হিন্দু ধর্ম • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৪
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
বীণা সারা বছরই কোনো না কোনো আচার-অনুষ্ঠান করে থাকে। এসব আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সে জীবনটাকে আনন্দময় ও কল্যাণময় করে গড়ে তোলে। এগুলোর মধ্যে কিছু আছে ধর্মাচার, আবার কিছু আছে ধর্মানুষ্ঠান, যা জাতি-বর্ণ নির্বিশেষে সাম্যের শিক্ষা দেয়।
- ক)(1)
দীপাবলি কাকে বলে?
- খ)(2)
নবান্ন উৎসব কেন করা হয়? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে বীণার ধর্মাচারের গুরুত্ব অধিক'- পাঠের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
বীণার ধর্মানুষ্ঠানটি সাম্যের শিক্ষা দেয়'- তোমার পঠিত বিষয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
শ্যামা বা কালীপূজার দিন রাত্রে প্রদীপ জ্বালিয়ে অন্ধকার ও অজ্ঞানতা দূর করার যে উৎসব পালিত হয়, তাকে দীপাবলি বলে।
- খ)
নবান্ন শব্দের অর্থ নতুন ভাত (নব + অন্ন)। হেমন্তকালে অগ্রহায়ণ মাসে নতুন ধানের চাল দিয়ে ভাত, পিঠা ইত্যাদি তৈরি করে এ মাঙ্গলিক উৎসব করা হয়।
এটি ঋতুভিত্তিক অনুষ্ঠান। এদিন শস্যের অধিষ্ঠাত্রী দেবী লক্ষ্মীর পূজা করা হয়। নতুন ফসল ঘরে তোলার আনন্দ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্যই নবান্ন উৎসব করা হয়।
- গ)
'পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে বীণার ধর্মাচারের গুরুত্ব অধিক'—উক্তিটি যথার্থ।
ধর্মাচারের ধারণা: জীবনকে সুন্দর, মঙ্গলময় ও আনন্দময় করার জন্য যেসব আচার-আচরণ চর্চা করা হয়, তাকে ধর্মাচার বলে। এগুলো লোকাচারও বটে। সংক্রান্তি, গৃহপ্রবেশ, জামাইষষ্ঠী, রাখীবন্ধন, ভাইফোঁটা, দীপাবলি, হাতেখড়ি, নবান্ন প্রভৃতি ধর্মাচারের উদাহরণ।
গুরুত্ব: ধর্মাচার মানুষকে ভদ্র, নম্র ও বিনয়ী করে তোলে এবং মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তোলে। এর মাধ্যমে পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় হয়। জামাইষষ্ঠীতে জামাই-শ্বশুরবাড়ির সম্পর্ক মধুর হয়, রাখীবন্ধন ও ভাইফোঁটায় ভাইবোনের ভালোবাসা দৃঢ় হয়। ভাইফোঁটা জাতিধর্ম নির্বিশেষে সকলের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ জাগিয়ে জাতীয় ঐক্য গড়তে সহায়তা করে। নবান্ন ও বর্ষবরণ সর্বজনীন উৎসব হিসেবে সকলকে এক করে।
উদ্দীপকের সঙ্গে সম্পর্ক: বীণা সারা বছর নানা আচার-অনুষ্ঠান পালন করে জীবনকে আনন্দময় ও কল্যাণময় করে তোলে। এতে পরিবারের সদস্য ও সমাজের মানুষের সঙ্গে তার সম্পর্ক গভীর হয়।
অতএব, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে বীণার ধর্মাচারের গুরুত্ব অধিক।
- ঘ)
বীণার ধর্মানুষ্ঠান হলো রথযাত্রা, দোলযাত্রা ও নামযজ্ঞের মতো অনুষ্ঠান, যা জাতি-বর্ণ নির্বিশেষে সাম্যের শিক্ষা দেয়। আমি এ উক্তির সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত।
ধর্মানুষ্ঠানের ধারণা: ধর্মশাস্ত্রে নির্দেশিত পূজা এবং অবশ্যকর্তব্য অনুষ্ঠানকে ধর্মানুষ্ঠান বলে। দোলযাত্রা, রথযাত্রা ও নামযজ্ঞ প্রধান ধর্মানুষ্ঠান।
১. রথযাত্রায় সাম্য: রথের সময় ভগবান ভক্তের কাছে নেমে আসেন। সবাই একত্রে রথের রশি ধরে টানে। এখানে জাতি-বর্ণের কোনো বিভেদ থাকে না। তাই রথযাত্রা সাম্যের শিক্ষা দেয়।
২. দোলযাত্রায় সর্বজনীনতা: দোলপূর্ণিমায় সকাল থেকে শত্রু-মিত্র, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলে রং মেখে বিভেদ ভুলে একাত্ম হয়ে যায়। রাধা-কৃষ্ণকে দোলায় রেখে পূজা করে সবাই আনন্দ করে। এটাই দোলযাত্রার সর্বজনীনতা।
৩. নামযজ্ঞে মিলন: নামযজ্ঞে রামনাম ও কৃষ্ণনাম কীর্তন হয়। ভক্তরা দূরদূরান্ত থেকে আসেন। এই অনুষ্ঠান মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয় এবং ভেদাভেদ ভুলে সবাই একাত্ম হয়ে যায়। এতে সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় হয়।
৪. অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব: রথের মেলায় সবার অংশগ্রহণ থাকে এবং এর অর্থনৈতিক গুরুত্বও রয়েছে। এসব অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ধনী-গরিব নির্বিশেষে সকলের মধ্যে সৌহার্দ্য গড়ে ওঠে।সুতরাং, বীণার ধর্মানুষ্ঠান জাতি-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে একসূত্রে বাঁধে এবং সাম্যের শিক্ষা দেয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও