হিন্দু ধর্ম • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৪
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
প্রদীপ বাবু একটি সংগঠনের সভাপতি। তিনি তার পরিবার এবং সংগঠনের সকল সদস্যের সমস্যা সমাধান করেন। তিনি কোনো কাজের প্রতিশ্রুতি দিলে তা রক্ষা করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেন। অন্যদিকে, তার প্রতিবেশী উজ্জ্বল বাবু একজন স্বার্থপর ব্যক্তি। তিনি ভাইদের সম্পত্তি নিজের নামে করে নেন। এতে ভাইদের মধ্যে তিক্ততার সৃষ্টি হয়। শেষ পর্যন্ত উজ্জ্বল বাবু সবদিক দিয়ে পরাজিত হন।
- ক)(1)
বৈদিক সাহিত্য কাকে বলে?
- খ)(2)
কাকে রহস্য বিদ্যা বলা হয়? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
প্রদীপ বাবুর কর্মকাণ্ডের মধ্যে তোমার পাঠ্যপুস্তকের কোন চরিত্রের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উজ্জ্বল বাবু ও ভাইদের মধ্যে সংঘটিত ঘটনা থেকে যে শিক্ষা পাই, তা পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
বেদ, ব্রাহ্মণ, আরণ্যক ও উপনিষদ, এই চার প্রকার রচনার সমষ্টিকে বৈদিক সাহিত্য বলে।
- খ)
উপনিষদকে রহস্যবিদ্যা বলা হয়। এতে ব্রহ্মবিদ্যা আলোচিত হয়েছে, যা গুহ্যতম বিদ্যা।
জন্ম ও মৃত্যু মানুষের কাছে এক বিরাট রহস্য। উপনিষদে এই জন্ম-মৃত্যুর কারণ, ব্রহ্ম ও সৃষ্টিরহস্য নিয়ে আলোচনা আছে। গুরুর কাছে গিয়ে নিশ্চয়তার সাথে শিক্ষা নিতে হয় বলে একে গুহ্যবিদ্যা বা রহস্যবিদ্যা বলা হয়। - গ)
প্রদীপ বাবুর কর্মকাণ্ডের সাথে পাঠ্যবইয়ে বর্ণিত শ্রীরামচন্দ্র-এর চরিত্রের মিল রয়েছে।
রামচন্দ্রের চরিত্র: রামায়ণ আদি কবি বাল্মীকির রচিত আদিকাব্য। এতে রামকে আদর্শ রাজা, আদর্শ পুত্র ও ভ্রাতা হিসেবে দেখানো হয়েছে। পিতা রাজা দশরথের সত্যরক্ষার জন্য তিনি রাজত্ব ত্যাগ করে চৌদ্দ বছরের জন্য বনবাসে যান। তিনি প্রজাপালনে নিষ্ঠাবান ছিলেন এবং ভ্রাতৃপ্রেম, কর্তব্যপালন ও ন্যায়ের পরাকাষ্ঠা।
উদ্দীপকের সাথে মিল: প্রদীপ বাবু একটি সংগঠনের সভাপতি হিসেবে পরিবার ও সদস্যদের সমস্যা সমাধান করেন, অর্থাৎ নেতা হিসেবে দায়িত্বশীল। তিনি প্রতিশ্রুতি দিলে তা রক্ষায় আপ্রাণ চেষ্টা করেন, যা রামের সত্যরক্ষা ও কর্তব্যপরায়ণতার সাথে মেলে। রাম যেমন সত্যের জন্য সবকিছু ত্যাগ করেছেন, প্রদীপ বাবুও তেমনি কথা রাখতে সচেষ্ট।
অতএব, প্রদীপ বাবুর কর্মকাণ্ড রামচন্দ্রের আদর্শ চরিত্রের সাথে মেলে।
- ঘ)
উজ্জ্বল বাবুর ঘটনা থেকে আমরা শিক্ষা পাই যে, স্বার্থপরতা ও অন্যায়ভাবে অন্যের প্রাপ্য কেড়ে নিলে পরিণামে ধ্বংস হয়। এই শিক্ষা মহাভারতের কৌরব-পাণ্ডবের কাহিনির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।
মহাভারতের মূল বিষয় কৌরব ও পাণ্ডবদের যুদ্ধ। এর মূলে ছিল স্বার্থের দ্বন্দ্ব, ক্ষমতার দম্ভ ও অন্যকে তার ন্যায্য প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত করা। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে প্রমাণ হয়েছে 'যথা ধর্ম তথা জয়'।
১. স্বার্থপরতার কুফল: দুর্যোধন পাণ্ডবদের ন্যায্য রাজ্য থেকে বঞ্চিত করতে চক্রান্ত করেছিলেন। উজ্জ্বল বাবুও ভাইদের সম্পত্তি নিজের নামে করে নিয়ে স্বার্থপরতার পরিচয় দিয়েছেন। এতে ভাইদের মধ্যে তিক্ততা সৃষ্টি হয়েছে, যেমন কুরু ও পাণ্ডবদের মধ্যে শত্রুতা।
২. অধর্মের পরাজয়: মহাভারতে দুর্যোধনের সকল চক্রান্ত ব্যর্থ হয়েছে এবং কুরুবংশ ধ্বংস হয়েছে। উজ্জ্বল বাবুও শেষে সবদিক দিয়ে পরাজিত হয়েছেন। অধার্মিকের প্রভাব সাময়িক, পতন অনিবার্য।
৩. ধর্ম ও ন্যায়ের জয়: যারা ধার্মিক ও ন্যায়ের পথে থাকে, ভগবান তাদের সাহায্য করেন। পাণ্ডবরা তাঁদের হৃতরাজ্য ফিরে পেয়েছেন। তাই ভাইদের ন্যায্য অধিকার ফিরে পাওয়া উচিত।
৪. ভ্রাতৃত্ব ও নৈতিকতা: ভাইদের সম্পত্তি আত্মসাৎ নৈতিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। আমাদের উচিত লোভ ত্যাগ করে ভ্রাতৃপ্রেম ও ন্যায়ের পথে চলা।সুতরাং, মহাভারতের শিক্ষা অনুযায়ী অন্যায় ও স্বার্থপরতা পরিহার করে ন্যায় ও ধর্মের পথে চলাই কল্যাণকর।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও