অর্থনীতি • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৩

অর্থনীতি প্রশ্ন

মিঃ 'X' বলেন- এটি জাতির সম্পদের ধরন ও কারণ অনুসন্ধান করে। মি: 'Y' বলেন- এটি মানব জীবনের সাধারণ কার্যাবলি নিয়ে আলোচনা করে।মিঃ 'Z' বলেন- এটিঅসীম অভাব এবংসীমিত সম্পদের মধ্যে সমন্বয় কার্যাবলি আলোচনা করে।

  1. ক)

    মুদ্রাস্ফীতি বলতে কী বোঝায়?

    (1)
  2. খ)

    দুষ্প্রাপ্যতা সৃষ্টি হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    'Z' ব্যক্তি যে সংজ্ঞাটি দিয়েছেন তা উল্লেখ করে সংজ্ঞাটির বৈশিষ্ট্য' লেখো।

    (3)
  4. ঘ)

    'X' ও 'Y' মতবাদের পার্থক্য বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    দেশে দ্রব্য ও সেবার সাধারণ দামস্তর ক্রমাগত বাড়তে থাকা এবং ফলে মুদ্রার ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়াকে মুদ্রাস্ফীতি (Inflation) বলে।

  2. খ)

    মানুষের অভাব অসীম, কিন্তু সেই অভাব পূরণের উপায় বা সম্পদ সীমিত। সীমিত সম্পদ দিয়ে সব অভাব একসাথে মেটানো সম্ভব হয় না, ফলে কোনো কোনো দ্রব্য বা সম্পদ চাহিদার তুলনায় কম পড়ে যায়। একে দুষ্প্রাপ্যতা বলে। এ কারণে মানুষকে অগ্রাধিকার ঠিক করে বেছে নিতে হয়। সুতরাং অসীম অভাবের বিপরীতে সম্পদের সীমিত জোগানই দুষ্প্রাপ্যতা সৃষ্টির কারণ।

  3. গ)

    'Z' ব্যক্তি যে সংজ্ঞা দিয়েছেন তা অধ্যাপক লিওনেল রবিন্স (Lionel Robbins)-এর দুষ্প্রাপ্যতা বা অভাব-সম্পদ-সংক্রান্ত সংজ্ঞা। তাঁর মতে, অর্থনীতি এমন একটি বিজ্ঞান, যা মানুষের অসীম অভাব এবং বিকল্প ব্যবহারযোগ্য সীমিত সম্পদের মধ্যে সম্পর্ক হিসেবে মানুষের আচরণ বিশ্লেষণ করে।

    সংজ্ঞাটির বৈশিষ্ট্য:
    ১. অসীম অভাব: মানুষের অভাব অসংখ্য ও ক্রমবর্ধমান।
    ২. সীমিত সম্পদ: অভাব মেটানোর সম্পদ সীমিত বা দুষ্প্রাপ্য।
    ৩. সম্পদের বিকল্প ব্যবহার: একই সম্পদ একাধিক কাজে ব্যবহার করা যায়, তাই কোনটিতে ব্যবহার করা হবে তা বেছে নিতে হয়।
    ৪. পছন্দ বা বাছাই: দুষ্প্রাপ্যতার কারণে মানুষকে অগ্রাধিকার ঠিক করে পছন্দ করতে হয়।
    ৫. বিজ্ঞান হিসেবে স্বীকৃতি: এই সংজ্ঞায় অর্থনীতিকে একটি বিজ্ঞান হিসেবে দেখা হয়েছে।

  4. ঘ)

    উদ্দীপকের 'X' ব্যক্তির মতবাদ হলো অ্যাডাম স্মিথের সম্পদ-সংক্রান্ত সংজ্ঞা, যেখানে অর্থনীতিকে জাতির সম্পদের প্রকৃতি ও কারণ অনুসন্ধানের শাস্ত্র বলা হয়েছে। আর 'Y' ব্যক্তির মতবাদ হলো অধ্যাপক মার্শালের কল্যাণ-সংক্রান্ত সংজ্ঞা, যেখানে মানুষের সাধারণ জীবনযাত্রার কার্যাবলি আলোচনার কথা বলা হয়েছে। দুটি মতবাদের পার্থক্য নিচে বিশ্লেষণ করা হলো।

    ১. আলোচ্য বিষয়: 'X' মতবাদে কেন্দ্রবিন্দু হলো সম্পদ, অর্থাৎ সম্পদের উৎপাদন ও বৃদ্ধি। 'Y' মতবাদে কেন্দ্রবিন্দু হলো মানুষ ও তার জীবনযাত্রার কার্যাবলি।
    ২. গুরুত্ব: 'X' মতবাদে সম্পদকেই মুখ্য ধরা হয়েছে এবং মানুষকে গৌণ বিবেচনা করা হয়েছে। 'Y' মতবাদে মানুষের কল্যাণকে মুখ্য এবং সম্পদকে কল্যাণের উপায় মনে করা হয়েছে।
    ৩. উদ্দেশ্য: 'X' মতবাদের উদ্দেশ্য জাতীয় সম্পদ বৃদ্ধি করা। 'Y' মতবাদের উদ্দেশ্য মানুষের বস্তুগত কল্যাণ বৃদ্ধি করা।
    ৪. পরিধি: 'X' মতবাদ সম্পদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ বলে এর পরিধি সংকীর্ণ। 'Y' মতবাদে মানুষের সাধারণ জীবনের কাজকর্ম আলোচিত হয় বলে এর পরিধি তুলনামূলকভাবে বিস্তৃত।

    অতএব, 'X' মতবাদ সম্পদকেন্দ্রিক এবং 'Y' মতবাদ মানুষ ও কল্যাণকেন্দ্রিক, এটিই দুটির মূল পার্থক্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন