অর্থনীতি ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

কোনো দেশকে দ্রুত অর্থনৈতিক দিক দিয়ে এগিয়ে নিতে হলে কিছু পূর্বপরিকল্পিত কর্মসূচি গ্রহণ করতে হয়। এসব কর্মসুচিকে আবার কতকগুলো ভাগে ভাগ করা হয়। আয় বৈষম্য হ্রাস, বেকারত্ব ও দারিদ্র্য লাঘব, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, জনসংখ্যা উন্নয়ন, প্রভৃতি ক্ষেত্রে এ কর্মসূচির গুরুত্ব রয়েছে। কিন্তু মূলধন ও ঋণের অভার, তথ্য-উপাত্তের সংকট, দুর্নীতি, অদক্ষ জনগোষ্ঠী, দুর্বল অবকাঠামো, প্রশাসনিক অদক্ষতা প্রভৃতি এ কর্মসূচিতে সফলতার মুখ দেখতে দেয় না।

  1. ক)

    মধ্যমমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা কী?

    (1)
  2. খ)

    স্বল্পমেয়াদী পরিকল্পনার সফলতার ওপর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার সফলতা নির্ভরশীল- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের আলোকে উন্নয়ন পরিকল্পনার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    কী কী কারণে উন্নয়ন পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়। উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সাধারণত ৩ থেকে ৫ বছর মেয়াদের জন্য যে অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়, তাকে মধ্যমমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা (যেমন—১০ থেকে ২০ বছর বা প্রেক্ষিত পরিকল্পনা) বাস্তবায়নের ভিত্তি হলো ছোট ছোট স্বল্পমেয়াদি ও বার্ষিক পরিকল্পনা। দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যের ক্ষুদ্র অংশগুলো স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হয়। স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনায় যদি কোনো ঘাটতি বা ব্যর্থতা তৈরি হয়, তবে তা সরাসরি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য অর্জনকে ব্যাহত করে। তাই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার সামগ্রিক সফলতা স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়নের ওপর নির্ভরশীল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে একটি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি অর্জনে উন্নয়ন পরিকল্পনার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।

    অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিকল্পনা একটি দেশের সীমিত সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করে নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করে। উদ্দীপকের আলোকে উন্নয়ন পরিকল্পনার মাধ্যমে আয় বৈষম্য হ্রাস করা, বেকারত্ব ও দারিদ্র্য দূরীকরণ, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন সম্ভব হয়। সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছাড়া বিশৃঙ্খল অর্থনীতিতে সম্পদ বণ্টন সঠিক হয় না। উদ্দীপকে উল্লিখিত আর্থ-সামাজিক সমস্যাগুলো সমাধান করে একটি দেশকে দ্রুত অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে উন্নয়ন পরিকল্পনা দিকনির্দেশক হিসেবে কাজ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের আলোকে উন্নয়ন পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ার পেছনে অভ্যন্তরীণ ও কাঠামোগত নানা সীমাবদ্ধতা বিদ্যমান রয়েছে।

    উদ্দীপকে উল্লেখিত প্রধান কারণগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
    ১. মূলধন ও ঋণের অভাব: উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের জন্য বিপুল পরিমাণ আর্থিক তহবিলের প্রয়োজন হয়। অভ্যন্তরীণ সঞ্চয় কম হওয়া এবং সহজ শর্তে ঋণের অভাবের কারণে পরিকল্পনা ব্যাহত হয়।
    ২. সঠিক তথ্য-উপাত্তের সংকট: নির্ভুল ও হালনাগাদ তথ্যের অভাবে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা প্রণয়ন করা সম্ভব হয় না, ফলে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বড় ধরনের বিচ্যুতি ঘটে।
    ৩. দুর্নীতি ও অপচয়: তহবিলের অপব্যবহার ও দুর্নীতির কারণে বরাদ্দকৃত অর্থের সুষ্ঠু প্রয়োগ হয় না এবং প্রকল্পের ব্যয় ও সময় বৃদ্ধি পায়।
    ৪. অদক্ষ জনশক্তি ও দুর্বল অবকাঠামো: দক্ষ শ্রমশক্তি ও আধুনিক প্রযুক্তির অভাব এবং অনুন্নত যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ফলে প্রকল্পগুলো যথাসময়ে সুফল বয়ে আনতে পারে না।
    ৫. প্রশাসনিক অদক্ষতা ও দীর্ঘসূত্রিতা: আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, সমন্বয়হীনতা ও নীতি বাস্তবায়নের সদিচ্ছার ঘাটতি উন্নয়ন পরিকল্পনার বাস্তবায়নকে বাধাগ্রস্ত করে।

    অতএব, উদ্দীপকে বর্ণিত এই ত্রুটি ও প্রতিকূলতাগুলো দূর করতে না পারলে উন্নয়ন পরিকল্পনা কাঙ্ক্ষিত সফলতা অর্জন করতে পারে না।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন