জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৯
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
হিমোসিল কাকে বলে?
- খ)(2)
মুক্ত সংবহন বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের প্রাণীটির জীবনে উল্লেখিত দশার ভূমিকা উল্লেখ কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লেখিত অঙ্গটি অনন্য কেন? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আর্থ্রোপোডা পর্বের প্রাণীদের রক্তপূর্ণ দেহগহ্বরকে হিমোসিল (Haemocoel) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে সংবহনতন্ত্রে রক্ত সর্বদা রক্তনালির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত না হয়ে নির্দিষ্ট নালি থেকে উন্মুক্ত দেহগহ্বর বা সাইনাসে প্রবেশ করে এবং সরাসরি কলাকোষের সংস্পর্শে এসে পুনরায় নালিপথে ফিরে আসে, তাকে মুক্ত বা অপূর্ণ সংবহনতন্ত্র বলে। উদাহরণস্বরূপ, ঘাসফড়িং ও চিংড়ির মতো আর্থ্রোপোডা পর্বের প্রাণীদের রক্ত সংবহনতন্ত্র মুক্ত প্রকৃতির।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রাণীটি হলো ঘাসফড়িং (পতঙ্গ) এবং দশাটি হলো 'নিম্ফ' দশা। ঘাসফড়িংয়ের অসম্পূর্ণ রূপান্তরে (Hemimetabolous) নিম্ফ দশার ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ:
১. অঙ্গজ বৃদ্ধি ও বিকাশ: ডিম ফুটে বের হওয়া অপরিণত ঘাসফড়িংকে নিম্ফ বলে। এটি দেখতে ক্ষুদ্রাকৃতির পূর্ণাঙ্গ প্রাণীর মতো হলেও এতে ডানা ও জননাঙ্গ অপূর্ণ থাকে। নিম্ফ দশায় প্রচুর খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে দেহের দ্রুত বৃদ্ধি ঘটে।
২. খোলস মোচন বা স্ফোটন (Moulting): নিম্ফ দশায় কয়েকবার (সাধারণত ৫ বার) পুরোনো কিউটিকল মোচন বা একডাইসিস ঘটে। প্রতিটি মোচনের মধ্যবর্তী দশাকে ইনস্টার (Instar) বলে। প্রতিবার খোলস মোচনের সাথে সাথে এর আকার বৃদ্ধি পায় এবং অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলোর পূর্ণতা ঘটে।
৩. ডানা ও জননাঙ্গের বিকাশ: পরবর্তী ইনস্টারগুলোতে ক্রমান্বয়ে ডানা-প্যাড থেকে পূর্ণাঙ্গ ডানা এবং জননাঙ্গ বিকশিত হয়ে এটি পূর্ণাঙ্গ বা ইমাগো দশায় রূপান্তরিত হয়।
অতএব, নিম্ফ দশা অতিক্রম করেই ঘাসফড়িং তার প্রজননক্ষম ও পূর্ণাঙ্গ রূপ লাভ করে, যা প্রজাতিটির বংশরক্ষায় প্রধান ভূমিকা পালন করে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত পতঙ্গের অনন্য অঙ্গটি হলো দর্শন অঙ্গ বা 'পুঞ্জাক্ষি' (Compound Eye)। এটি নিম্নলিখিত কারণে অনন্য:
১. ওমাটিডিয়ামের সমন্বয়: ঘাসফড়িংয়ের প্রতিটি পুঞ্জাক্ষি প্রায় ২০০০টি স্বাধীন দর্শন একক বা ওমাটিডিয়াম নিয়ে গঠিত। ওমাটিডিয়ামের এমন স্বতন্ত্র গঠন অন্য কোনো মেরুদণ্ডী প্রাণীর চোখে দেখা যায় না।
২. আলোকের তীব্রতার সাথে অভিযোজন: পুঞ্জাক্ষি আলোকের তীব্রতার ওপর ভিত্তি করে দুই ধরনের প্রতিবিম্ব তৈরি করতে সক্ষম। উজ্জ্বল আলোতে এটি প্রতিটি ওমাটিডিয়ামের পৃথক প্রতিবিম্ব যুক্ত করে 'অ্যাপোজিশন' বা মোজাইক প্রতিবিম্ব গঠন করে। আবার স্তিমিত বা মৃদু আলোতে রেটিনাল শিথ ও আইরিশ আবরণী সংকুচিত হয়ে সমগ্র আলো প্রতিফলিত করে অস্পষ্ট কিন্তু একত্রিত 'সুপারপজিশন' প্রতিবিম্ব গঠন করে।
৩. গতির প্রতি সংবেদনশীলতা: একাধিক কোণের ওমাটিডিয়ামের কারণে পতঙ্গ অতি দ্রুত যেকোনো নড়াচড়া বা গতিবিধি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে শনাক্ত করতে পারে। এর ফলে এরা শত্রু থেকে আত্মরক্ষা ও খাদ্য সংগ্রহে বিশেষ সুবিধা পায়।
৪. ওয়াইড-অ্যাঙ্গেল দর্শন: পুঞ্জাক্ষির উত্তল অবস্থানের কারণে পতঙ্গ তার চারপাশের প্রায় ৩৬০ ডিগ্রি কোণের বিস্তৃত এলাকা পর্যবেক্ষণ করতে পারে।
সুতরাং, ওমাটিডিয়াম নির্ভর মোজাইক দৃষ্টি ও দ্বিমুখী অভিযোজন ক্ষমতার কারণে উদ্দীপকে উল্লেখিত দর্শন অঙ্গটি অনন্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও