাতা-পিতা বা জ্ঞাতিবর্গের মৃত্যুতে অশৌচ হয়। অশৌচকালে হবিষ্যান্ন বা ফলফলাদি খেয়ে কঠোর সংযম পালন করে শ্রাদ্ধ করার উপযোগিতা অর্জন করতে হয়।
১. ধর্মীয় গুরুত্ব: প্রিয়জনের মৃত্যুতে মন শোকাচ্ছন্ন থাকে, ফলে চিত্ত সাধন-ভজনের উপযোগী থাকে না। কঠোর সংযমের মাধ্যমে মনকে পবিত্র ও শান্ত করে শ্রাদ্ধের জন্য প্রস্তুত করা যায়। কোনো কোনো ঋষির মতে এ সময়কে অশৌচ না বলে ব্রহ্মচর্যকাল বলা বিধেয়।
২. মানসিক গুরুত্ব: পিতা-মাতার হঠাৎ চির অনুপস্থিতি সন্তানকে বিচলিত করে। বিচলিত মনে ঈশ্বরের প্রতি একাগ্রতা আসে না। অশৌচ পালনের সময় ধীরে ধীরে মন শান্ত হয় ও মনে প্রশান্তি ফিরে আসে।
৩. শ্রদ্ধা প্রদর্শন ও আত্মার শান্তি: অশৌচ পালন করে মৃত ব্যক্তির পরিবার ও জ্ঞাতিবর্গ তাঁর আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করেন। এ সময় তুলসী গাছ রোপণ করে মৃতের উদ্দেশে জল ও দুধ দেওয়া হয়।
৪. সামাজিক গুরুত্ব: এতে আত্মীয়স্বজন একত্র হয় এবং সামাজিক ও পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় হয়। অশৌচান্তে মস্তক মুণ্ডন ও নববস্ত্র পরিধান করে পরবর্তী দিনে শ্রাদ্ধ করা হয়।সুতরাং, অশৌচ পালন ধর্মীয় বিধান হওয়ার পাশাপাশি মানসিক শান্তি, মৃতের প্রতি শ্রদ্ধা ও সামাজিক বন্ধন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও