বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৪

বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন

দৃশ্যকল্প-১: শিপন সাহেব একজন শিক্ষাবিদ। তিনি সমাজের মানুষের মধ্যে অন্ধ বিশ্বাস, ধর্মীয় গোঁড়ামী, ঝাড়-ফুঁক, পানিপড়া ইত্যাদি দূর করার জন্য মনোযোগ দেন।দৃশ্যকল্প-২: জনাব সুমনের গ্রাম শিক্ষার দিক থেকে পিছিয়ে আছে। তিনি তার গ্রামে একটি স্কুল স্থাপন করেন। সেখানে শুধু ধমীয় ও সামাজিক বিষয়গুলো পড়ানো হতো। কিন্তু তিনি ভাবলেন নতুন সমাজ গঠনে ইংরেজি ও বিজ্ঞান শিক্ষার উপর গুরুত্ব দিতে হবে।

  1. ক)

    সৈয়দ আমির আলির গঠিত সমিতির নাম কী?

    (1)
  2. খ)

    নীল কমিশন গঠন করা হয় কেন? বর্ণনা করো।

    (2)
  3. গ)

    দৃশ্যকল্প-১-এ শিপন সাহেরের কর্মকাণ্ডে ইতিহাসের কোন মনীষীর কর্মকাণ্ড খুঁজে পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    দৃশ্যকল্প-২-এর কর্মকান্ড "বাংলার নবজাগরণকে ত্বরান্বিত করেছিল"- বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    সৈয়দ আমির আলি ১৮৭৭ সালে কলকাতায় 'সেন্ট্রাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন' নামে সমিতি গঠন করেন।

  2. খ)

    বাংলার নীলচাষিদের ওপর নীলকরদের অমানুষিক অত্যাচারের কারণে ১৮৫৯ সালে নীল বিদ্রোহ দেখা দেয়। নীলকররা কৃষকদের দাদন দিয়ে জোর করে নীল চাষে বাধ্য করত এবং অবাধ্যদের ওপর নির্যাতন চালাত। বিদ্রোহ ব্যাপক আকার ধারণ করলে ব্রিটিশ সরকার নীলচাষিদের অভিযোগ ও নীলকরদের অত্যাচারের তদন্তের জন্য ১৮৬০ সালে নীল কমিশন গঠন করে। এই কমিশনের সুপারিশের ফলে নীলচাষে কৃষকদের বাধ্য করার প্রথা বন্ধ হয়।

  3. গ)

    দৃশ্যকল্প-১-এ শিপন সাহেবের কর্মকাণ্ডে তিতুমির-এর কর্মকাণ্ডের প্রতিফলন পাওয়া যায়।

    পাঠ্যবই অনুযায়ী মীর নিসার আলী ওরফে তিতুমির ১৮২৭ সালে হজ শেষে দেশে ফিরে ধর্মীয় কুসংস্কার দূর করে মুসলিম সমাজ সংস্কারের কাজে আত্মনিয়োগ করেন। তাঁর এই সংস্কার আন্দোলনে চব্বিশ পরগনা ও নদীয়ার বহু কৃষক ও তাঁতি সাড়া দেয়। উদ্দীপকে শিপন সাহেবও সমাজের মানুষের মধ্যে অন্ধ বিশ্বাস, ধর্মীয় গোঁড়ামি, ঝাড়-ফুঁক ও পানিপড়ার মতো কুসংস্কার দূর করতে মনোযোগ দেন। তাই দুজনের উদ্দেশ্য ও কাজের মধ্যে মিল রয়েছে।

  4. ঘ)

    দৃশ্যকল্প-২-এ সুমন নিজের গ্রামে স্কুল স্থাপন করে ইংরেজি ও বিজ্ঞান শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিতে চেয়েছেন, যা উনিশ শতকের নবজাগরণের সংস্কারকদের কাজের সঙ্গে মিলে যায়। এ ধরনের আধুনিক শিক্ষার উদ্যোগ বাংলার নবজাগরণকে ত্বরান্বিত করেছিল।

    ১. পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসার: নওয়াব আবদুল লতিফ মুসলমানদের মধ্যে ইংরেজি শিক্ষার সুফল তুলে ধরে জনমত গঠন করেন। তাঁর চেষ্টায় কলকাতা মাদ্রাসায় অ্যাংলো-পার্সিয়ান বিভাগ খোলা হয় এবং তাঁর প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসাগুলোতে ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি ইংরেজি ও আধুনিক শিক্ষা চালু হয়।
    ২. শিক্ষা বিস্তার: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ২০টি মডেল স্কুল ও ৩৫টি বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেন। সৈয়দ আমির আলিও মুসলমানদের শিক্ষার অগ্রগতির জন্য কাজ করেন এবং বেগম রোকেয়া ও নবাব ফয়জুন্নেছা নারীশিক্ষার প্রসারে ভূমিকা রাখেন।
    ৩. কুসংস্কার দূরীকরণ ও সমাজ সংস্কার: আধুনিক শিক্ষার প্রভাবে মানুষ কুসংস্কার থেকে বেরিয়ে এসে যুক্তিবাদী হতে শেখে, ফলে সমাজ সংস্কারের পথ সুগম হয়।

    সুতরাং, সুমনের মতো ইংরেজি ও বিজ্ঞান শিক্ষার উদ্যোগ সমাজকে কুসংস্কারমুক্ত ও আধুনিক করে বাংলার নবজাগরণকে ত্বরান্বিত করেছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন