বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৪

বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন

সীমার দাদু বলেন, মানব সমাজের যাবতীয় কর্মকান্ড ও জীবনযাত্রার অগ্রগতি ইতিহাস থেকে জানা যায়। অপরদিকে সীমা বলেন, দেশ ও জাতির উন্নয়নে ইতিহাস পাঠের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।

  1. ক)

    আইন-ই-আকবরী কী?

    (1)
  2. খ)

    ইতিহাসকে 'শিক্ষণীয় দর্শন' বলা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    সীমার দাদুর বক্তব্যের আলোকে ইতিহাসের বিষয়বস্তু ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    "দেশ ও জাতির উন্নয়নে ইতিহাস পাঠের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম"- উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    আবুল ফজল রচিত আইন-ই-আকবরী হলো মোগল সম্রাট আকবরের শাসনব্যবস্থা, প্রশাসন ও তৎকালীন সমাজজীবনের বিবরণসংবলিত একটি ঐতিহাসিক গ্রন্থ।

  2. খ)

    ইতিহাস অতীতের ঘটনাবলির দৃষ্টান্ত তুলে ধরে মানুষকে শিক্ষা দেয়। মানুষ ইতিহাস পাঠ করে অতীতের সাফল্য ও ভুলভ্রান্তি সম্পর্কে জানতে পারে এবং সেই শিক্ষা বর্তমানের প্রয়োজনে কাজে লাগাতে পারে। সভ্যতার উত্থান-পতনের কারণ জানলে মানুষ ভালো-মন্দের পার্থক্য বুঝতে পারে। ইতিহাস পাঠে বিচার-বিশ্লেষণের ক্ষমতাও বাড়ে, যা দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করে। এ কারণে ইতিহাসকে 'শিক্ষণীয় দর্শন' বলা হয়।

  3. গ)

    সীমার দাদুর বক্তব্যে ইতিহাসের বিষয়বস্তু ফুটে উঠেছে। তিনি বলেছেন, মানব সমাজের কর্মকাণ্ড ও জীবনযাত্রার অগ্রগতি ইতিহাস থেকে জানা যায়।

    ঐতিহাসিক ভিকো (Vico)-র মতে, মানবসমাজ ও মানবীয় প্রতিষ্ঠানসমূহের উৎপত্তি ও বিকাশই ইতিহাসের বিষয়বস্তু। মানুষের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন, যা সমাজ-সভ্যতার উন্নতিতে অবদান রেখেছে, তা-ই ইতিহাসের আলোচ্য বিষয়। যেমন:

    ১. শিল্প, সাহিত্য-সংস্কৃতি ও দর্শন
    ২. স্থাপত্য ও রাজনীতি
    ৩. যুদ্ধ, ধর্ম ও আইন

    সমাজ-সভ্যতা বিকাশে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রভাব ফেলেছে এমন সবকিছুই ইতিহাসের বিষয়বস্তু। সীমার দাদুর কথায় মানবসমাজের কর্মকাণ্ড ও জীবনযাত্রার অগ্রগতির এই ধারাবাহিক বিবরণই প্রকাশ পেয়েছে।

  4. ঘ)

    সীমার উক্তি "দেশ ও জাতির উন্নয়নে ইতিহাস পাঠের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম" যথার্থ। কারণ ইতিহাস পাঠ মানুষকে অতীতের পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান অবস্থা বুঝতে এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কে অনুমান করতে সাহায্য করে।

    ১. জ্ঞান ও আত্মমর্যাদা বৃদ্ধি: ইতিহাস পাঠে জ্ঞানের পরিধি বাড়ে। জাতির ঐতিহ্য ও সামাজিক বিকাশ জানলে আত্মমর্যাদাবোধ জাগ্রত হয়, যা জাতীয় উন্নয়নের ভিত্তি।
    ২. সচেতনতা বৃদ্ধি: সভ্যতার উত্থান-পতনের কারণ জানলে নাগরিক ভালো-মন্দ বুঝতে পারে এবং নিজের কর্মের পরিণতি সম্পর্কে সচেতন থাকে।
    ৩. দৃষ্টান্ত থেকে শিক্ষা: অতীত ঘটনার দৃষ্টান্ত থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমানের সমস্যা সমাধান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করা যায়।
    ৪. বিচার-বিশ্লেষণের ক্ষমতা: ইতিহাস পাঠ বিশ্লেষণ ক্ষমতা ও দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করে, ফলে জ্ঞানচর্চার প্রতি আগ্রহ জন্মে।

    সুতরাং, দেশ ও জাতির স্বার্থে এবং ব্যক্তির প্রয়োজনে ইতিহাস পাঠ অত্যন্ত জরুরি; সীমার উক্তিটি যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন