জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৭

জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

মিসেস রেবা বিয়ের ১১ বছর পর প্রথম মা হতে চলেছেন। ডাক্তার বললেন নারী ও পুরুষের প্রজননিক সমস্যার কারণে গর্ভধারণে এ ধরনের বিলম্ব বা বাধা আসে। ডাক্তার রেবাকে গর্ভকালীন সময়ে সুষম খাবার গ্রহণের পাশাপাশি অন্যান্য পালনীয় বিষয় সম্পর্কে বললেন।

  1. ক)

    IVF-এর পূর্ণ অর্থ কী?

    (1)
  2. খ)

    অসমোরেগুলেশন বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপক অনুসারে মিসেস রেবার পালনীয় বিষয়গুলি ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপক সংশ্লিষ্ট ডাক্তারের প্রথম উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    IVF-এর পূর্ণ অর্থ হলো In Vitro Fertilization।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় জীবদেহের রক্ত, লসিকা ও কোষীয় তরলে পানি ও বিভিন্ন লবণের মধ্যকার ভারসাম্য বা অভিস্রবণিক চাপ সুনির্দিষ্ট মাত্রায় বজায় থাকে, তাকে অসমোরেগুলেশন বলে। মানবদেহে প্রধানত বৃক্ক এই কাজটি সম্পন্ন করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপক অনুসারে মিসেস রেবার জন্য গর্ভকালীন পালনীয় বিষয়সমূহ নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:

    ১. পুষ্টিকর ও সুষম খাদ্য গ্রহণ: ভ্রূণের বৃদ্ধি ও গর্ভবতীর স্বাস্থ্যের জন্য অতিরিক্ত ক্যালরি, প্রোটিন, পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম, আয়রন, ফলিক অ্যাসিড, ভিটামিন এবং প্রচুর পানি ও আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণ করতে হবে।
    ২. নিয়মিত অ্যান্টিনেটাল চেক-আপ (ANC): ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট বিরতিতে শারীরিক পরীক্ষা, রক্তচাপ ও ওজন মাপা এবং আল্ট্রাসনোগ্রাম করানো আবশ্যক।
    ৩. পরিমিত বিশ্রাম ও ঘুম: প্রতিদিন অন্তত ৮ ঘণ্টা রাতের ঘুম এবং দুপুরে ১-২ ঘণ্টা বিশ্রাম নেওয়া প্রয়োজন।
    ৪. ভারী কাজ পরিহার: অতিরিক্ত পরিশ্রম, ভারী বস্তু তোলা ও মানসিক চাপ এড়িয়ে চলা উচিত।
    ৫. ব্যক্তিগত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও হালকা ব্যায়াম: ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং নিয়মিত মৃদু হাঁটাচলা করা দরকার।
    ৬. চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত ওষুধ না খাওয়া: যেকোনো ওষুধ সেবনের আগে চিকিৎসকের অনুমোদন নেওয়া আবশ্যক এবং ঝুঁকিপূর্ণ লক্ষণ (যেমন- রক্তপাত, তীব্র মাথাব্যথা) দেখা দিলে অবিলম্বে হাসপাতালে যাওয়া উচিত।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ডাক্তারের প্রথম উক্তিটি ছিল— "নারী ও পুরুষের প্রজননিক সমস্যার কারণে গর্ভধারণে এ ধরনের বিলম্ব বা বাধা আসে"। চিকিৎসা বিজ্ঞানের আলোকে উক্তিটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও যথার্থ। নিম্নে এর বিশ্লেষণ দেওয়া হলো:

    গর্ভধারণ না হওয়া বা বন্ধ্যত্বের (Infertility) পেছনে নারী ও পুরুষ উভয়েরই শারীরবৃত্তীয় কারণ দায়ী হতে পারে:
    ১. পুরুষের প্রজননিক সমস্যাসমূহ:

    • শুক্রাণুজনিত সমস্যা: বীর্যে শুক্রাণুর সংখ্যা কম হওয়া (অলিগোস্পার্মিয়া), শুক্রাণুর সম্পূর্ণ অনুপস্থিতি (অ্যাজুস্পার্মিয়া) কিংবা শুক্রাণুর গঠনগত ত্রুটি ও গতিশীলতাহীনতা।
    • নালীপথের প্রতিবন্ধকতা: ভ্যাস ডিফারেন্স বা এপিডিডাইমিসে ব্লকেজ থাকা।
    • হরমোনজনিত সমস্যা: টেস্টোস্টেরন বা গোনাডোট্রপিন হরমোনের ঘাটতি।
    • অন্যান্য কারণ: ভেরিকোসিল, টেস্টিকুলার ইনফেকশন বা স্নায়বিক জটিলতা।

    ২. নারীর প্রজননিক সমস্যাসমূহ:

    • ডিম্বস্ফোটনজনিত সমস্যা (Ovulation disorder): ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বাণু নির্গত না হওয়া, যেমন- পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিন্ড্রোম (PCOS)।
    • ফ্যালোপিয়ান নালীর ব্লকেজ: সংক্রমণ বা এন্ডোমেট্রিওসিসের কারণে নালী বন্ধ হয়ে গেলে ডিম্বাণু ও শুক্রাণুর মিলন বাধাগ্রস্ত হয়।
    • জরায়ুর অস্বাভাবিকতা: জরায়ুতে ফাইব্রয়েড টিউমার, জন্মগত ত্রুটি কিংবা এন্ডোমেট্রিয়ামের সমস্যা যা ভ্রূণ প্রতিস্থাপনে বাধা সৃষ্টি করে।
    • হরমোনের ভারসাম্যহীনতা: ইস্ট্রোজেন, প্রজেস্টেরন ও প্রোল্যাকটিনের ভারসাম্য বিঘ্নিত হওয়া।

    সুতরাং, গর্ভধারণে বিলম্ব কেবল নারীর একার সমস্যা নয়, বরং নারী ও পুরুষ উভয়ের প্রজননিক জটিলতার কারণেই এটি ঘটতে পারে— ডাক্তারের এই উক্তিটি সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক ও যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন