পৌরনীতি ও নাগরিকতা • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৩

পৌরনীতি ও নাগরিকতা প্রশ্ন

কিংবদন্তি নেতা আংকেল-হো ১৯৪৫ সালে ২ সেপ্টেম্বর হ্যানয়ের এক জনসভায় ভিয়েতনামের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। তার নির্দেশমতো সে দেশের মানুষ স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম শুরু করে। আংকেল হো-র মতে, নেতার আদর্শে গেরিলা বাহিনী ও মুক্তিফৌজের সাহায্যে দীর্ঘ লড়াইয়ের মাধ্যমে ভিয়েতনামের স্বাধীনতা অর্জিত হয়।

  1. ক)

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকবাল হলের বর্তমান নাম কী?

    (1)
  2. খ)

    অসহযোগ আন্দোলন বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    আংকেল-হো'র ভাষণের সাথে বাংলাদেশের ইতিহাসের কোন ভাষণের মিল পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    আংকেল-হো'র মতো একজন নেতা ছিল বিধায় ভিয়েতনাম স্বাধীনতা লাভ করেছিল। বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রেক্ষাপটে বক্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকবাল হলের বর্তমান নাম সার্জেন্ট জহুরুল হক হল।

  2. খ)

    অসহযোগ আন্দোলন বলতে ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে পাকিস্তানি শাসকদের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে পরিচালিত শান্তিপূর্ণ প্রতিরোধ আন্দোলনকে বোঝায়। জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করার প্রতিবাদে জনগণ সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালত ও কলকারখানায় কাজ বন্ধ রাখে এবং কর-খাজনা দেওয়া বন্ধ করে। ফলে পাকিস্তানি শাসনব্যবস্থা কার্যত অচল হয়ে পড়ে। এর মাধ্যমে বাংলার মানুষ স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য সংগঠিত হয়।

  3. গ)

    আংকেল-হো'র ভাষণের সাথে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণের মিল পাওয়া যায়।

    ১. আংকেল-হো হ্যানয়ের এক জনসভায় ভিয়েতনামের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন; বঙ্গবন্ধুও বিশাল জনসভায় ভাষণ দেন।
    ২. আংকেল-হো'র নির্দেশে মানুষ স্বাধীনতার সংগ্রামে নামে; বঙ্গবন্ধুর ভাষণও জনগণকে সংগ্রামে প্রস্তুত থাকতে অনুপ্রাণিত করে। তিনি বলেন, 'এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।'

    তাই দুটি ভাষণই স্বাধীনতার আহ্বান জানানোর দিক থেকে সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    বক্তব্যটি বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রেক্ষাপটেও যথার্থ। আংকেল-হো'র মতো আমাদের স্বাধীনতার পেছনেও ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মতো একজন দূরদর্শী নেতা।

    ১. দিকনির্দেশনা: তিনি ছয় দফা দিয়ে বাঙালির মুক্তির পথ দেখান এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনা জাগিয়ে তোলেন।
    ২. জনসমর্থন অর্জন: আগরতলা মামলা ও ১৯৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানের পর তিনি জনগণের প্রিয় নেতায় পরিণত হন এবং ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিপুল জয় পায়।
    ৩. নির্দেশনা প্রদান: ৭ মার্চের ভাষণ ও অসহযোগ আন্দোলনের মাধ্যমে তিনি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেন। তাঁর নির্দেশে জনগণ সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত হয়।
    ৪. স্বাধীনতার ঘোষণা: ২৬ মার্চ তাঁর স্বাধীনতার ঘোষণার ভিত্তিতে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়।

    তবে মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগ ছাড়া স্বাধীনতা আসত না। সুতরাং, নেতার ভূমিকা অপরিসীম হলেও নেতৃত্ব ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন