রসায়ন ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৫
রসায়ন ২য় পত্র প্রশ্ন
উদ্দীপকটি লক্ষ কর: 'A' + CH3MgI⟶\text{CH}_3\text{MgI} \longrightarrow অস্থায়ী যৌগ →H+/H2OCH3CH2OH\xrightarrow{\text{H}^+/\text{H}_2\text{O}} \text{CH}_3\text{CH}_2\text{OH} 'A' + CH3MgI⟶\text{CH}_3\text{MgI} \longrightarrow অস্থায়ী যৌগ →H+/H2O(CH3)3COH\xrightarrow{\text{H}^+/\text{H}_2\text{O}} (\text{CH}_3)_3\text{COH}
- ক)(1)
স্বনিদের্শক কাকে বলে?
- খ)(2)
H₂O উভধর্মী যৌগ-ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
'A' ও 'B' যৌগের কোনটি থেকে প্রোপেন তৈরি করা যায়? বিক্রিয়াসহ দেখাও।
- ঘ)(4)
'A' ও 'B' যৌগের কেন্দ্রাকর্ষী যুত বিক্রিয়ার সক্রিয়তা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যেসব রাসায়নিক বিক্রিয়ায় ব্যবহৃত কোনো একটি বিক্রিয়ক বা উৎপাদ নিজেই নির্দেশক হিসেবে কাজ করে এবং বিক্রিয়ার সমাপ্তিবিন্দু নির্দেশ করে, তাকে স্ব-নির্দেশক (Self-indicator) বলে। যেমন: KMnO₄।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ব্রনস্টেড-লাউরি মতবাদ অনুসারে, যে পদার্থ প্রোটন দান করতে পারে তা এসিড এবং যে পদার্থ প্রোটন গ্রহণ করতে পারে তা ক্ষারক। পানির (H₂O) অণু এসিড ও ক্ষারক উভয়ের মতোই আচরণ করতে পারে।
১. ক্ষারক হিসেবে আচরণ: এসিডের (যেমন HCl) উপস্থিতিতে H₂O প্রোটন (H⁺) গ্রহণ করে হাইড্রোনিয়াম আয়ন (H₃O⁺) গঠন করে, ফলে এটি ক্ষারক হিসেবে কাজ করে:
HCl + H₂O ⇌ H₃O⁺ + Cl⁻২. এসিড হিসেবে আচরণ: ক্ষারকের (যেমন NH₃) উপস্থিতিতে H₂O প্রোটন (H⁺) দান করে হাইড্রোক্সাইড আয়ন (OH⁻) গঠন করে, ফলে এটি এসিড হিসেবে কাজ করে:
NH₃ + H₂O ⇌ NH₄⁺ + OH⁻যেহেতু পানি প্রোটন দান ও গ্রহণ উভয়ই করতে পারে, তাই H₂O একটি উভধর্মী যৌগ।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের প্রথম বিক্রিয়ায়, গ্রিগনার্ড বিকারক (CH₃MgI) এর সাথে যৌগ 'A' যুক্ত হয়ে আর্দ্রবিশ্লেষণের পর প্রাইমারি অ্যালকোহল ইথানল (CH₃CH₂OH) উৎপন্ন করে। সুতরাং, যৌগ 'A' হলো ফর্মালডিহাইড বা মিথান্যাল (HCHO)।
দ্বিতীয় বিক্রিয়ায়, গ্রিগনার্ড বিকারকের সাথে বিক্রিয়া করে ৩° অ্যালকোহল অর্থাৎ ২-মিথাইলপ্রোপান-২-অল [(CH₃)₃COH] উৎপন্ন হয়। উদ্দীপকের দ্বিতীয় বিক্রিয়ার প্রারম্ভিক যৌগটি হলো 'B'। গ্রিগনার্ড বিকারকের সাথে কিটোন বিক্রিয়া করলেই কেবল ৩° অ্যালকোহল তৈরি হয়। সুতরাং, ৩টি কার্বনবিশিষ্ট যৌগ 'B' হলো প্রোপানন বা অ্যাসিটোন (CH₃COCH₃)।
'A' (মিথান্যাল) ও 'B' (প্রোপানন)-এর মধ্যে 'B' যৌগ থেকে প্রোপেন তৈরি করা যায়।
প্রোপাননকে জিংক অ্যামালগাম (Zn-Hg) ও গাঢ় হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCl) দ্বারা বিজারিত করলে (ক্লিমেনসেন বিজারণ) এর কার্বনিল মূলকটি (>C=O) মিথিলিন মূলকে (-CH₂-) রূপান্তরিত হয়ে প্রোপেন উৎপন্ন করে:
CH₃-CO-CH₃ + 4[H] —(Zn-Hg / গাঢ় HCl)→ CH₃-CH₂-CH₃ + H₂O - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের 'A' যৌগটি হলো মিথান্যাল (HCHO) এবং 'B' যৌগটি হলো প্রোপানন (CH₃COCH₃)। কার্বনিল যৌগের কেন্দ্রাকর্ষী যুত (Nucleophilic addition) বিক্রিয়ায় সক্রিয়তা প্রধানত দুটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে: (১) ইলেকট্রনীয় প্রভাব এবং (২) স্টেরিক প্রভাব বা স্থানিক বাধা।
১. ইলেকট্রনীয় প্রভাব: কার্বনিল মূলকের (>C=O) কার্বন ও অক্সিজেনের তড়িৎ ঋণাত্মকতার পার্থক্যের কারণে কার্বন পরমাণু আংশিক ধনাত্মক চার্জযুক্ত (δ+) হয়। মিথান্যালে (HCHO) কার্বনিল কার্বনের সাথে দুটি হাইড্রোজেন পরমাণু যুক্ত থাকে, যাদের কোনো ইলেকট্রন দানকারী আবেশীয় প্রভাব (+I) নেই। ফলে কার্বনিল কার্বনে ধনাত্মক চার্জের ঘনত্ব হ্রাস পায় না। অন্যদিকে, প্রোপাননে (CH₃COCH₃) কার্বনিল কার্বনের সাথে দুটি মিথাইল (-CH₃) মূলক যুক্ত থাকে। মিথাইল মূলক ধনাত্মক আবেশীয় (+I) ধর্ম প্রদর্শন করে কার্বনিল কার্বনের দিকে ইলেকট্রন ঠেলে দেয়, ফলে কার্বনিল কার্বনের আংশিক ধনাত্মক চার্জের তীব্রতা অনেকটাই প্রশমিত হয়। কার্বনে ধনাত্মক চার্জ যত বেশি থাকে, কেন্দ্রাকর্ষী বিকারক তত দ্রুত আক্রমণ করতে পারে। তাই ইলেকট্রনীয় প্রভাবে HCHO-এর সক্রিয়তা বেশি।
২. স্টেরিক প্রভাব (স্থানিক বাধা): মিথান্যালে কার্বনিল কার্বনের সাথে আকারে ছোট দুটি হাইড্রোজেন পরমাণু যুক্ত থাকায় স্টেরিক বাধা খুবই কম থাকে, ফলে কেন্দ্রাকর্ষী বিকারক সহজে আক্রমণ করতে পারে। কিন্তু প্রোপাননে কার্বনিল কার্বনের সাথে দুটি তুলনামূলকভাবে বড় মিথাইল মূলক যুক্ত থাকায় স্থানিক বাধার সৃষ্টি হয়, যা নিউক্লিওফাইলের আক্রমণকে বাধাগ্রস্ত করে।
অতএব, ইলেকট্রনীয় ও স্টেরিক—উভয় দিক বিবেচনা করলে দেখা যায় যে, কেন্দ্রাকর্ষী যুত বিক্রিয়ায় 'A' যৌগের (HCHO) সক্রিয়তা 'B' যৌগের (CH₃COCH₃) তুলনায় বেশি। সক্রিয়তার ক্রম: A > B।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও