হিন্দু ধর্ম • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৪
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
শ্রীবাস বিভিন্ন ধর্মানুষ্ঠান- নামযজ্ঞ, রথযাত্রায় যায়। সে ভদ্র, নম্র ও বিনয়ী। সমাজ ও পারিবারিক জীবনে তার বন্ধন সুদৃঢ়। এছাড়া ঐতিহাসিক তীর্থস্থান ভ্রমণে তার বেশ আগ্রহ। সে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড, মহেশখালীর আদিনাথের মন্দিরসহ দেশ-বিদেশের অনেক তীর্থস্থান দর্শন করেছে।
- ক)(1)
পণাতীর্থস্থানটি কোন জেলায় অবস্থিত?
- খ)(2)
দীপাবলি কী তা ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
শ্রীবাস কী পালনের মাধ্যমে সমাজ ও পারিবারিক জীবনে তার বন্ধন সুদৃঢ় হয়েছে? বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
'শ্রীবাস ঐতিহাসিক তীর্থস্থান ভ্রমণের ফলে তার জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধি পায়।'-এই মর্মে তীর্থ দর্শনের গুরুত্ব তুলে ধরো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
পণাতীর্থ সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর থানায় অবস্থিত।
- খ)
দীপাবলি হলো শ্যামা বা কালীপূজার দিন রাত্রে অনুষ্ঠিত একটি উৎসব। এ উৎসবে প্রদীপ জ্বালিয়ে অন্ধকার দূর করা হয়। এটি মনের অজ্ঞানতার মোহান্ধকার দূর করার প্রতীক। সকল কুসংস্কার প্রদীপের আগুনে পুড়িয়ে জ্ঞানের আলোয় বিশ্ব আলোকিত করার ব্রত নিয়ে এ উৎসব পালিত হয়। এটি দেওয়ালি, দীপান্বিতা, দীপালিকা ইত্যাদি নামেও পরিচিত।
- গ)
শ্রীবাস ধর্মানুষ্ঠান ও ধর্মাচার পালনের মাধ্যমে সমাজ ও পারিবারিক জীবনে তার বন্ধন সুদৃঢ় করেছে।
ধারণা: যে আচার-আচরণ আমাদের জীবনকে সুন্দর ও কল্যাণময় করে, তা ধর্মাচার। আর ধর্মশাস্ত্রে নির্দেশিত পূজা ও অবশ্যকর্তব্য অনুষ্ঠানগুলো ধর্মানুষ্ঠান। ধর্মাচার বা ধর্মনীতি মানুষকে ভদ্র, নম্র ও বিনয়ী করে। ধর্মানুষ্ঠান ছাড়া ধর্মাচার তেমন ফলপ্রসূ হয় না। ধর্মাচারের মাধ্যমে সমাজ ও পারিবারিক জীবনের বন্ধন আরও সুদৃঢ় হয়।
উদ্দীপকের সঙ্গে সম্পর্ক: শ্রীবাস নামযজ্ঞ ও রথযাত্রার মতো ধর্মানুষ্ঠানে যায়।
১. নামযজ্ঞ: এতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ও শ্রীরামচন্দ্রের পূজা হয়; সুর, ছন্দ ও তালে কৃষ্ণনাম ও রামনাম কীর্তন করা হয়। দূরদূরান্ত থেকে ভক্তরা আসেন। অনুষ্ঠানটি মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়, ভেদাভেদ ভুলে সবাই একাত্ম হয় এবং সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় হয়।
২. রথযাত্রা: আষাঢ় মাসের শুক্লা-দ্বিতীয়া তিথিতে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার রথ ভক্তরা রশি ধরে টেনে নেয়। এখানে সবাই একত্রে রথের রশি ধরে বলে জাতি-বর্ণের বিভেদ থাকে না; তাই রথযাত্রা সাম্যের শিক্ষা দেয়।
৩. ব্যক্তিগত গুণ: শ্রীবাস ভদ্র, নম্র ও বিনয়ী—যা ধর্মাচার পালনেরই ফল।এভাবে ধর্মানুষ্ঠান ও ধর্মাচার পালনের মাধ্যমে শ্রীবাসের পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় হয়েছে।
- ঘ)
'শ্রীবাস ঐতিহাসিক তীর্থস্থান ভ্রমণের ফলে তার জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধি পায়'—উক্তিটি যথার্থ। তীর্থদর্শন মানুষের জ্ঞান, মন ও ধর্মবোধকে সমৃদ্ধ করে।
তীর্থের ধারণা: স্বয়ং ভগবান কিংবা তাঁর অবতারের আবির্ভাব স্থানকে পুণ্যস্থান বলা হয়। কোনো দেবালয়ের স্থানও পুণ্যস্থান। আর পুণ্যস্থানকে বলা হয় তীর্থস্থান। এগুলো ঐতিহাসিক স্থান বলেও আখ্যায়িত। বাংলাদেশের তীর্থস্থানের মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড, মহেশখালীর আদিনাথের মন্দির, গোপালগঞ্জের ওড়াকান্দি, নারায়ণগঞ্জের লাঙ্গলবন্দ ইত্যাদি—যার কয়েকটি শ্রীবাস দর্শন করেছে।
১. জ্ঞানের পরিধি ও উদারতা বৃদ্ধি: ঐতিহাসিক তীর্থস্থান ভ্রমণে জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধি পায়, মনের প্রসারতা বাড়ে, সংকীর্ণতা দূর হয় ও উদারতা বৃদ্ধি পায়। বিভিন্ন স্থানের ইতিহাস ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানা যায়, যেমন শ্রীবাসের হয়েছে।
২. মানসিক শান্তি: তীর্থদর্শনে মন পবিত্র হয়, অশান্ত মন শান্ত হয়, দুঃখ দূর হয় এবং মনে স্বস্তি আসে।
৩. পুণ্যলাভ ও পরকালে সদ্গতি: তীর্থস্থান ভ্রমণ একটি পুণ্য কর্ম। ধর্মপালনের মতো তীর্থদর্শনও একটি পবিত্র কর্তব্য। এতে পুণ্যলাভ হয় এবং পরকালে সদ্গতি হয়।
৪. নৈতিক অনুপ্রেরণা: মহাপুরুষদের জীবনাচরণের নিদর্শন দেখে মন ভালো কাজে উদ্বুদ্ধ হয়। যেমন সুনামগঞ্জের পণাতীর্থ অদ্বৈত প্রভুর জন্মস্থান, যিনি মায়ের ইচ্ছা পূরণে যোগসাধনাবলে সমস্ত তীর্থের পুণ্যজল এক নদীতে এনেছিলেন—এই কাহিনি মাতৃভক্তির শিক্ষা দেয়।
অতএব, তীর্থদর্শন কেবল পুণ্যলাভই নয়, জ্ঞানার্জন, মানসিক শান্তি ও নৈতিক উন্নতির উৎসও। শ্রীবাসের অভিজ্ঞতা তীর্থদর্শনের এই গুরুত্বই তুলে ধরে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও