হিন্দু ধর্ম • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৪
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
দৃশ্যকল্প-১: রিমঝিম একজন শিক্ষিত তরুণী। সে তার বাবা-মায়ের পছন্দ অনুসারে পরিমল বাবুর একমাত্র সুশিক্ষিত চাকরিজীবী, ছেলেকে বিয়ে করতে সম্মত হয়। বিয়ের এক সপ্তাহ আগে পরিমল বাবু রিমঝিমের বাবার কাছে বড় অঙ্কের টাকা দাবি করলে রিমঝিম প্রতিবাদ জানিয়ে সে বিয়ে ভেঙে দেয়।দৃশ্যকল্প-২:
- ক)(1)
সংস্কার কাকে বলে?
- খ)(2)
বিয়ের পরদিন কোন অনুষ্ঠান পালিত হয়? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
দৃশ্যকল্প-১ এ বর্ণিত ঘটনাটির কারণ পাঠ্যপুস্তকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে দৃশ্যকল্প-২ এর গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
হিন্দুদের সমগ্র জীবনে ঐতিহ্য অনুসরণ করে যে সকল মাঙ্গলিক অনুষ্ঠান পালন করা হয়, সেগুলোকে সংস্কার বলে।
- খ)
বিয়ের পরদিন সিঁদুর পরানোর অনুষ্ঠান পালিত হয়। যজ্ঞানুষ্ঠান শেষে বর কনের সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে দেয়। সিঁদুর বিবাহ চিহ্ন, যা একজন হিন্দু নারীর জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। আমাদের দেশে অনেক স্থানে বাসি বিয়ের দিন অর্থাৎ বিয়ের পরদিন এই অনুষ্ঠান হয়। এরপর থেকে স্ত্রী স্বামীর জীবিতাবস্থায় সিঁথিতে সিঁদুর পরতে পারেন।
- গ)
দৃশ্যকল্প-১ এ রিমঝিমের বিয়ে ভেঙে যাওয়ার কারণ হলো পণপ্রথা বা যৌতুকপ্রথা। বিয়ের এক সপ্তাহ আগে পরিমল বাবু বড় অঙ্কের টাকা দাবি করায় রিমঝিম প্রতিবাদ জানিয়ে বিয়ে ভেঙে দেয়।
পাঠ্যবইয়ে বলা হয়েছে, কন্যাকে পাত্রস্থ করার সময় বরপক্ষকে যদি নগদ অর্থ, সম্পদ প্রভৃতি দিতে হয়, তাহলে তাকে পণ বলে। এই পণপ্রথা বা যৌতুকপ্রথা একটি সামাজিক ব্যাধি। পণ গ্রহণ এবং প্রদান, দুটোই সমান অপরাধ। এর মূলে রয়েছে অশিক্ষা, অসচেতনতা এবং পিতৃতান্ত্রিক ও পুরুষ-নিয়ন্ত্রিত সমাজব্যবস্থা। এ কারণে পণপ্রথা অধর্ম হিসেবে গণ্য। বর্তমান সমাজে এটি নিন্দনীয় এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষিদ্ধ।
উদ্দীপকে রিমঝিম শিক্ষিত তরুণী। সে বাবা-মায়ের পছন্দে সুশিক্ষিত চাকরিজীবী পাত্রকে বিয়ে করতে সম্মত হয়েছিল। কিন্তু পরিমল বাবু বিয়ের এক সপ্তাহ আগে বড় অঙ্কের টাকা দাবি করেন। এই দাবি পণপ্রথারই বহিঃপ্রকাশ। রিমঝিম শিক্ষিত ও সচেতন বলে এই অন্যায় মেনে নেয়নি। পাত্র শিক্ষিত হলেও তার পরিবারের পণের দাবি অশিক্ষার লক্ষণ।
সুতরাং পণপ্রথা নামক সামাজিক অপরাধের প্রতিবাদেই রিমঝিম বিয়ে ভেঙে দিয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও