বাংলা ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২২
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
কোডিড-১৯ আতঙ্কে হঠাৎ করেই গোটা বিশ্বের মতো বাংলাদেশও লকডাউনে থমকে গেল। সংক্রমণ ক্রমশ বাড়তে লাগল। মৃত্যুর আশঙ্কায় মানুষ দিশেহারা। ঠিক সে সময় স্বেচ্ছাসেবী কিছু সংগঠন, ডাক্তার-নার্স, পুলিশ, সাংবাদিকসহ অনেকে সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে অসহায় মানুষদের খাদ্য ও ওষুধপত্র সরবরাহ, রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা প্রদান এবং লাশ দাফন ও সৎকারসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়। পক্ষান্তরে কিছু স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি জনগণের সেবার নামে অর্থ আত্মসাতে লিপ্ত হয়।
- ক)(1)
মোতাহের হোসেন চৌধুরী কোন পত্রিকায় সাথে যুক্ত ছিলেন?
- খ)(2)
প্রাণিত্বের বাঁধন' থেমে মুক্তি পাওয়া বলতে লেখক কী বুঝিয়েছেন ?
- গ)(3)
উদ্দীপকের সম্মুখযোদ্ধাদের কাজ ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব' প্রবন্ধের যে দিকটি তুলে ধরেছ তা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি শিক্ষার আসল উদ্দেশ্যটি উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হয়েছে”- মন্তব্যটির যথার্থতা মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
মোতাহের হোসেন চৌধুরী 'শিখা' পত্রিকার সাথে যুক্ত ছিলেন।
- খ)
'প্রাণিত্বের বাঁধন' বলতে মানুষের আহার, নিদ্রা, ভোগ-বিলাস ও স্বার্থচিন্তার মতো পশুসুলভ প্রবৃত্তিকে বোঝানো হয়েছে। শিক্ষার মাধ্যমে মানুষ এসব প্রবৃত্তির দাসত্ব থেকে মুক্ত হয়ে জ্ঞান, সংস্কৃতি ও মানবিক গুণের চর্চা করতে পারে। এভাবে প্রাণিত্ব ছাড়িয়ে মনুষ্যত্বে উত্তরণ ঘটলে মানুষ প্রকৃত মুক্তি পায়। লেখক এ মুক্তির কথাই বুঝিয়েছেন।
- গ)
উদ্দীপকের সম্মুখযোদ্ধাদের কাজ 'শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব' প্রবন্ধের মনুষ্যত্ব, মানবসেবা ও ত্যাগের দিকটি তুলে ধরেছে।
প্রবন্ধে লেখক বলেছেন, শিক্ষার আসল লক্ষ্য মানুষের মধ্যে মনুষ্যত্বের বিকাশ, যেখানে মানুষ স্বার্থ ছেড়ে অন্যের কল্যাণে এগিয়ে আসে। কোভিড-১৯ এর সময় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, ডাক্তার-নার্স, পুলিশ ও সাংবাদিকেরা নিজেদের ঝুঁকি উপেক্ষা করে অসহায় মানুষকে খাদ্য, ওষুধ ও চিকিৎসা দিয়েছেন, এমনকি লাশ দাফন ও সৎকারও করেছেন। এসব কাজে তাঁদের মানবিকতা ও মনুষ্যত্ব প্রকাশ পেয়েছে।
- ঘ)
উক্তিটি যথার্থ। 'শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব' প্রবন্ধে শিক্ষার আসল উদ্দেশ্য হলো মানুষের মনুষ্যত্বের বিকাশ, আর অর্থ সাধনা বা স্বার্থসিদ্ধিকে জীবনের লক্ষ্য করা তার পরিপন্থী।
১. লোভ ও মনুষ্যত্বহীনতা: লেখকের মতে লোভের ফলে মানুষের মনুষ্যত্বের মৃত্যু ঘটে। উদ্দীপকের স্বার্থান্বেষী ব্যক্তিরা সেবার নামে জনগণের অর্থ আত্মসাৎ করেছে, যা চরম লোভ ও মনুষ্যত্বহীনতার পরিচয়।
২. সংকটকালে অমানবিকতা: মৃত্যুভয়ে দিশেহারা মানুষের সাহায্যের অর্থ আত্মসাৎ করা নৈতিক অধঃপতন, যা শিক্ষার প্রকৃত শিক্ষার সম্পূর্ণ বিপরীত।
৩. প্রাণিত্বের বাঁধন: এরা প্রাণিত্বের বাঁধন ছিন্ন করতে পারেনি, ফলে তারা শিক্ষার আসল উদ্দেশ্য, অর্থাৎ মানবিক মুক্তি উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হয়েছে।সুতরাং, স্বার্থান্বেষী ব্যক্তিরা শিক্ষার আসল উদ্দেশ্য উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হয়েছে; মন্তব্যটি যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও