হিন্দু ধর্ম • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৪

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

সুজন তার বাবার একমাত্র সন্তান। বাবার হঠাৎ মৃত্যুতে সে শোকে বিহ্বল হয়ে পড়ে। মৃত্যুর পর পাড়া-প্রতিবেশীরা তার বাবার দেহটিকে বস্ত্রাবৃত ও মালা চন্দনাদি দ্বারা বিভূষিত করে শ্মশানে নিয়ে যায়। আমকাঠ বা চন্দনকাঠ দিয়ে চিতা সাজানোর পর সে পিতার মুখাগ্নি করে। শাস্ত্রানুযায়ী মৃতব্যক্তির পরিবার ও জ্ঞাতিবর্গ অশৌচ পালন করে তার আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেন।

  1. ক)

    জাতকর্ম কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    'চাতুর্বর্নং ময়া সৃষ্টং গুণকর্মবিভাগশঃ'-উক্তিটি বুঝিয়ে লেখো।

    (2)
  3. গ)

    সুজনের বাবার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া তোমার পাঠের আলোকে বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    সুজনের বাবার অশৌচ পালনের যৌক্তিকতা তোমার পঠিত বিষয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    জন্মের পর পিতা যব, যষ্টিমধু ও ঘৃত দিয়ে সন্তানের জিহ্বা স্পর্শ করে মন্ত্রোচ্চারণ করেন, একে জাতকর্ম বলে।

  2. খ)

    ‘চাতুর্বর্ণ্যং ময়া সৃষ্টং গুণকর্মবিভাগশঃ’ শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণের উক্তি। এর অর্থ হলো গুণ ও কর্মের বিভাগ অনুসারে আমিই চারটি বর্ণ সৃষ্টি করেছি। অর্থাৎ জন্ম দিয়ে নয়, কর্ম ও গুণের ভিত্তিতে বর্ণ নির্ধারিত হয়। যে যেমন পেশায় নিয়োজিত, তার বর্ণ সে অনুযায়ী হয়। তাই আচার-অনুষ্ঠানে সব বর্ণের জন্য একই বিধান থাকা উচিত।

  3. গ)

    সুজনের বাবার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার বর্ণনা পাঠ্যপুস্তকের বিধান অনুযায়ী নিম্নরূপ।

    ‘অন্ত্য’ অর্থ শেষ এবং ‘ইষ্টি’ অর্থ যজ্ঞ। অন্ত্যেষ্টি মানে শেষযজ্ঞ, অর্থাৎ অগ্নিতে মৃতদেহকে আহুতি দেওয়া। আত্মা বেরিয়ে গেলে দেহ জড়বস্তুতে পরিণত হয়ে পচতে শুরু করে। তাই শাস্ত্রে মৃতদেহের সৎকারের বিধান আছে, যাকে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া বলা হয়।

    মৃত্যুর পর দেহটিকে বস্ত্রাবৃত ও মালা-চন্দনে ভূষিত করে শ্মশানে নেওয়া হয়। সেখানে কুশের ওপর শয়ন করিয়ে দাহাধিকারী তেল ও কাঁচা হলুদ মাখিয়ে স্নান করান। এরপর নতুন কাপড়, মালা ও কপালে চন্দন দেওয়া হয় এবং সপ্তছিদ্র স্বর্ণ বা কাঁসা দিয়ে ঢাকা হয়। তারপর পিণ্ডদান করা হয়। আমকাষ্ঠ বা চন্দনকাষ্ঠ দিয়ে চিতা সাজিয়ে শবকে শোয়ানো হয়। অগ্নিদানের আগে শবদেহ সাত বা তিনবার প্রদক্ষিণ করে মন্ত্র পাঠ করতে হয়। এরপর জ্যেষ্ঠ পুত্র মুখাগ্নি করেন।

    উদ্দীপকে সুজনের বাবার দেহকে বস্ত্রাবৃত ও মালা-চন্দনে ভূষিত করে শ্মশানে নেওয়া হয়েছে, আমকাঠ বা চন্দনকাঠে চিতা সাজানো হয়েছে এবং সুজন মুখাগ্নি করেছে। এসবই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার অংশ।

  4. ঘ)

    সুজনের বাবার মৃত্যুতে পরিবার ও জ্ঞাতিবর্গ যে বিধান পালন করেন, তার নাম অশৌচ। ‘শৌচ’ অর্থ শুচিতা, আর ‘অশৌচ’ অর্থ শুচিতার অভাব। মাতা-পিতা বা জ্ঞাতিবর্গের মৃত্যুতে মন শোকাচ্ছন্ন হয়, চিত্ত সাধন-ভজনের উপযোগী থাকে না। এ সময় ব্রহ্মচর্যের মতো সংযম পালন করতে হয়। এই অশৌচ পালনের যৌক্তিকতা আছে।

    ১. মানসিক শান্তি: পিতার চিরবিদায় সন্তানকে বিচলিত করে। বিচলিত মনে ঈশ্বরের প্রতি একাগ্রতা আসে না। অশৌচ পালনের সময়ে মন ধীরে ধীরে শান্ত হয় এবং প্রশান্তি ফিরে আসে। সুজনের মতো শোকবিহ্বল সন্তানের জন্য এ সময়টি প্রয়োজন।
    ২. সংযম ও আত্মশুদ্ধি: অশৌচকালে হবিষ্যান্ন বা ফলমূল খেয়ে কঠোর সংযম পালন করতে হয়। এতে শ্রাদ্ধ করার উপযোগিতা অর্জিত হয় এবং মন পবিত্র হয়।
    ৩. মৃতের প্রতি শ্রদ্ধা: উঠানে তুলসী গাছ রোপণ করে মৃত ব্যক্তির উদ্দেশে জল ও দুগ্ধ দেওয়া হয়। এভাবে মৃত ব্যক্তির পরিবার ও জ্ঞাতিবর্গ অশৌচ পালন করে তাঁর আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেন।
    ৪. সামাজিক বন্ধন: আত্মীয়-প্রতিবেশী শোকের সময় পাশে দাঁড়ান। এতে সামাজিক অনুশাসনের বন্ধন দৃঢ় হয়।

    সুতরাং, অশৌচ শুধু শাস্ত্রীয় বিধান নয়। এটি মানসিক প্রশান্তি, আত্মসংযম, শ্রদ্ধা প্রদর্শন ও সামাজিক বন্ধনের জন্যও যুক্তিযুক্ত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন