DU • ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় খ ইউনিট (কলা) ভর্তি পরীক্ষা ২০২৩-২০২৪

প্রশ্ন ও সমাধান

অনুচ্ছেদটি পড়ে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:যার ভিত্তি পচে গেছে, তাকে একদম উপড়ে ফেলে নতুন করে ভিত্তি না গাঁথলে তার উপর ইমারত যতবার খাড়া করা যাবে, ততবারই তা পড়ে যাবে। দেশের যারা শত্রু, দেশের যা-কিছু মিথ্যা, ভণ্ডামি, মেকি তা সব দূর করতে প্রয়োজন হবে আগুনের সম্মার্জনা! আমার এমন গুরু নেই, যার খাতিরে সে আগুন-সত্যকে অস্বীকার করে কারুর মিথ্যা বা ভণ্ডামিকে প্রশ্রয় দেবে। আমি সে-দাসত্ব হতে সম্পূর্ণ মুক্ত। আমি কোনো দিনই কারুর বাণীকে বেদবাক্য বলে মেনে নেব না, যদি তার সত্যতা প্রাণে তার সাড়া না দেয়। না বুঝে বোঝার ভণ্ডামি করে পাঁচ জনের শ্রদ্ধা আর প্রশংসা পাবার লোভ আমি কোনো দিনই করব না।

(4.1) উপরের অংশটুকু কার লেখা? কোন রচনার অংশবিশেষ?

(4.2) 'আগুনের সম্মার্জনা' বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

(4.3) ইমারত পড়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে কেন?

(4.4) লেখক কোন দাসত্বের কথা বলেছেন?

(4.5) এখানে ভণ্ডামি বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তর ও ব্যাখ্যা

(৪.১) অংশটুকু কাজী নজরুল ইসলামের লেখা, তাঁর 'আমার পথ' প্রবন্ধের অংশবিশেষ।

(৪.২) 'আগুনের সম্মার্জনা' বলতে বোঝানো হয়েছে আগুন দিয়ে পরিষ্কার করা, অর্থাৎ নির্মম ও কঠোর বিপ্লবী সংস্কারের মাধ্যমে দেশের সব জঞ্জাল, মিথ্যা, ভণ্ডামি ও অন্যায়কে সমূলে বিনাশ করা।

(৪.৩) যে ভিত্তি পচে গেছে তার ওপর যত বারই ইমারত তোলা হোক, ভিত্তি দুর্বল থাকায় তা আবার ভেঙে পড়বে। এখানে সমাজ ও দেশের পচা, দুর্নীতিগ্রস্ত ভিত্তিকে রূপকভাবে বোঝানো হয়েছে, যা নতুন করে না গড়লে কোনো সংস্কারই টিকবে না।

(৪.৪) লেখক অন্ধভক্তির দাসত্বের কথা বলেছেন, অর্থাৎ কোনো গুরু বা ব্যক্তিকে এমনভাবে মেনে চলা যাতে সত্য ও বিবেককে অস্বীকার করে মিথ্যা বা ভণ্ডামিকে প্রশ্রয় দিতে হয়। তিনি এই মানসিক দাসত্ব থেকে মুক্ত।

(৪.৫) এখানে ভণ্ডামি বলতে না বুঝেও বোঝার ভান করে এবং প্রকৃত সত্যনিষ্ঠা না রেখে অন্যের শ্রদ্ধা বা প্রশংসা পাওয়ার জন্য কপটতা ও ছলনা করা বোঝানো হয়েছে, আর সমাজের মেকি ও মিথ্যা আচরণকেও।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন