বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৪
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন
- ক)(1)
ইতিহাস সম্পর্কে লিওপোল্ড ফন্ র্যাংকে প্রদত্ত সংজ্ঞাটি লেখো।
- খ)(2)
হেরোডোটাস তার গবেষণাকর্মে কেন ইতিহাস শব্দটি ব্যবহার করেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের ছক-ক দ্বারা ইতিহাসের কোন উপাদানকে নির্দেশ করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
ছক-খ পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস জানতে কতখানি ভূমিকা রাখবে বলে মনে কর? পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
লিওপোল্ড ফন র্যাংকের মতে, ইতিহাস হলো অতীতে যা সত্যিই ঘটেছিল, তার যথাযথ বর্ণনা।
- খ)
‘হিস্ট্রি’ শব্দটি গ্রিক ‘হিস্টোরিয়া’ থেকে এসেছে, যার অর্থ অনুসন্ধান বা গবেষণা। হেরোডোটাস গ্রিক-পারসিক যুদ্ধের ঘটনা অনুসন্ধান করে প্রমাণসহ লিপিবদ্ধ করেছিলেন। তাই তিনি তাঁর গবেষণাকর্মে ‘ইতিহাস’ শব্দটি ব্যবহার করেন।
- গ)
ছক-ক-এ মেগাস্থিনিসের ‘ইন্ডিকা’, ফা-হিয়েনের ‘ফো-কুয়ো-কি’ ও হিউয়েন সাং-এর ‘সি-ইউ-কি’ উল্লেখ আছে। এগুলো বিদেশি পর্যটকদের ভ্রমণ-বিবরণ, যা ইতিহাসের সাহিত্যিক (লিখিত) উপাদান।
বিদেশি পর্যটকরা তাদের সময়ের শাসনব্যবস্থা, সমাজ, ধর্ম, অর্থনীতি ও মানুষের জীবনযাত্রা লিখে গেছেন। যেমন মেগাস্থিনিস মৌর্য যুগের কথা এবং ফা-হিয়েন ও হিউয়েন সাং গুপ্ত ও পরবর্তী যুগের কথা লিখেছেন। এসব বিবরণ থেকে অতীত সম্পর্কে মূল্যবান তথ্য পাওয়া যায়।
- ঘ)
ছক-খ-এ গুপ্তযুগের স্বর্ণমুদ্রা, শশাঙ্কের স্বর্ণমুদ্রা ও প্রাচীন শিল্পকীর্তি আছে। এগুলো প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদান। পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস জানতে এদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ, তবে একা যথেষ্ট নয়।
১. সত্যতা যাচাই: মুদ্রা ও শিল্পকীর্তি থেকে শাসকের নাম, সময়কাল ও শাসনব্যবস্থা সম্পর্কে প্রামাণিক তথ্য পাওয়া যায়। এতে লিখিত বিবরণের সত্যতা যাচাই করা যায়।
২. অর্থনীতি ও শিল্পের ধারণা: স্বর্ণমুদ্রা থেকে সে সময়ের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং শিল্পকীর্তি থেকে সংস্কৃতি ও শিল্পরুচির পরিচয় মেলে।
৩. সীমাবদ্ধতা: মুদ্রা ও স্থাপত্য থেকে ধারাবাহিক ঘটনা, কারণ ও ফলাফল এবং সাধারণ মানুষের জীবন সম্পর্কে পূর্ণ তথ্য পাওয়া যায় না। এর জন্য ছক-ক-এর মতো সাহিত্যিক উপাদান লাগে।সুতরাং, ছক-খ পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস জানতে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক, কিন্তু সাহিত্যিক উপাদানের সাথে মিলিয়ে ব্যবহার করলেই পূর্ণ ইতিহাস জানা সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও