ব্যবসায় উদ্যোগ • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৩

ব্যবসায় উদ্যোগ প্রশ্ন

সুমন ডিগ্রি পাস করে চাকরি লাভে ব্যর্থ হয়ে স্থানীয় যুব উন্নয়ন কার্যালয় থেকে মৎস্য চাষ ও হাঁস-মুরগি পালনের ওপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ, করেন। এরপর নিজের সঞ্চিত টাকা এবং ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে বড় আকারের মৎস্য ও হাঁস-মুরগির খামার গড়ে তুললেন। তিনি এ কাজে কিছু বেকার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছেন। সুমনের মতো প্রবল আত্মবিশ্বাস, মনোবল আর বুনিয়াদী প্রশিক্ষণ নিয়ে যেকোনো কাজে অগ্রসর হলে সাফল্য অনিবার্য।

  1. ক)

    আত্মকর্মসংস্থান কী?

    (1)
  2. খ)

    সুষ্ঠু ব্যবসায় পরিকল্পনা প্রণয়ন ধারণা কী? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    সুমনের হাঁস-মুরগি পালন ও মৎস্য চাষের কার্যক্রমটি কর্মসংস্থানের কোন দিকটি নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের আলোকে আমাদের দেশের যুব সমাজের কাছে আত্মকর্মসংস্থানের গুরুত্ব মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    নিজস্ব পুঁজি বা ঋণ করা স্বল্প সম্পদ এবং নিজের চিন্তা, জ্ঞান ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে ন্যূনতম ঝুঁকি নিয়ে আত্মপ্রচেষ্টায় জীবিকা অর্জনের ব্যবস্থাকে আত্মকর্মসংস্থান বলে।

  2. খ)

    ব্যবসায় হাত দেওয়ার আগেই ব্যবসায়ের কাজ কখন এবং কীভাবে করা হবে তা অগ্রিম চিন্তা করে ঠিক করাকে ব্যবসায় পরিকল্পনা প্রণয়ন বলে। ব্যবসায় পরিচালনার ক্ষেত্রে এটি দিকনির্দেশনার দলিল হিসেবে কাজ করে। পরিকল্পনা যত সুষ্ঠু হয়, ব্যবসায়ের সফল হওয়ার সম্ভাবনাও তত বাড়ে।

  3. গ)

    সুমনের হাঁস-মুরগি পালন ও মৎস্য চাষের কার্যক্রম আত্মকর্মসংস্থানের দিকটি নির্দেশ করে।

    কর্মসংস্থান প্রধানত তিন ধরনের: মজুরি বা বেতনভিত্তিক চাকরি, আত্মকর্মসংস্থান ও ব্যবসায়। উদ্দীপকে সুমন চাকরি না পেয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজের সঞ্চয় ও ব্যাংক ঋণ দিয়ে খামার গড়েছেন। অর্থাৎ নিজের দক্ষতা ও পুঁজি কাজে লাগিয়ে তিনি নিজের কর্মসংস্থান নিজেই করেছেন। পরে কিছু বেকার যুবককেও কাজ দিয়েছেন। এটি আত্মকর্মসংস্থান থেকে উদ্যোগের দিকে অগ্রসর হওয়াকেও নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    উদ্দীপকে সুমনের মতো আত্মকর্মসংস্থান আমাদের যুবসমাজের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    ১. বেকারত্ব দূরীকরণ: দেশে চাকরির সুযোগ সীমিত, কর্মসংস্থানের চাহিদার তুলনায় সুযোগ কম। আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে যুবকরা নিজেরাই আয়ের পথ তৈরি করতে পারে।
    ২. কম ঝুঁকি ও স্বল্প পুঁজি: নিজের দক্ষতাই এর সবচেয়ে বড় মূলধন। সুমন সঞ্চয় ও ঋণ নিয়ে অল্প পুঁজিতে শুরু করেছেন।
    ৩. অন্যের কর্মসংস্থান: সফল হলে আত্মকর্মসংস্থানকারী অন্যদেরও কাজ দিতে পারেন, যেমন সুমন বেকার যুবকদের কাজ দিয়েছেন।
    ৪. সমাজের উন্নয়ন: যুবকরা সমাজবিরোধী কাজ থেকে দূরে থাকে, গ্রামীণ অর্থনীতি সচল হয় এবং শহরমুখী জনস্রোত কমে।

    সুতরাং, প্রশিক্ষণ ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে আত্মকর্মসংস্থানে এগোলে যুবসমাজ নিজে স্বাবলম্বী হবে এবং দেশের উন্নয়নেও অবদান রাখবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন