কৃষিশিক্ষা • কৃষি উপকরণ • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২০

কৃষিশিক্ষা প্রশ্ন

চিত্র : পানির নমুনাটি মাছ চাষের উপযুক্ত নয়

  1. ক)

    খৈল কী?

    (1)
  2. খ)

    মাছের অভয়াশ্রম বলতে কী বোঝ? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের পরীক্ষণের প্রক্রিয়াটি বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    চিত্রের নমুনাটি মাছ চাষের উপযোগীকরণের পদক্ষেপ বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    তেলবীজ (যেমন সরিষা, তিল) থেকে তেল বের করে নেওয়ার পর যে অবশিষ্টাংশ থাকে, তাকে খৈল বলে; এটি মাছের খাদ্য ও সার হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

  2. খ)

    নদী, হাওর বা অন্য কোনো প্রাকৃতিক জলাশয়ের যে নির্দিষ্ট অংশে মাছ ধরা নিষিদ্ধ করে মাছের নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়, তাকে মাছের অভয়াশ্রম বলে। এখানে মা মাছ ও পোনা নিরাপদে বেড়ে উঠতে ও ডিম ছাড়তে পারে। ফলে মাছের প্রজনন বাড়ে এবং মাছের সংখ্যা ও বৈচিত্র্য রক্ষা পায়। এভাবে অভয়াশ্রম মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে ভূমিকা রাখে।

  3. গ)

    উদ্দীপকের চিত্রে একটি স্বচ্ছ কাচের গ্লাসে পুকুরের পানির নমুনা নিয়ে সূর্যের আলোর দিকে ধরে তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এটি পানির ভৌত অবস্থা (স্বচ্ছতা ও ঘোলাত্ব) পরীক্ষার একটি সহজ পদ্ধতি। প্রক্রিয়াটি নিম্নরূপ:

    ১. পুকুরের মাঝামাঝি অংশ থেকে একটি পরিষ্কার স্বচ্ছ কাচের গ্লাসে পানি সংগ্রহ করতে হয়।
    ২. গ্লাসটি সূর্যের আলোর দিকে ধরে পানির রং ও স্বচ্ছতা লক্ষ করতে হয়।
    ৩. পানিতে ভাসমান কণা, ময়লা বা জৈব পদার্থ আছে কি না এবং পানি কতটা ঘোলা, তা দেখে পানির মান সম্পর্কে ধারণা নেওয়া হয়।

    চিত্রের নমুনায় অনেক ভাসমান কণা দেখা যাচ্ছে, তাই পানিটি মাছ চাষের উপযুক্ত নয়।

  4. ঘ)

    চিত্রের পানির নমুনায় প্রচুর ভাসমান কণা ও ঘোলাত্ব রয়েছে, যা মাছের বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এ পানিকে মাছ চাষের উপযোগী করতে নিচের পদক্ষেপগুলো নেওয়া যায়:

    ১. পুকুর প্রস্তুতি ও পরিষ্কার: পুকুরের জলজ আগাছা, জৈব আবর্জনা ও তলদেশের অতিরিক্ত কাদা পরিষ্কার করতে হবে। প্রয়োজনে পুকুর শুকিয়ে বা পানি বদলে নতুন পানি দিতে হবে।
    ২. চুন প্রয়োগ: পানির অম্লত্ব দূর করা, ঘোলাত্ব কমানো ও জীবাণু ধ্বংসের জন্য পরিমিত পরিমাণে চুন প্রয়োগ করতে হবে।
    ৩. সার প্রয়োগ: চুন দেওয়ার কয়েক দিন পর জৈব ও রাসায়নিক সার পরিমিত মাত্রায় দিয়ে মাছের প্রাকৃতিক খাদ্য (প্ল্যাঙ্কটন) তৈরি করতে হবে।
    ৪. পুনরায় পরীক্ষা: পানির রং, স্বচ্ছতা ও মান পুনরায় পরীক্ষা করে সন্তোষজনক হলে তবেই পোনা মজুদ করতে হবে।

    সুতরাং, এসব ধাপ ঠিকভাবে অনুসরণ করলে ঘোলা ও দূষিত পানিও মাছ চাষের উপযোগী করা সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন