বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৪
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন
- ক)(1)
চৈনিক পরিব্রাজকদের বাংলায় আগমন ঘটে কত শতকে?
- খ)(2)
"মানব-সমাজের অনন্ত ঘটনাপ্রবাহই হলো ইতিহাস"- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
প্রদত্ত চিত্র ইতিহাসের কোন ধরনের উপাদান নির্দেশ করছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
একমাত্র উক্ত উপাদান দ্বারা পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস রচনা করা কি সম্ভব? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
চৈনিক পরিব্রাজকদের বাংলায় আগমন ঘটে খ্রিস্টীয় ৫ম থেকে ৭ম শতকে (ফা-হিয়েন ৫ম শতকে, হিউয়েন সাং ৭ম শতকে)।
- খ)
ইতিহাস মানুষের অতীত কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিক বিবরণ। মানুষের জীবনযাত্রা, সমাজ, অর্থনীতি, রাজনীতি ও সংস্কৃতির পরিবর্তন প্রতিনিয়ত ঘটছে। এই অন্তহীন ঘটনাপ্রবাহ কালের ধারায় লিপিবদ্ধ হয়ে ইতিহাসে পরিণত হয়। তাই মানব-সমাজের অনন্ত ঘটনাপ্রবাহই ইতিহাস।
- গ)
প্রদত্ত চিত্রে লিপি বা চিহ্ন খোদিত একটি প্রাচীন মুদ্রা বা সিলমোহরের মতো বস্তু এবং একটি মাটির পাত্র (মৃৎপাত্র) দেখা যাচ্ছে। এগুলো ইতিহাসের প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদান।
প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদান হলো খননকাজ বা অনুসন্ধানের মাধ্যমে পাওয়া অতীতের বস্তুগত নিদর্শন। মুদ্রা, মৃৎপাত্র, শিলালিপি, স্থাপত্য ও মূর্তি এর অন্তর্ভুক্ত। এসব উপাদান থেকে প্রাচীন মানুষের জীবনযাত্রা, শিল্প ও অর্থনীতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
- ঘ)
না, একমাত্র প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদান দ্বারা পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস রচনা করা সম্ভব নয়।
১. খণ্ডিত তথ্য: প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সময়ের ধাক্কায় অনেক সময় ভেঙে বা নষ্ট হয়ে যায়। ফলে এগুলো থেকে অতীতের সম্পূর্ণ চিত্র পাওয়া যায় না।
২. ব্যাখ্যার সীমাবদ্ধতা: মুদ্রা বা মৃৎপাত্র থেকে ঘটনার কারণ, ফলাফল বা মানুষের চিন্তাভাবনা স্পষ্টভাবে জানা যায় না।
৩. অন্য উপাদানের প্রয়োজন: রাজনৈতিক ঘটনা, ধর্ম, সমাজব্যবস্থা ও শাসনপদ্ধতি জানতে সাহিত্যিক উপাদান, বিদেশি পর্যটকদের বিবরণ ও লোকসাহিত্যের সাহায্য নিতে হয়।সুতরাং, পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস রচনার জন্য প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদানের সাথে অন্য উপাদানও প্রয়োজন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও