অর্থনীতি ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৭

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

বাংলাদেশ বিশ্বের প্রধান পাট উৎপাদন ও রপ্তানিকারক দেশ ছিল। এককালে বাংলাদেশের পাটকে 'স্বর্ণসূত্র' বলা হতো। পরবর্তীতে বিশ্বব্যাপী পাটের বিকল্প আবিষ্কার ও কৃত্রিম আঁশের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় পাটের চাহিদা ও মূল্য দিন দিন হ্রাস পেতে থাকে। সরকার পাটের অতীত ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারে জাতীয় পাটনীতি-২০১১ প্রণয়ন করে। সরকার কৃষকদের পাটচাষে উদ্বুদ্ধকরণ, পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ, বন্ধ পাটকলগুলো পুনরায় চালুসহ নতুন পাটকল স্থাপনে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে। বর্তমানে পাটের উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

  1. ক)

    কুটিরশিল্প কী?

    (1)
  2. খ)

    কীভাবে অর্থনৈতিক উন্নয়নে পিপিপি সহায়তা করে?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের আলোকে বাংলাদেশের পাট শিল্পের সমস্যাবলি চিহ্নিত করো।

    (3)
  4. ঘ)

    তোমার কি মনে হয় পাট শিল্প তার হারানো গৌরব ফিরে পাবে? উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পরিবারের সদস্যদের প্রধান বা অধিকাংশ শ্রমের ওপর ভিত্তি করে স্বল্প পুঁজিতে স্থানীয় কাঁচামাল ব্যবহার করে যে শিল্প পরিচালিত হয়, তাকে কুটিরশিল্প বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পিপিপি (Public-Private Partnership) বা সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বৃহৎ অবকাঠামোগত উন্নয়ন সম্ভব হয়। অর্থনৈতিক উন্নয়নে রাস্তাঘাট, সেতু, বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও বন্দর নির্মাণের জন্য বিপুল পুঁজি, উন্নত প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন হয়, যা সরকারের একার পক্ষে সংস্থান করা কঠিন। পিপিপির মাধ্যমে বেসরকারি খাতের উদ্বৃত্ত অর্থ, আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং সরকারের নীতিগত সহায়তার সমন্বয়ে দ্রুত উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যায়, ফলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের আলোকে বাংলাদেশের পাট শিল্পের প্রধান প্রধান সমস্যাগুলো হলো:
    ১. পাটের কৃত্রিম বিকল্প ও পলিমারের ব্যবহার বৃদ্ধি: বিশ্বব্যাপী পাটের বিকল্প হিসেবে কৃত্রিম আঁশ, পলিথিন ও সিনথেটিক উপকরণের সহজলভ্যতা ও কম মূল্যের কারণে পাটের আন্তর্জাতিক চাহিদা ব্যাপকভাবে হ্রাস পায়।
    ২. ন্যায্যমূল্যের অভাব: বিশ্ববাজারে চাহিদা কমে যাওয়ায় পাটের বাজারদর আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়, ফলে কৃষকেরা উৎপাদন খরচের তুলনায় উপযুক্ত দাম থেকে বঞ্চিত হয়।
    ৩. কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া ও অদক্ষ ব্যবস্থাপনা: ধারাবাহিক লোকসান, জীর্ণ যন্ত্রপাতি ও অদক্ষ ব্যবস্থাপনার কারণে দেশের অনেক পাটকল বন্ধ হয়ে পড়ে।
    ৪. পণ্যের বহুমুখীকরণের অভাব: ঐতিহ্যবাহী চট ও বস্তার বাইরে উন্নত ও আধুনিক বহুমুখী পাটজাত পণ্য উৎপাদনে পিছিয়ে থাকা।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হ্যাঁ, উদ্দীপকে বর্ণিত পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়িত হলে পাট শিল্প তার হারানো গৌরব ফিরে পাবে বলে মনে করি।

    এর সপক্ষে কারণগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
    ১. পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি: বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তন রোধে প্লাস্টিক ও পলিথিনের ক্ষতিকর দিক বিবেচনায় বিশ্ববাজারে পরিবেশবান্ধব ও পচনশীল পাটের বিকল্প পণ্যের চাহিদা নতুন করে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
    ২. সরকারি নীতি ও প্রণোদনা: উদ্দীপকে উল্লেখিত 'জাতীয় পাটনীতি-২০১১' প্রণয়ন, কৃষকদের পাটচাষে উদ্বুদ্ধকরণ ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার ফলে কাঁচাপাটের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় থাকছে।
    ৩. বেসরকারি উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ: সরকার বন্ধ পাটকলগুলো পুনরায় চালু করা এবং নতুন পাটকল স্থাপনে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করছে, যা আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজন ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সহায়তা করবে।
    ৪. পণ্যের বহুমুখীকরণ ও গবেষণা: আধুনিক জিনোম গবেষণার সাফল্য কাজে লাগিয়ে উচ্চফলনশীল পাটের আঁশ উৎপাদন এবং পাটের ব্যাগ, বস্ত্র, কাগজ ও অন্যান্য আকর্ষণীয় হস্তশিল্প তৈরির মাধ্যমে বহুমুখী রফতানি বাজার সৃষ্টি হচ্ছে।
    অতএব, যথাযথ সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, পণ্যের বহুমুখীকরণ ও বেসরকারি বিনিয়োগের ফলে বাংলাদেশের পাট শিল্প পুনরায় তার সোনালী ঐতিহ্য ও হারানো গৌরব ফিরে পেতে সক্ষম হবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন